চামড়ার দাম কমার পেছনে ‘সিন্ডিকেটের কারসাজি’ খতিয়ে দেখা হবে : কাদের

image

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম কমার পেছনে ‘সিন্ডিকেটের কারসাজি’ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঈদের ছুটি শেষে ১৪ আগস্ট বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

চামড়া নিয়ে ‘সিন্ডিকেটের কারসাজির’ অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, চামড়ার ব্যাপারে বাস্তব চিত্রটা কী- তা ভালোভাবে জানা নেই। ঈদের পর মাত্র একদিন সময় গেল, এ সময়ে পুরো বিষয় মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। সবকিছু মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হবে। নিরপেক্ষভাবে জানা দরকার সিন্ডিকেটের বিষয়টি। এরকম চক্র আমাদের দেশে আছে, ফায়দা লোটার জন্য সিন্ডিকেট করে। এ বিষয়টি (চামড়ার ক্ষেত্রে) হয়েছে কিনা তা খোঁজ নেয়া হবে।

ক্ষমতাসীন দলের ‘সিন্ডিকেটের কারসাজিতে’ কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম কমিয়ে ‘পাশের দেশে পাচার’ করা হচ্ছে- বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর এমন অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, ঢালাও অভিযোগ করা বিএনপির ‘পুরনো অভ্যাস’। যদি কোন সিন্ডিকেটের কারসাজি হয়ে থাকে, যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি বলুন, তথ্য প্রমাণসহ বলতে হবে।

মৌসুমি ব্যবসায়ীদের সংগ্রহ করা চামড়া যখন নষ্ট হচ্ছে, সরকার এ বিষয়ে কি করছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, সামগ্রিকভাবে অভিযোগগুলো পুরোপুরি খতিয়ে না দেখে কোনো ‘রিমার্কস’ করা এখনো ঠিক হবে না, আরও দুই চারদিন যাক, এর মাধ্যমে সঠিক চিত্রটি খুঁজে বের করতে পারব। এর পেছনে ‘অপরাধমূলক’ কোন কাজ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, অপরাধ যেই করুক, এখানে জাতীয় স্বার্থ বিঘিœত হলে, তা দেখা সরকারের দায়িত্ব। প্রসঙ্গত, এবার ঈদের দিন থেকেই সরকারের বেধে দেয়া দামে চামড়া কেনা হচ্ছে না বলে অভিযোগ আসতে থাকে। ট্যানারি মালিকরা বকেয়া থাকা টাকা দেননি- এই যুক্তি দেখিয়ে আড়তদাররা চামড়া কেনা বন্ধ রাখলে কাঁচা চামড়া নিয়ে ফড়িয়ারা বিপাকে পড়েন। দিনাজপুরে কাঁচা চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বাজারে ফেলে চলে যান মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রামেও ‘প্রায় এক লাখ’ পশুর চামড়া সড়কে ফেলে দেয়া হয়, পরে সেগুলো সরিয়ে মাটিচাপা দেয় সিটি করপোরেশন।

সবমিলিয়ে ঈদযাত্রা কেমন ছিল, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, মোটামুটি স্বস্তিদায়ক হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-ময়মনসিংহ রোড ঈদ যাত্রায় স্বস্তিদায়ক ছিল। তবে কিছু ভুল ছিল, সেই ভুল থেকে আমরা শিক্ষা নেব। এলেঙ্গা থেকে রংপুর মহাসড়ক চার লেন না হওয়া পর্যন্ত এই দুর্ভোগ থাকবে। তবে ক্রমান্বয়ে এই দুর্ভোগ শেষ হবে। আমরা এর জন্য কাজ করছি। তিনি বলেন, টাঙ্গাইলে মানুষের দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে যে আট লেনের গাড়ি দুই লেনের ব্রিজ পার হতে গিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। আবার ফেরার পথে চার লেনের গাড়ি দুই লেনের ব্রিজে ওঠার কারণেও সমস্যার সৃষ্টি হয়।