ঈদে ঘরমুখো মানুষ: কষ্টের চেয়ে আনন্দই যেন বেশি

image

রাত তখন পৌনে দশটা। রাত পোহালেই ঈদ। নগরীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সামনে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়কের এক পাশে দাড়িয়ে আছেন কয়েকজন নারী ও পুরুষ। সাথে রয়েছে ব্যাগপত্র। জানা গেল, পোশাক শ্রমিক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার এই মানুষগুলো যাবেন গাইবান্ধা। অপেক্ষা করছেন বাসের। এখানে কোন বাস স্টপেজ না থাকার কথা বললে বয়স্ক করে একজন বলে উঠলেন, স্ট্যান্ড না থাকলেও আজকে আইবো এইখানে বাস।

কথা হয় ওই ব্যক্তির সাথে। নাম তার মো. মিঠু। কাজ করেন প্রাণ কোম্পানিতে। গ্রাম গাইবান্ধা সদরের ফারাজিপাড়া হলেও বেশ কয়েক বছর যাবৎ নারায়ণগঞ্জের মাসদাইরের গাইবান্ধা বাজার এলাকায় থাকেন তিনি। জানালেন, বাসের জন্য অপেক্ষমান সকলের বাড়ি গাইবান্ধা। জন পঞ্চাশ হবেন তারা। সরকারি পরিবহন বিআরটিসির একটি দোতলা বাসের চালকের সাথে চুক্তি হয়েছে। জন প্রতি ১০০০ টাকা ভাড়ায় গাইবান্ধা।

মিঠু বলেন, বিআরটিসি বাসের লোকজনের সাথে লিংক আছে। তারাই ব্যবস্থা করে দেয়। কাইটা-ছিড়ড়া ওরাও কিছু পায়। অন্য সময় ভাড়া লাগে ৪০০ টাকা। ঈদের সিজনে ভাড়া তো বেশি হইবোই। এখান থেকে কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও পর্যন্ত যাওয়া যায়।

রাস্তার বিপরীত পাশে দেখা যায় সারিবদ্ধ তিনটি ট্রাক। রাস্তা পার হওয়ার সাথে সাথে যাত্রীবোঝাই একটি ট্রাক ছেড়ে গেল। আরেকটি ট্রাকে উঠেছেন কয়েকজন যুবক। পাশেই দাড়িয়ে আছেন কয়েকজন নারী। মানুষের ভিড়ে তারা উঠতে পারছেন না। রিনা নামে এক নারী বলে উঠলেন, গাড়িতেই উঠতে পারতেছি না। এই রকম হইলে কী আর যাওন যায়?

ট্রাক চালক শহিদুল ইসলাম বলেন, ১৪ হাজার টাকায় এই ট্রাক ভাড়া করেছে একজন। ৪০ জন যাত্রীকে নিয়ে যেতে হবে গাইবান্ধা।

ছোট ভাইকে ট্রাকে উঠিয়ে দিয়ে রুবেল বলেন, এখানে কাজ থাকার কারণে আমি যাচ্ছি না। ছোট ভাই যাচ্ছে। গাইবান্ধার পলাশবাড়ী যেতে ৫০০ টাকা ভাড়া। কষ্ট হইবো একটু। কিন্তু বাসের ভাড়া আরও তিনগুণ।

চোখে মুখে চিন্তার ছাপ নিয়ে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে আছেন সখিনা ও রুবি। ফতুল্লার বিসিক শিল্পনগরীর রপ্তানীমুখী একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন তারা। ২২০০ টাকায় টিআর ট্রাভেলস্ নামে একটি যাত্রীবাহী বাসের দু’টি টিকেট কেটেছেন। সাড়ে আটটায় বাস আসার কথা থাকলেও তখন বাজে পৌনে দশটা। গাড়ি না আসায় চিন্তিত দেখা যায় তাদের।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এক সিট খালি রেখে যাত্রী তোলার কথা থাকলেও খুব কম পরিবহনই তা মানছে। সরকারি পরিবহন বিআরটিসির একটি বাসে দেখা যায়, স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। কোন সিটি খালি রাখার বিষয় নেই সেখানে। করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি থাকলেও বাড়ি ফেরার তাড়া রয়েছে যাত্রীদের। সুযোগ নিয়েছে চালকরা।

ওই বাসের যাত্রী মনির হোসেন বলেন, করোনার কারণে রোজারসম দ্যাশোত যাতি পারি নাই। মাইয়াডা কান্দোন লইছে। এই ঈদোত না গেলে বেজায় রাগ হইবো বইলা ফোনে কইছে। তিন ডাবল ভাড়া দিয়ে যাওন লাগতেছে। তয় ম্যালা দিন পর দ্যাশোত যামু, ভালাই লাগতাছে।’

পঞ্চবটি থেকে ইজিবাইকে চাষাঢ়ায় এসেছেন মোহাম্মদ সালমান, যাবেন নওগাঁ। শ্যামলী পরিবহনের টিকেট কেটেছেন ১৫০০ টাকা দিয়ে। অন্য সময় ৫৫০ টাকায় যেতে পারতেন বলে জানালেন তিনি। সালমান বলেন, ‘করোনার কারণে এক সিট খালি নিবে বইলা টাকা বেশি নিছে। আগের ঈদে গ্রামে যাইনি। এবার মায়ের অনুরোধে আর থাকতে পারলাম না।

আর্মি মার্কেটের সামনে বাসের জন্য স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে অপেক্ষা করছেন আসাদুল। জন প্রতি ভাড়া লাগছে ১৪০০ টাকা। আসাদুল বলেন, আজকেই গার্মেন্টস থেকে ছুটি পেয়ে টিকেট কাটছি। যাবো লালমনিরহাট।

ভাই ভাই পরিবহনের কাউন্টার খুঁজছেন নূর মোহাম্মদ। শহরে রিকশা চালান তিনি। থাকেন ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকায়। ঈদের ছুটিতে শহরে মানুষ থাকবে কম তাই ভাবলেন স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে ঘুরে আসবেন গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায়।

গত বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর চাষাঢ়া থেকে শিবু মার্কেট হয়ে সাইনবোর্ড পর্যন্ত দেখা গেছে একই চিত্র। প্রতিটি সড়কের পাশে বাড়িমুখো মানুষের ভিড়। বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, ভাড়া গাড়ি, ট্রাক, পিকআপ যে যেভাবে পারছে চেপে বসছেন কোন এক পরিবহনে। শুধু সড়কপথেই নয় নাড়ির টানে মানুষ গ্রামমুখী হচ্ছেন নৌপথেও। শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চগুলোতে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়। দাড়ানোর জায়গা পাওয়া যায়নি। করোনার সংক্রমন কিংবা প্রশাসনের নির্দেশনা কোনকিছুতেই আমল নেই যাত্রীদের, তাদের কাছে বাড়ি ফেরাটাই মুখ্য। কেননা এই ইট-পাথরের শহর থেকে বহুদূরে সবুজে ঘেরা গাঁয়ে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন তাদের আপনজন। এই অপেক্ষার কাছে কষ্ট, বাধা, বিপত্তি সবই তুচ্ছ।

চাটখিলে দেড় শতাধিক পরিবার পানিবন্দী

image

৮ মার্চ তিনজন, ৮ আগস্ট ২ লাখ ৫৫ হাজার ১১৩

image

রেলওয়ের অনলাইন টিকিট সংগ্রহে ভোগান্তি

অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রেলওয়ের যাত্রীদের। অনেক সময় টিকিট অনলাইনে ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শেষ হয়ে

সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু

image

চেকপোস্টে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকির নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের

পুলিশের চেকপোস্টগুলোতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আরও তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল..

বাঙ্গালা কমিউনিটি ডেভেলাপমেন্ট ফাউন্ডেশনের বস্ত্র ও মাস্ক বিতরণ

image

গজারিয়ায় বঙ্গমাতার জন্মদিনে নদী ভাঙ্গণ এলাকায় অসহায়দের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

image

‘এক’ হাতে সংসারের হাল

image

নারায়ণগঞ্জে ট্রাক-সিএনজি মুখোমুখি সংঘর্ষে ২জন নিহত

image