অর্থাভাবে চিকিৎসা বঞ্চিত মেধাবী বলহরি শীল ২৫ বছর যাবত রশিবন্দী

image

দশমিনা (পটুয়াখালী) : গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা বলহরি শীল-সংবাদ

পুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের হতদরিদ্র রতি কান্ত শীলের ছোট ছেলে বলহরি শীল দীর্ঘ ২৫ বছর যাবত রশিতে বন্দী অবস্থায় জীবনযাপন করছে। ৯ বছর বয়সে হঠাৎ করে মানসিক রোগের সৃষ্টি হয়। তারপর থেকেই রশি দিয়ে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হচ্ছে। শীতে কাঁপছে আর হাউমাউ করে কিছু বলার চেষ্টা করছে। স্থানীয়রা জানান, দরিদ্র পরিবারের ছোট ছেলে বলহরি অনেক বছর থেকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। গরিব পরিবার তাই ভাল চিকিৎসা করাতে পারছে না। সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে এভাবেই গাছের সঙ্গে কাটছে বলহরীর জীবন। স্কুলে ভালো ছাত্রও ছিল। কি থেকে কি হয়ে গেছে কেউ যানে না। তবে দরিদ্র পরিবার হিসেবে চিকিৎসা করানো হয়। সকালে গাছের সঙ্গে আর রাতে জড়াজীর্ণ বসতঘরের খুটির সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখা হয়। আবার মাঝে মাঝে শিকলেও বাধা হয়। দিনে এক থেকে দুইবার খাবার দেয়া হয়। বাঁধা অবস্থায় খাওয়ানোসহ সব কিছু করানো হয়। মানুষ দেখলে বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকেন। মাঝে মধ্যে আবার উত্তেজিতও হয়ে ওঠে।

বলহরির মা জানান, ছোট বয়সে ভাল ছিল। আমাদের সপ্ন ছিল বলহরিকে পড়ালেখা করাইয়া চাকরিতে দ্যাবো। আমাদের ভাগ্যের নির্মম পরিহাস ৯ বছর বয়স থেকে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। বরিশাল নিয়া মানসিক ডাক্তার দেখাইছি। কয়েকদিন ভাল আছিল আবার আগের মতো হয়ে গেছে। আর খালা ডাক্তার দেখাইতে পারি নাই টাকার অভাবে। এভাবেই ছেলেকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখি। এই বিষয়ে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন আকন জানান, পরিষদের মাধ্যমে যতটুকু সাহায্য সহযোগিতা করা সম্ভব তা আমি করে যাচ্ছি। আর তাকে গাছের সঙ্গে বেধে রাখার কথা আমি শুনিনি। তবে বিষয়টি অমানবিক বলে মনে হয়।