নাড়ির টানে বাড়িমুখী মানুষ

image

মুষলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ছোটে ঈদে ঘরমুখো মানুষ। বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে তোলা-সোহরাব আলম

আর মাত্র দুই দিন পরই ঈদুল আজহা। পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে ছুটছেন ঘরমুখী লাখো মানুষ। রাজধানী থেকে কেউ ট্রেন, কেউ বাস আবার কেউ লঞ্চে বাড়ি ফিরছেন। ঈদের আগে শুক্র ও শনিবার (৯ ও ১০ আগস্ট) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) ট্রেনস্টেশন, লঞ্চ ও বাস টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। তবে বৃষ্টি আর যানজটে ভোগান্তিতে পড়তে হয় ঘরমুখো যাত্রীদের। সব কষ্ট উপেক্ষা করে বাড়ি ফিরতে পারার আনন্দ ছিল তাদের চোখ-মুখে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন, গাবতলী, কল্যাণপুর, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাসস্টান্ড এবং রাজধানীর একমাত্র লঞ্চ টার্মিনাল সদরঘাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি স্পটেই হাজার হাজার মানুষ বাড়ি ফেরার জন্য অপেক্ষমাণ। ঈদুল আজহার ছুটি সামনে রেখে সপ্তাহের শেষ দিন সকাল থেকেই বিভিন্ন যানবাহনে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়ে গেছেন অনেকেই।

সকাল থেকে রাজধানীর কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশনে ঘরমুখো যাত্রীদের ঢল নামে। সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি আর রাস্তার জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি বাড়ে। ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে দুর্ভোগ আরও বাড়ে। অন্যান্য গন্তব্যের শিডিউলে কিছুটা বিলম্ব থাকলেও উত্তরবঙ্গের ট্রেন ছাড়তে প্রায় ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। বাস টার্মিনালেও রয়েছে যাত্রী চাপ। তবে সব ভোগান্তি উপেক্ষা করে বাস-ট্রেনে উঠতে পেরেই খুশি ঘরমুখো মানুষ। কমলাপুর রেলস্টেশন ঘুরে প্রচুর মানুষের ঢল লক্ষ করা গেছে। নির্দিষ্ট ট্রেন ধরার জন্য হাজারো মানুষ লাইন ধরে ঢুকেছেন স্টেশনে। একেকটা ট্রেন আসতেই হুমড়ি খেয়ে পড়েছে মানুষের ঢল। ভিড় ঠেলে কে কার আগে উঠবেন, ছিল সে প্রতিযোগিতাও। অধিকাংশ ট্রেন দেরিতে ছাড়ায় পরশুদিনের মতো বৃহস্পতিবারও বিড়ম্বনায় পড়েন অনেক যাত্রী। কমলাপুর থেকেই অধিকাংশ ট্রেনবোঝাই হয়ে যাওয়ায় বিমানবন্দর থেকে ওঠা যাত্রীদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে।

সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, দিনের প্রথম ট্রেন রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস কমলাপুর ছেড়েছে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা পর। নীলফামারীগামী নীলসাগর, রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস ও খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসের কোনটিই ছাড়তে পারেনি নির্ধারিত সময়ে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে, ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ৫৫টি আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনে ছেড়ে যাবে বৃহস্পতিবার। এসব ট্রেনে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়বেন। ঈদযাত্রায় যাত্রীর চাপ অনেক বেশি থাকায় যাত্রী ওঠানামায় সময় নষ্ট হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

এদিকে রাজধানীর গাবতলী, কল্যাণপুর, সায়েদাবাদসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে প্রচুর মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। গাবতলীতে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা বলছেন, প্রায় প্রতিটি কোম্পানির বাস নির্দিষ্ট সময়ের ২-৪ ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ছে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকাংশে বেড়ে গেছে। জানা গেছে, ছুটির কারণে এবার বেশ আগেভাগেই মানুষ বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন। এবার উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা বিশেষ করে রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, বগুড়াসহ বেশ কয়েকটি জেলা এবং দক্ষিণবঙ্গের খুলনাঞ্চলের রাস্তাঘাট কিছু খারাপ। ফলে গাড়ি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালেও ছিল বাড়ি ফেরা মানুষের উপচেপড়া ভিড়। পন্টুনে লঞ্চ ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীদের ওঠার জন্য হুড়াহুড়ি লেগে যায়। পুলিশের উপস্থিতিইে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকা নদীবন্দর ত্যাগ করছে অনেক লঞ্চ। সদরঘাট থেকে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, হুলারহাট ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন নৌরুটে চলছে লঞ্চ। বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, ঈদে ঘরমুখী মানুষের ভিড় বেশ কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হয়ে গেছে। এ জন্য ভোর সাড়ে ৫টা থেকেই একটির পর একটি লঞ্চ ছেড়ে যাচ্ছে। তবে রাতে বেশিসংখ্যক লঞ্চ ছাড়ে।