জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা : প্রথম দিন অনুপস্থিত ৬৬ হাজার ১৯৪ পরীক্ষার্থী

image

জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা চলাকালে রাজধানীর একটি স্কুলের পরীক্ষাকেন্দ্র-সংবাদ

নকলমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অষ্টম শ্রেণীর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা শুরু হয়েছে। ২ নভেম্বর শনিবার সারাদেশে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমদিন জেএসসির বাংলা এবং জেডিসির কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

জেএসসি ও মাদ্রাসার জেডিসি পরীক্ষায় এবার অংশ নিচ্ছে ২৬ লাখ ৬১ হাজার ৬৮২ জন ছাত্রছাত্রী। পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ১২ লাখ ২১ হাজার ৬৯৫ জন এবং ছাত্রী ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৭ জন।

কেন্দ্রে অনুপস্থিত ৬৬ হাজার ১৯৪ পরীক্ষার্থী

প্রথম দিনের পরীক্ষা শেষে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানিয়েছে, জেএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছিল ২৪ লাখ ৪৮ হ্জাার ৯৮৮ জন। কিন্তু কেন্দ্রে উপস্থিত ছিল ২৩ লাখ ৮২ হাজার ৭৯৪ জন। অর্থাৎ ফরম পূরণ করেও কেন্দ্রে আসেনি ৬৬ হাজার ১৯৪ জন। এছাড়া বিভিন্ন অপরাধে সারাদেশে বহিষ্কার হয়েছে ৩৮ পরীক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক।

দেশের মোট দুই হাজার ৯৮২টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা শুরু হয়। এছাড়া দেশের বাইরের ৯টি কেন্দ্র থেকে শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। প্রথম দিন জেএসসিতে বাংলা এবং জেডিসিতে কুরআন মাজিদ ও তাজবিদ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নেয়া হচ্ছে পরীক্ষা। এরমধ্যে প্রথমবারের মতো ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শনিবার সকাল পৌনে ১০টায় ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিঞ্জিরা পিএম পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জেএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘এবার জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় এখন পর্যন্ত কোন প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি; আর ঘটবেও না। বিগত সময়ে আমরা দেখেছি একটি চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে প্রতারণা করেছে। এমনকি প্রশ্ন ফাঁসের কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এবার এ ব্যাপারে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা যথেষ্ট সতর্ক রয়েছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, কোচিং বাণিজ্য করা ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আমিজপুর শাখার শিক্ষক কানিজ ফাতেমার বিরুদ্ধে শীঘ্ররই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের এই পরীক্ষার সময় কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হলেও তা চালিয়ে আসছিলেন ওই শিক্ষক। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক সে খবর সংগ্রহ গেলে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবে কেউ কান দেবেন না। এখনও প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোন ঘটনা ঘটেনি। আর আশা করছি ঘটবেও না। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী প্রতারকচক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবে। কোচিং সেন্টার পরিচালনাকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) অধ্যাপক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ২৫ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখতে হবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং ফাঁসের গুজবমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা শেষ করার জন্য কোন প্রতারক যাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য, মিথ্যা প্রশ্নপত্র তৈরি করতে না পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। কোচিং সেন্টারের মালিকদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে।