চুরির অপবাদ দিয়ে কিশোরকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন

image

চুরির অপবাদ দিয়ে ভোলায় আলাউদ্দিন নামে ১৪ বছরের এক কিশোরকে গলায় শিকল বেঁধে আটকে রেখে নির্যাতন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে পুলিশ ওই কিশোরকে উদ্ধার করে। জেলার সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে চর আনন্দ গ্রামে কিশোর নির্যাতনের এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভোলা সদর থানায় নির্যাতিত কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ ১ জনকে গ্রেফতার করেছে। জেলার পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ইশিলা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ওই কিশোরকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। কিশোর নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করার জন্য অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ ঘটনা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, চর আনন্দ গ্রামের বাসিন্দা মোসলেহ উদ্দিনের সুপারির বাগান থেকে দুই ছড়া সুপারি চুরির ঘটনা ঘটে। সুপারি চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে বুধবার বিকেলে কিশোর আলাউদ্দিনকে আটক করে মোসলে উদ্দিন। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত মোসলে উদ্দিনের ছেলে ও তার সহযোগিরা একটি নির্মাণাধীন ভবনের পিলারের সঙ্গে গলায় শিকল পরিয়ে করে নির্যাতন চালায় তার ওপর। আলাউদ্দিনের চিৎকার শুনতে পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানায় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ এসে রাত ১১টার দিকে ওই কিশোরকে উদ্ধার করে। নির্যতানের সঙ্গে জড়িতারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। শিশুটিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয় পুলিশ।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, সুপারি চুরির সঙ্গে কিশোর আলাউদ্দিনের চুরির কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শুধু সন্দেহের জেরে তাকে শিকল গলায় পেঁচিয়ে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। ওই ছেলের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে তারা পুলিশকে খবর দেয়।

ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই রতন কুমার শীল বলেন, চর আনন্দগ্রামের আবদুল আলী কেরানি দুই ছড়া সুপারি চুরির অপবাদ দিয়ে কিশোরকে বেঁধে নির্যাতনের খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে আলাউদ্দিনকে উদ্ধার করি। এ সময় নির্যাতনকারীদের না পেয়ে ওই বাড়ির গৃহকর্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়।

ভোলা সদর থানার ওসি জানান, ওই কিশোরের বাবা ঢাকায় চাকরি করে। আর মা বিদেশ থাকে। কিশোর আলাউদ্দিন তার চাচার কাছে থাকত। ছেলেটিকে সুপারি চুরির অভিযোগে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখলেও মারপিট করা হয়নি। খবর পেয়ে পুলিশ কিশোরকে উদ্ধার করে তার চাচার জিম্মায় দিয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করেছে কিশোরের চাচা। ঘটনায় পুলিশ এক আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।