উল্লাপাড়ায় অনুমোদনহীনভাবে গড়ে উঠছে বহুতল ভবন বাড়াচ্ছে ঝুঁকি : ঘুমিয়ে প্রশাসন

image

সিরাজগঞ্জ : উল্লাপাড়ায় অনুমোদনহীন ভবন-সংবাদ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় অনুমোদন না নিয়ে বলয় তৈরি না করেই নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন। স্থানীয়রা বলছেন, অনুমোদনহীনভাবে উল্লাপাড়ায় অন্তত ১০টি বহুতল ভবন নির্মিত হচ্ছে। যাদের অনুমোদনের কাগজপত্র নেই পৌর কার্যালয়ে। আর পৌর মেয়র বলছেন কিছু ভবন মালিক নিয়ম না মেনে বহুতল ভবন তৈরি করছেন। এদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়ার হবে। আর এমন অনুমোদনহীন ভবনের কারণে যে কোন ধরনের বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

উল্লাপাড়া উপজেলা প্রশাসন সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার এলাকা শ্যামলী পাড়াতে ঢুকতেই দেখা মেলে ১১ তলার খান প্লাজা নামের একটি বহুতল ভবন। শুধু খান প্লাজাই নয় গাউসিয়া মার্কেটসহ পৌর এলাকায় এমন অনুমোদন বিহীন ভবনের সংখ্যা প্রায় ১০টির অধিক। বহুতল ভবনসহ ছোটবড় এ ধরনের বহু ভবন গড়ে উঠেছে। গড়ে উঠা ভবনের নেই কোন নকশা। ভবন তৈরিতে উল্লাপাড়া পৌরসভা থেকে নকশার অনুমাদন নেয়া হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালীরা এজন্য কোন প্রয়োজনই মনে করছে না। খেয়াল খুশিমতে নির্মাণ করছেন ভবন। ফলে ভবনের কোন মান বজায় থাকছে না। অবৈধভাবে ভবন গড়ে ওঠায় উল্লাপাড়া পৌরসভার সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নে আগামীতে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এতে এলাকার সাধারণ নাগরিকের দুর্ভোগ বাড়বে। আরও জানা যায়, ভবন নির্মাণে সংশ্লিøষ্ট কোন নিয়ম নীতিই মানা হচ্ছেনা। নেই আপদকালীন বিকল্প প্রশস্থ সিড়ি। নেই অগ্নি নির্বাপক এবং বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা রোধ ব্যবস্থা। উল্লাপাড়া পৌরসভার দুর্বল প্রশাসনিক অদক্ষতা, দুর্বলতা কারণেই এসব বহুতল ভবন তৈরিতে সহায়ক হচ্ছে। পৌরসভার অনুমোদন না নিয়েই এসব ভবন গড়ে উঠলেও পৌর কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার বাধা দিচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের এমন ভূমিকায় তাই সাধারণ মানুষেরও মধ্যে রয়েছে নানা আলোচনা সমোলোচনা। উল্লাপাড়া খান প্লাজার উদ্যোক্তা মঞ্জুর কাদের রতন খান জানান, ফ্ল্যাটের মালিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও পরে তা আর হয়ে উঠেনি। যে কারণে অনিশ্চয়তা মধ্যে রয়েছে এ ভবন। তাছাড়া ভবন নির্মাণের সময় ফায়ার এক্সিট প্লানটি ছিল না। পরোবর্তীতে ফ্ল্যাটের মালিকদের অনিচ্ছার কারনে তা আর করা হয়নি।

খান প্লাজার ১৩টি ফ্ল্যাটের ক্রেতা জাহিদুল ইসলাম জানান, আমাদের সকল অনুমোদনই রয়েছে। এই ভবন নির্মাণ শেষে সকল দপ্তরকে সকল কাগজপত্র দেখানো হবে। তবে কেন ভবন তৈরি আগে এসব কাগজ দেখানো হবে না এ প্রশ্নে তিনি নিশ্চুপ থাকেন।

বাণিজ্যিকভাবে অবৈধভাবে গড়ে তোলা এসব ভবনে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। তাই স্থানীয় মানুষ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবৈধ এসব ভবনগুলোর বিষয়ে দ্রুত নজর দেবার দাবি তুলেছেন।

এত অনিয়মের পরও কিভাব গড়ে উঠছে বহুতল ভবন জানতে চাইলে উল্লাপাড়া পৌরসভার মেয়র মো. নজরুল ইসলাম. জানান, নেই অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা, নেই গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা আর নেই সঠিক নকশা বহির্ভূতভাবে সকল অনিয়মকে নিয়ম করে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় বহুতল ভবন তৈরি হচ্ছে বেশ কয়েকটি। ভবনগুলো অবৈধভাবে গড়ে তোলা হচ্ছে উল্লেখ করে স্থানীয় পৌরসভার মেয়র জানালেন, স্থানীয় পৌরসভার সর্বোচ্চ ৭ তলা ভবন অনুমোদন দেয়ার এখতিয়ার রয়েছে। কিন্তু ভবন মালিকরা অনুমোদনের আগেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন। আর গড়ছেন বহুতলের ইমারত।

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুত-১. উল্লাপাড়ার জি.এম. মো. সোলায়মান মিয়া জানান, এমন ভবনের একটি খান প্লাজা নির্মাণকালে ৪টি বিদ্যুত সংযোগটি নেয়া হয় নির্মাণ কাজ চালানোর জন্য। পরে তা বিদ্যুৎ বিভাগের অগোচরে অবৈধভাবে বসবাসকারীরা ব্যবহার শুরু করেন। খুব শীঘ্রই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথাও জানালেন পল্লী বিদ্যুতের জিএম। উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নাদির হোসেন জানান, উল্লাপাড়ায় গড়ে উঠা ভবন পরিদর্শন করে অগ্নি নির্বাপণের জন্য কিছু নির্দেশনা দিলেও ভবন মালিকরা তা করেননি। পাশাপাশি নতুন যে ভবনগুলো হচ্ছে সেগুলোরও আর ফায়ার সার্ভিসের কোন অনুমোদনও নেননি ভবন মালিকরা। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নির্মাণাধীন একটি ভবনের বাসিন্দারা জানালেন, এখানকার কোন ভবনেই কোন দুর্ঘটনা ঘটলে নিরাপদে বের হবার কোন ব্যবস্থা নেই। তবে এখন সারাদেশে আগুনের ভয়াবহতা দেখে তারাও ভীতও হয়ে পড়েছেন।