বাংলার হারানো স্বাধীনতা আ’লীগই ফিরিয়ে এনেছে : প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় শেখ হাসিনা

image

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন বাংলা স্বাধীনতা হারিয়েছিল। নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা পরাজিত হয়েছিলেন মীর জাফরের ষড়যন্ত্রে। সেই মীর জাফর নামটি বাঙালির মুখে ‘গালি’ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। এরপর ২০০ বছর ব্রিটিশ বেনিয়ারা শাসন করেছে এই ভূখ-। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা অত্যাচার-নির্যাতনের পরও দলটি ভেঙে পড়েনি। বাংলার হারানো স্বাধীনতাকে আওয়ামী লীগই আবার ফিরিয়ে এনেছে। ২৪ জুন সোমবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পাকিস্তানিরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়লে জানা যায়, আমাদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। তিনি অত্যাচার-নির্যাতনে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় কোথায় কোথায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঘরবাড়ি আছে, তা খুঁজে খুঁজে পুড়িয়ে দেয়া হয়। স্বাধীনতার পরও অত্যাচার-নির্যাতন থেমে থাকেনি। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর আবারও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন নেমে আসে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের জন্য কাজ করে বলেই আওয়ামী লীগের ওপর বারবার আঘাত এসেছে। তবে শত অত্যাচার-নির্যাতনেও আওয়ামী লীগ কখনও ভেঙে পড়েনি। যত বেশি আঘাত এসেছে, আওয়ামী লীগ তত বেশি শক্তিশালী হয়েছে। হীরা যেমন যত বেশি কাটা হয়, তত বেশি উজ্জ্বল হয়- আওয়ামী লীগও তেমন। আর এর পেছনে রয়েছে আওয়ামী লীগের মানুষের জন্য কর্তব্যবোধ, দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা, ত্যাগ-তিতিক্ষা। এ কারণেই আওয়ামী লীগ ৭০ বছর ধরে টিকে আছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন করে এ দেশের মানুষকে অর্থনৈতিক মুক্তি দিতে কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ যেন উন্নত জীবন পায়, এ লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ কাজ করছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন অনুযায়ী এখন মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ আওয়ামী লীগ কাজ করছে। আওয়ামী লীগ সরকার ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতায় থাকার কারণে এ দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ৯০৯ ডলার। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ। অর্জনের ইতিহাসে আওয়ামী লীগ এখন উজ্জ্বল।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা নেতাকর্মীদের জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু বলে গেছেন, মহৎ অর্জনের জন্য মহান ত্যাগের প্রয়োজন। তাই সবাইকে বড় অর্জনের জন্য আত্মত্যাগ করতে হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আমরা জনগণের জন্য কাজ করি। আমাদের দল ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের মানুষ অন্তত কিছু পায়। বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসার কারণেই বারবার নির্যাতনের পরও শক্তিশালী হয়েছে আওয়ামী লীগ।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কোন অহমিকা করব না। মাটির সঙ্গে মানুষের সঙ্গে মিশে দেশের মানুষের জন্য কাজ করব। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণমানুষের দল। এই অবস্থা ধরে রাখার জন্য দলকে শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্ববান জানান তিনি।

সভায় বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিম-লীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম ও মোহাম্মদ নাসিম, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসনাত, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ সভাপতি একেএম রহমত উল্লাহ প্রমুখ। এ সময় মঞ্চে দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভা সঞ্চালনা করেন দলের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও উপ-প্রচার এবং প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।

বাংলাদেশের খেলার কথা নেতাকর্মীদের স্মরণ করিয়ে দিলেন শেখ হাসিনা : বঙ্গবন্ধুকন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভামঞ্চে উঠেই দলের সভাপতিম-লীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা দলীয় সভাপতিকে স্বাগত জানিয়ে স্লোগানে স্লোগানে গোটা মিলনায়তন মুখর করে তোলেন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মাইকে স্লোগান বন্ধের নির্দেশ দিয়েও নেতাকর্মীদের থামাতে পারেননি। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সবাইকে একটু চুপ থাকার জন্য অনুরোধ করছি। আমরা ৫টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে চাই। আজ (বাংলাদেশের) ক্রিকেট খেলা আছে। মনে আছে? খেলা দেখতে হবে। তাহলে একদম চুপ। তিনি বলেন, বক্তাদের বলব একটু শর্ট (সংক্ষিপ্ত) বক্তব্য দিতে। যদিও আমাদের পার্লামেন্টে (সংসদে) যেতে হবে। সেখানেই খেলা দেখব। প্রধানমন্ত্রী খেলার কথা বলতেই গোটা মিলনায়নতন আনন্দে, হর্ষধ্বনিতে হাত নেড়ে, মাথা নেড়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশমতো স্লোগান থেমে শান্ত হয়ে যায়।