আম উৎপাদনে শীর্ষে নওগাঁ

image

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাকে ছাড়িয়ে আম উৎপাদনে শীর্ষে এখন ‘নওগাঁ’। চলতি মৌসুমে নওগাঁয় চার লাখ ২০ হাজার মেট্রিকটন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা থেকে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার আম কেনা-বেচা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ‘আমের রাজধানী’ হিসেবে নওগাঁ জেলা পরিচিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

চলতি বছরে নওগাঁয় ১১টি উপজেলায় ২৪ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ছয় হাজার হেক্টর বেশি। আগামীতেও বরেন্দ্র ভূমি হিসেবে পরিচিত পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতপুর ও পতœীতলায় হাজার হাজার বিঘা জমিতে আম গড়ে উঠার ব্যাপক সম্ভবনা দেখা দিয়েছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছর নওগাঁয় ১৮ হাজার ৬৬৬ হেক্টর জমিতে গোপালভোগ, ল্যাংরা, খিরাশাপাতি, অ¤্রপালি, নাগফজলি, বারি-৪, মল্লিকা, গুটিসহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ করা হয়।

চলতি মৌসুমে বদলগাছীতে ৩৩৫ হেক্টর, পতœীতলায় ৩ হাজার ১৫ হেক্টর, পোরশায় ১০ হাজার, সাপাহারে ৮ হাজার ২৫০, নিয়ামতপুরে এক হাজার, ধামইরহাটে ৬৭০, মহাদেবপুরে ৬২৫, নওগাঁ সদরে ৪৪০ হেক্টর, মান্দায় ৪০০ হেক্টর, আত্রাইয়ে ৩৫ হেক্টর ও রাণীনগরে ৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে।

সরজমিনে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আমের বাম্পার ফলন হলেও করোনাভাইরাসের কারণে অন্য বছরের মতো নওগাঁয় আম চাষিরা আম বাগান আগেই বিক্রি করতে পারেননি। অন্যদিকে আমফানসহ ছোট ৪-৫টি ঝড়ে আমের ক্ষতি হওয়ায় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তাই ছিলেন।

জানা গেছে, জেলার সাপাহার, পোরশা, নিয়ামতপুর ও পতœীতলার আমের কেনাবেচা মূল্য কেন্দ্র সাপাহার। সাপাহারে প্রতি বছর দেড়শ থেকে ২০০ আড়দতঘরের মাধ্যমে শতশত আম ব্যবসায়ী দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসে আম কিনে নিয়ে যান।

নওগাঁ কৃষি বিভাগের সূত্রে জেলায় আমফানসহ কয়েকটি ছোট ঝড়ে কাঁচা আমের ৫ ভাগ ক্ষতি হলেও সেটি আম পোক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতি পুষিয়ে গেছে। তবে কৃষকরা বলছেন, ঝড়ে তাদের আমের প্রায় ২০ ভাগ ক্ষতি হয়েছে।

নওগাঁ কৃষি বিভাগ ও কৃষকরা বলছেন, ধানসহ অন্যান্য ফসল চাষ করার চেয়ে আম চাষে বেশি লাভ হওয়া ও কম পরিশ্রম লাগায় বরেন্দ্র ভূমি হিসেবে পরিচিত পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতপুর ও পতœীতলার কৃষকরা আম চাষে ঝুঁকে পরেছেন। ফলে প্রতি বছরই হাজার হাজার বিঘা জমিতে আম বাগান গড়ে উঠছে।

চলতি মৌসুমে নওগাঁর আম চাষিরা করোনাভাইরাসের কারণে বিপাকে পারেন। আম চাষিদের নায্য মূল্য কেনা-বেচা নিশ্চিত করতেই খাদ্যমন্ত্রী ও নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাধন চন্দ্র মজুমদার এমপি আম পাকার আগে থেকেই জেলা, পুলিশ, স্থানীয় প্রশাসন, আম চাষি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একাধিকবার ভিডিও কনফারেন্স করেছেন।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, যেসব জায়গা থেকে আম ও লিচু যাবে রাস্তায় কোন ট্রাক যেন প্রতিবন্ধকতার মুখে না পড়ে, সে জন্য দৃষ্টি রাখবে সরকার। অ্যাপসের মাধ্যমে শুধুমাত্র আমের বাজারের সাথে নয়, পরিবহনের সাথেও যোগাযোগ থাকবে। সরকারী পরিবহনের সাথে, এমনকি বন্দরে ট্রাক কাভার্ড ভ্যানের সাথেও যুক্ত থাকবে। এছাড়াও ৮টি সংস্থার সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক এএফএম গোলাম ফারুক হোসেন জানান, ঠাঁঠাঁ বরেন্দ্র ভূমি হিসেবে পরিচিত নওগাঁয় অন্যান্য ফসলের চেয়ে আম চাষে বেশি লাভ হওয়ায় আম চাষ ঝুঁকে পরেছেন। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে পোরশা, সাপাহার, নিয়ামতপুর ও পতœীতলা উপজেলার শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই আম চাষ করে থাকেন। চলতি বছর ২৪ হাজার ৭শ’ ৭৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ করা হয়েছে। যা থেকে নওগাঁয় ৪ লাখ ২০ হাজার মেট্রিকটন আম উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক ড. রবীআহ নূর আহমেদ জানান, ঠাঁঠাঁ বরেন্দ্র ভূমি হিসেবে পরিচিত নওগাঁয় অন্যান্য ফসলের চেয়ে আম চাষে বেশি লাভ হওয়ায় আম চাষ ঝুঁকে পরেছেন।