কামারছড়া বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে লেবু-পান আবাদে

image

কমলগঞ্জ উপজেলার রাজকান্দি রেঞ্জের অধীন কামারছড়া বনাঞ্চলের ভেতরে গাছের ডাল-পালা কেটে নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাষ হচ্ছে লেবু ও পান। বনাঞ্চল থেকে প্রতিনিয়ত চুরি হচ্ছে মূল্যবান গাছ গাছগাছালি। অব্যাহতভাবে গাছ চুরির কারণে বনাঞ্চল প্রায় শূন্য হতে চলেছে। ২০১৮ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মীর মো. বজলুর রহমান বিট কর্মকর্তা হিসেবে কামারছড়া বিটে যোগদান করার পর থেকেই বেড়ে গেছে গাছ চুরি। বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি রাস্তা সংস্কারে বাধা, চাঁদাদাবি, নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও অশালীন আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিট কর্মকর্তা হলেও ভাব দেখান বন বিভাগের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার মতো। প্রাকৃতিক ও সামাজিক বনায়ন থেকে গাছ পাচারের সঙ্গে বিট কর্মকর্তাসহ বন কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বিশাল আয়তনের কামারছড়া বিটের দায়িত্বে আছেন ২ জন বনপ্রহরী, ১ জন বাগান মালি ও ১ জন বিট কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে আগরসহ মূল্যবান অন্যান্য গাছ পাচারের বিষয় বিট কর্মকর্তা অবগত থাকলেও তা প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা নেন না। যে কারণে কোন ধরনের বাধা ছাড়াই প্রতিদিন পাচার হচ্ছে হাজার হাজার টাকা মূল্যের মূল্যবান বৃক্ষরাজি। বিট কর্মকর্তা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সরেজমিন ঘুরে বনাঞ্চলের পাশাপাশি রাজকান্দি, ছনগাঁও,সাংগাইসাবী এলাকাবাসীর সাথে আলাপ করে জানা যায়, বজলুর রহমান কামারছড়া বিটে যোগদান করার পর থেকে নানাভাবে নিরীহ ভিলেজারদের হয়রানি করে আসছেন। ৬-৭ মাস পূর্বে সাংগাইসাবী গ্রামে পল্লী বিদ্যুৎ লাইন সংযোগের সময় এলাকাবাসীর কাছ থেকে প্রায় বত্রিশ হাজার টাকা জোরপূর্বক আদায় করেন। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য কে মনীন্দ্র সিংহ ছনগাঁও থেকে সাংগাইসাবী যাতায়াতের রাস্তায় মাটি ভরাট ও সংস্কার করতে গেলে বিট কর্মকর্তা শ্রমিকদের বাধা দেন। এমনকি বিভিন্ন মাধ্যমে ইউপি সদস্যের কাছে বজলুর রহমান ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। তার দাবি মতো ৫০ হাজার টাকা না দেয়ায় উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দেন বিট কর্মকর্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রামবাসী বলেন, উগ্র মেজাজের অধিকারী বজলুর রহমান খুব ভাব নিয়ে চলাফেরা করেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মাসের অর্ধেক সময় বজলুর রহমান কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই জানান, গাছ চোরদের সুযোগ দিতেই বজলুর রহমান কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তার অনুপস্থিতির সময়ে বেড়ে যায় গাছ পাচার। তার এসব কর্মকা-ের প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানির হুমকি দেন। এছাড়া অশালীন আচরণ করেন স্থানীয়দের সঙ্গে। ২৩৪৬.৪০ একরের কামারছড়া বিটে রয়েছে ৭৭৯.৯৮ একরের সুনছড়া বাঁশ মহাল। এক সময় সেই বাঁশ মহাল ইজারা দিয়ে প্রচুর পরিমাণে রাজস্ব আয় হতো। গত কয়েক বছর থেকে অবাদে বাঁশ পাচারের কারণে এখন পর্যাপ্ত বাঁশ না থাকায় ইজারা হয় না। যে কারণে সরকার প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নিয়ম বহির্ভুতভাবে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরের গাছের ডাল-পালা কেটে স্থানীয় আমির মিয়া, রফিক মিয়া, মাসুক মিয়াসহ আরও কয়েকজন বিট কর্মকর্তাকে উৎকোচ দিয়ে পান ও লেবুর চাষ করেছেন। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে বজলুল রহমানের জ্ঞাতসারে রাস্তা কেটে নালা করে আবার সেই নালার উপর শক্ত কাঠ দিয়ে ট্রাক যোগে গাছ পাচার করা হয়। বন কর্মীদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এভাবে নালার উপর কাঠ দিয়ে গাছ পাচার সম্ভব নয় বলে স্থানীয়রা মনে করেন। অভিযোগ বিষয়ে কামারছড়া বিট কর্মকর্তা মীর মোঃ বজলুর রহমান বলেন, বন বিভাগের জায়গায় রাস্তা নির্মাণে বাধা দেয়ায় ইউপি সদস্য অযথা চাঁদা দাবীর অভিযোগ তুলেছেন। নিয়ম অমান্য করে রাস্তা নির্মান করায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে কমলগঞ্জ থানায় জিডি করা হয়েছে। সকল অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ভাল কাজ করলে শত্রু বাড়বে। বন রক্ষায় তিনি সদা প্রস্তুত। যারা সুযোগ নিতে পারছে না তারাই তার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করছে।