এ্যাম্বুলেন্স-ই বাকি ছিলো!!

image

পুলিশ ও র‌্যাবের কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও মরণ নেশা ইয়াবার চালান ঢাকায় ঢুকছে। কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে সংঘবদ্ধ চোরাচালানী চক্র পেটে ও পায়ুপথসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবার প্যাকেট লুকিয়ে কৌশলে ঢাকাগামী বিমানে উঠে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ইয়াবার চালান নিয়ে নামার পর বিমান বন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রাপ্ত আমর্ড পুলিশ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন খবরের ভিত্তিতে মাদক চোরাচালানীকে আটক করে। পরে তার শরীর তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইয়াবার প্যাকেট উদ্ধার করে। এ ভাবে বিভিন্ন সময় আমর্ড পুলিশ যাত্রীর দেহ তল্লাশি করে প্রায় দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার করছে। এ সব ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৮০জনকে গ্রেফতার করেছে।

অপর দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আগাম তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিনব কৌশলে আনা ইয়াবার চালান আটক করছে। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পলাতক অন্যদেরকে ধরতে চলছে আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযান। সর্বশেষ রাজধানীর খিলগায়ে ইয়াবার চালানসহ এ্যাম্বুলেন্স আটক করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩ মাদক চোরাচালানীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্ব প্রাপ্ত আমর্ড পুলিশের এডিশনার এসপি আলমগীর হোসেন বলেন, গত এক বছর ৩ মাসে বিমানযোগে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ইয়াবার চালান আনার সময় ৮০জন মাদক চোরাচালানীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের পায়ুপথসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষা করে ১ লাখ ৪০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সব মাদক চোরাচালানীদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় পৃথক ৬০টি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। মাদক বহনকারি ব্যক্তিরা পায়ু পথসহ বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে ইয়াবা বহন করে। যা সহজে কক্সবাজার বিমানবন্দরে ধরা না পড়লেও শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির কারনে মাদক চোরাচালানী চক্র ধরা পড়ছে। এছাড়াও আমর্ড পুলিশের নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য কাজে লাগিয়ে অপরাধীকে শনাক্ত করা হয়।

বিমান বন্দরের আইন শৃংখলা বাহিনী থেকে জানা গেছে, ইয়াবা বহনকারি চক্র টাকার বিনিময়ে ৫শ থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত ইয়াবা খেজুরের মত প্যাকেট করে পেটের ভেতর লুকিয়ে বিমানযোগে ঢাকায় নিয়ে আসে। প্রতিটি প্যাকেটের মধ্যে আদ্রতা রোদক বা ইয়াবার ট্যাবেট ১২ থেকে ১৩ ঘন্টা পেটে থাকলেও যাতে গলে না যায় তার জন্য বিশেষ ধরনের ওষুধ সেবন করে। কোন কোন চালানের প্যাকেটে ৫০টি ট্যাবলেট থাকে। আবার স্বামী-স্ত্রী ,কখনো দেবর ভাবী সেজে শরীরে লুকিয়ে ইয়াবার চালান আনে। আবার পায়ূ পথে এক ধরনের ছোট পাইপ ব্যবহার করে তার ভেতে র ইয়াবার প্যাকেট ঢুকিয়ে বিমানযোগে ঢাকায় আনে। ইয়াবার চালান বহরে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করা হয়। ইয়াবা বহনকারি ও মালিক বিমানযোগে ঢাকায় ইয়াবার চালান আনসার সময় বিমান বন্দরে ধরা পড়েছে।

প্রতিটি ইয়াবার চালান বিমান যোগে আনার জন্য বহনকারিকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা দেয়া হয়। অনেক সময় নানা অপকর্মে জড়িত মহিলাদেরকে মাদক বহনে ব্যবহার করা হয়। তারা শরীরের স্পর্শ কাতরসহ বিভিন্ন অংশে ইয়াবার প্যাকেট ঢুকিয়ে বিমানযোগে ঢাকায় আনে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা নারীও আটক হয়েছে। ইয়াবা যাতে পেটের ভেতর ভেঙ্গে না যায় তার জন্য এই পদক্ষেপ নেয়া হয় বলে মাদক চোরাচালানী চক্র আইন শৃংখলা বাহিনীকে জানিয়েছে। এ ভাবে গত ১৫ মাসে বিমান বন্দর আমর্ড পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় লাখ ইয়াবা উদ্ধার করছে।

অভিযোগ রয়েছে,কক্সবাজার বিমান বন্দরে পর্যটক নারী ও পুরুষদের নানা ভাবে দেহ তল্লাশি করা হয়। তারপরও ইয়াবা পাচারকারি চক্র কি ভাবে ইয়াবার চালান নিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টুনী বেদ করে বিমানে উঠে। তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেখানে আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকায় হাত দিয়ে নারীদের শরীর তল্লাশি করে করে নারী নিরাপত্তাকর্মীরা। তারপরও ইয়াবা বহনকারি প্রকৃত পাচারবারি রহস্য জনক কারনে ধরা পড়ছে না?

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখা থেকে জানা গেছে, রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ’র গোয়েন্দা দক্ষিণ বিভাগ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মোঃ আরমান (২৩), মোঃ মিজানুর রহমান শিকদার ওরফে মিজান (২৫) ও মোঃ জান্নাতুল ফেরদৌস আলিফ (২২)। এ সময় তাদের হেফাজত হতে ২০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি এ্যাম্বুলেন্স জব্দ করা হয়। শনিবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে খিলগাও নন্দী পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগেও রাজধানীর মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে আইন শৃংখলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য ইয়াবা বহনের চালান আটক করেছে।

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স নীতি অনুসরণ করে গেল বছর থেকে পুলিশ ,গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাবসহ অন্যান্য আইন শৃংখলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে ইয়াবার চালান উদ্ধার করছে। নদী ও সমুদ্র পথে ইয়াবার চালান উদ্ধার করার পর ইয়াবা পাচারকারি চক্র এখন আকাশ পথ ,সীমান্ত পথ ও রোগী বহনকারি অ্যাম্বুলেন্সকে বেঁচে নিয়েছে। কিন্তু এরপরও ইয়াবার চালান ধরা পড়ছে। নানা চেষ্টার পরও ঢাকার মাদক স্পট গুলোতে এখনো ইয়াবা কেনাবেচ্ াহচ্ছে। দামও বাড়ছে। মাদক ব্যবসায়ীরা অনেক সময় ইয়াবার চালান নিয়ে নিরাপদ রুট ব্যবহার করছে। সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে এখন ইয়াবা আনা হয়। বাঁশের ভেতর,মরিচের ভেতর,তরমুজের ভেতর,বিভিন্ন পণ্যের ভেতর এমনকি প্রাইভেটকার যোগে বা বিভিন্ন পরিবহনের মাধ্যমে মাদকের চালান ঢাকায় আনা হচ্ছে। এখন আকাশ পথকে ব্যবহার করছে। ধরাও পড়ছে।