ক্রেডিট কার্ড জালিয়াত চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার

image

গ্রাহকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে অনলাইনে নিয়মিত পণ্য কেনাকাটা করে আসছিল একটি জালিয়াত চক্র। ক্রেডিট কার্ডের পিন নম্বর ও গোপন তথ্য চুরি করে চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে এই জালিয়াতি করছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সিআইডি। ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির সাইবার পুলিশের ডিআইজি মো. শাহ আলম।

অন্যদিকে ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে বিদেশ থেকে দামি পুরস্কার পাঠানোর কথা বলে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাৎ চক্রের ১৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। এদের মধ্যে ১৬ জন নাইজেরিয়ান, দুই বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছে। সিআইডি জানায়, ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি চক্রের গ্রেফতারকৃত চারজন হলো- নিজাম উদ্দিন, রেহানুর হাসান রাশেদ, আনোয়ার পারভেজ ও আল-আমিন। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ২টি ল্যাপটপ, ৮টি মোবাইল ফোন, ১টি হার্ডডিস্ক, বিভিন্ন ব্যাংকের ১৬টি ক্রেডিট কার্ড, ২৬টি স্বর্ণের বাক্সসহ নগদ ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সিআইডির সাইবার পুলিশের ডিআইজি শাহ আলম বলেন, প্রতারক চক্রের গ্রেফতার হওয়া চার সদস্যের মধ্যে নিজাম উদ্দিন, রেহানুর হাসান রাশেদ ও আনোয়ার পারভেজ বিভিন্ন গ্রাহকের আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চুরির সাথে সরাসরি জড়িত ছিল বলে আমরা তথ্য-প্রমাণ পেয়েছি। তারা ক্রেডিট কার্ড হোল্ডারের পিন নম্বরসহ গোপন তথ্য চুরি করত। আর আল আমিন ক্রয় করা পণ্য সংগ্রহের কাজ করত। চালডাল.কম নামে অনলাইন শপের অভিযোগের সূত্র ধরে আমরা এই ঘটনার তদন্ত শুরু করি। তদন্তকালে আমরা জানতে পারি, এই চক্রটি বিভিন্ন ব্যক্তির আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে নিয়মিত, আড়ংসহ বিভিন্ন অনলাইন শপ থেকে পণ্য কিনতো। এই লেনদেনের ব্যাপারটি ক্রেডিট কার্ডের প্রকৃত মালিক বুঝতেও পারতেন না। এ বিষয়ে গত ৭ জুলাই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রাজধানীর বনানী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলায় চারজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আসামিরা দোষ স্বীকার করে ইতোমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে বলেও জানান ডিআইজি শাহ আলম।

পুরস্কার পাঠানোর কথা বলে প্রতারণা- ফেসবুকের মাধ্যমে বন্ধুত্ব হওয়ার পর পুরস্কার পাঠানোর কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল একটি বিদেশি চক্র। তাদের এ কাজে বাংলাদেশি কিছু অসাধু নাগরিক সহায়তা করে আসছিল। সিআইডি সূত্র জানায়, বাংলাদেশি এক ব্যক্তির সঙ্গে বিদেশি এক ব্যক্তির ফেসবুকে পরিচয় হয়। ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপে বেশ কয়েকদিন কথা বলার পর বিদেশি বন্ধু তার বাংলাদেশি বন্ধুকে বলে, তার জন্য কিছু দামি গিফট পাঠাবে। বিনিময়ে তাকে কিছু দিতে হবে না। এর কিছুদিন পর বাংলাদেশি একটি নম্বর থেকে কল আসে, ওই ব্যক্তি নিজেকে কাস্টমস কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলে, আপনার বিদেশি বন্ধু আপনার জন্য আইফোন, আইপ্যাড, ডলারসহ কিছু দামি গিফট পাঠিয়েছে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমস ডিউটি না দিয়েই এই গিফটের প্যাকেট চলে এসেছে। তাই গিফটের প্যাকেট ছাড়াতে তাকে ৪৫ হাজার টাকা দিতে হবে। আবার কয়েকদিন পর কল দিয়ে বলা হয়, তাকে আরও আড়াই লাখ টাকা দিতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন ও মানিলন্ডারিং আইনে মামলা হবে। এভাবে কয়েক দফায় টাকা নিয়ে নম্বর বন্ধ করে দেয় কথিত কাস্টমস কর্মকর্তা। অন্যদিকে বিদেশি বন্ধুকেও আর ফেসবুকে, হোয়াটসঅ্যাপে না পেয়ে প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারেন। এরুপ এক ব্যক্তির অভিযোগ পেয়ে সিআইডি তদন্তে নামে। তদন্তে নেমে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুই বাংলাদেশি ও এক নাইজেরিয়ানকে গ্রেফতার করা হয়।

পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পল্লবী থেকে আরও ১৫ নাইজেরিয়ানকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার দুই বাংলাদেশি হলো- ইমরান হোসেন ও হারুন-অর-রশিদ ও ১৬ নাইরেজীয় হলো- সিমিজি ওয়েমা, আজিনা চুকুওয়াকু, সিমুবি এটাস গাবিরিয়েল, কেনুসুবু স্ট্যানলি এমবা, ওয়াকি সেলেসটাইন আবুচি, ওজুজুবু স্যামুয়েল ইকিনি, ওফুচুবু টসিবু ওহিন্নারা, ওবুকা সানডে ইমমানুয়েল, এনডুম্মাডু চিনিডা, ইনুগবালাইক অ্যান্থনি ওকাবিডিরি, চিবুফি ইজুনি ওভিনওয়ানি, উজুচুকুবা ডার্লিংটন চিকিলু, কেনিচুকুবা চালর্স অনবাওচু, ওজোরমাগবো হেনরি ইজিকি, চিবুজুর এনওনেটি ভিক্টর এবং এনোরুকা জিনিকা ফ্রান্সিস। তাদের কাছে থাকা ৭ লাখ ২২ হাজার টাকা, ২৯ হাজার নাইজেরীয় মুদ্রা, ২৩টি মোবাইল ফোন, ১৫টি পাসপোর্ট ছাড়াও বেশকিছু পোশাক জব্দ করা হয়েছে।