গৃহশ্রমিক নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি

গৃহশ্রমিকদের ওপর সহিংসতা বন্ধ, আইনি সুরক্ষাসহ নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ক্ষতিগ্রস্তদের সুচিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ট্রেড ইউনিয়ন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। শনিবার (২১ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ দাবি জানানো হয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্ট্যাডিজের (বিলস) ব্যবস্থাপনায় গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্ক এর উদ্যোগে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দেশে এবং দেশের বাইরে গৃহশ্রমিকরা প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এত বিপুল সংখ্যক গৃহশ্রমিক থাকা সত্ত্বেও তারা শ্রম আইনের আওতাভুক্ত নয়, এমনকি আইএলও কনভেনশন-১৮৯ অনুসমর্থন করা রাষ্ট্রের তালিকায়ও নেই বাংলাদেশের নাম। ফলে একদিকে যেমন তারা দেশেই কর্মক্ষেত্রে আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে দেশের বাইরে তাদের যেকোন সংকটে দেশের পক্ষ থেকেও কোন ভূমিকা রাখা সম্ভব হচ্ছে না। তারা আরও বলেন, দেশে-বিদেশে হাজারও গৃহশ্রমিক দুর্বিষহ সময় পার করছেন; যারা বিভিন্ন সময় নির্যাতন ও হত্যার শিকার হচ্ছেন। এসব গৃহশ্রমিকের ওপর অব্যাহত সহিংসতা ও পাচার বন্ধ, দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সুচিকিৎসা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানাচ্ছি। বক্তারা আইএলও কনভেনশন-১৮৯ অনুসমর্থন করা, সারাদেশে গৃহশ্রমিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণনীতি-২০১৫ বাস্তবায়ন, শ্রম আইনে গৃহশ্রমিকদের অন্তর্ভুক্ত করা, সব গৃহশ্রমিকের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা, নির্যাতনে নিহত শ্রমিক পরিবার ও আহত শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণ প্রদান, আহত শ্রমিকদের চিকিৎসাব্যয় নিয়োগকারী কর্তৃক বহন করা, নিহত শ্রমিক পরিবার ও আহত শ্রমিকদের স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি জানান।

গৃহশ্রমিক অধিকার প্রতিষ্ঠা নেটওয়ার্কের ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে মানববন্ধন উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের মোর্শেদা আক্তার নাহার, জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রমিলা পোদ্দার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের লুৎফুন্নাহার লতা, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের আরিফা আক্তার, সালমা আক্তার, জাতীয় শ্রমিক জোটের হেনা চৌধুরী, মোসাম্মত জুঁই, বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের ইফফাত আরা শেলী প্রমুখ।