জামায়াত নেতা ছক্কা মিয়ার বাড়ি থেকে সম্রাট গ্রেফতার

image

কুমিল্লায় মনিরুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে ছক্কা মিয়া নামে এক জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে যুবলীগ নেতা ইসমাইল চৌধুরী ওরফে সম্রাট ও তার সঙ্গী এনামুল হক আরমানকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব ও ডিবি পুলিশ। গত তিন দিন ধরে তারা ওই বাড়িতেই লুকিয়ে ছিল। ঢাকা থেকে আসা র‌্যাব ও ডিবির বিপুলসংখ্যক সদস্য জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্র্রামের ওই বাড়ি থেকে শনিবার (৫ অক্টোবর) রাতে প্রায় ৫ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে রাতেই ঢাকায় নিয়ে যায়।

প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে, তারা জানতেন ওরা মেহমান হিসেবে বেড়াতে এসেছে। সম্রাট হয়ত ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই তিন দিন আগে ওই গ্রামে আত্মগোপন করে ছিল। উদ্দেশ্য ছিল ৫ কিলোমিটার অদূরে সীমান্ত পাড়ি দেয়া।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জশ্রীপুর গ্রাম ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে বাড়িটি অবস্থিত। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, শনিবার রাত ৯টার দিকে ৭/৮টি গাড়িযোগে র‌্যাব ও ডিবি পুলিশের সদস্যরা গ্রামের জনগণের চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে এবং ছক্কা মিয়ার বাড়িটি ঘেরাও করে। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও ৭/৮টি গাড়ি ওই গ্রামে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রাত ১০টার দিকে অভিযান শুরু করে ওই দোতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে সম্রাট ও আরমানকে আটক করে রাত একটার দিকে কড়া প্রহরায় ঢাকার অভিমুখে নিয়ে যায়।

অনুসন্ধানকালে স্থানীয়রা জানায়, চৌদ্দগ্রামের জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত ছক্কা মিয়া জাতীয় পার্টির এক সময়কার কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক মন্ত্রী ফেনীর জাফর ঈমামের টাইগার বাহিনীর প্রধান আলাউদ্দিনের ভগ্নিপতি এবং সরকার পরিবর্তনের পর আলাউদ্দিন আওয়ামী লীগে যোগদান করে বর্তমানে ফেনী পৌরসভার মেয়র। স্টার লাইন পরিবহন নামে ঢাকা-ফেনীসহ বিভিন্ন রুটে যানবাহন পরিচালনা করে জাতীয় পার্টি থেকে আওয়ামী লীগ নেতা বনে যায় আলাউদ্দিন।

সম্রাট যে বাড়িতে আত্মগোপন করেছিল সে বাড়ি থেকে ভারত সীমান্তের দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। স্থানীয়দের ধারণা, সম্রাট ও তার সহযোগীকে সীমান্ত দিয়ে দেশত্যাগে সহযোগিতা করার উদ্দেশ্যেই ওই বাড়িতে রাখা হয়েছিল।