পাঁচ মিনিটের আগুনে কমলের স্বপ্ন ছাই

image

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পুড়ে যাওয়া পান বরজে কান্নায় ভেঙে পড়েন পানচাষি কমল রায়-সংবাদ

‘ধার-দেনার মাধ্যমে বছরে ২০ হাজার টাকার চুক্তিতে ২ বিঘা বর্গা জমিতে পানের বরজ করেছিলাম। খেতে পানও হয়েছিল ভালো। বর্তমানে ভালো দামের বাজারে কয়েক চালান পান বিক্রিও করেছি। মনে করেছিলাম সমস্ত দায়-দেনা পরিশোধ শেষে বেশকিছু টাকা লাভ আসবে। কিন্ত আগুনে আমার সব স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এখন কী করে সংসারে খেয়ে বেঁচে থাকব’ এমন কথা বলছেন আর ভস্মিভূত পান বরজের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নাকাটি করছেন পানচাষি কমল রায়। ১৩ মে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় এ ঘটনা ঘটে।

ক্ষতিগ্রস্ত পানচাষি কমল রায়ের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের মেগুরখির্দ্দা গ্রামে। ওয়েব ফাউন্ডেশন নামের একটি এনজিও সংগঠন ওই গ্রামের মাঠে গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় প্লাস্টিক পাইপ থেকে আগুন লেগে বর্গাচাষি কমল রায়ের দু’বিঘা জমির পান বরজ সম্পূর্ণ পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ওই কৃষকের দাবি, আগুনের ঘটনায় তার ১৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ওই গ্রামের বাসিন্দা সূজাউদ্দীন মাহমুদ পিয়াল জানান, ওয়েব ফাউন্ডেশন নামের এনজিও সংগঠন তাদের গ্রামের কৃষক আবদুল কুদ্দুসের খেতে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ করছিল। এ সময় প্লাস্টিকের পাইপ জোড়া লাগাতে মিস্ত্রিরা বরজের কাছে বসে পাইপের একপাশে আগুন ধরিয়ে আগুনসহ ছালার বস্তা বরজের পাশেই রাখে। সেখান থেকে বরজের একপাশে আগুন লেগে যায়। এরপর প্রচ- বাতাসে আগুনের লেলিহান শিখা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার মানুষ সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিয়ে নিজেরা আগুন নেভাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ৫/৭ মিনিটের মধ্যে পানের বরজটি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, এ সময় বরজের পাশের জমির মালিক আলাউদ্দীন ও জাহিদুল ইসলামের কমপক্ষে ৫০টি মেহগনি গাছও পুড়ে গেছে।

পানচাষি কমল কান্তি রায় জানান, তার গ্রামের আবুল হোসেন মোল্যার প্রতি বিঘা জমি বছরে ২০ হাজার টাকার চুক্তিতে ২ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে ধার-দেনার মাধ্যমে পানের বরজ করেছিলেন। খেতে পানও হয়েছিল ভালো। আশা ছিল বছর শেষে সব ধার-দেনা পরিশোধ করে বেশকিছু লাভ করতে পারবেন। কিন্ত আগুনে তার সব শেষ হয়ে গেছে। এ কথা বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ২ বিঘা জমির একটি বরজ করতে তার কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়াও বর্তমান বাজার মূল্য অনুসারে বরজে কমপক্ষে ৯ থেকে ১০ লাখ টাকার পান ছিল। সব মিলিয়ে তিনি কমপক্ষে ১৫ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখন কী করে সংসার চালাবেন এ কথা বলতে বলতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন কৃষক কমল।আগুনে বরজ পুড়ে এমন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এলাকার লোকজন ওয়েব ফাউন্ডেশনের নলকূপ স্থাপনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সব শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে অবরোধ করে কাজ বন্ধ রেখেছে। এলাবাসীর দাবি বিষয়টি নিয়ে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কাজ বন্ধ থাকবে।

এ গভীর নলকূপ স্থাপনের ঠিকাদার আবদুর রাজ্জাক জানান, তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তবে বিষয়টি শুনেছেন-তার নিয়ন্ত্রণাধীন নলকূপ স্থাপন করা শ্রমিকদের কাজের সময় বরজে আগুন লেগেছে। তিনি শুনেছেন ওই কৃষক চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে কী করা যায় তা ঘটনাস্থলে এসে দেখবেন বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম জানান, উপজেলার মেগুরখির্দ্দা গ্রামের পানচাষি কমল রায়ের পান বরজ তিনি দেখেছেন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ না করেই তিনি বলেন, একজন কৃষকের ভরা খেত নষ্ট হয়ে গেলে তার আর কিছু থাকে না। এরপরও কমল রায় একজন বর্গাচাষি। ফলে তার আপাতত আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে উঠার ব্যবস্থা করা বেশি জরুরি।