টানা ১০ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা

http://thesangbad.net/images/2020/March/23Mar20/news/general-off.jpg

দেশে প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে আগামী ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। ২৬ মার্চ সরকারি ছুটি এবং ২৭ ও ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটি। এর পর ৩ ও ৪ এপ্রিলও সাপ্তাহিক ছুটি। এ হিসেবে টানা ১০ দিনের ছুটির কবলে পড়ছে দেশ।

এই ছুটির সময় পুলিশ ও হাসপাতাল ছাড়া সব ধরনের সরকারি সেবা বন্ধ থাকবে। গণপরিবহন সীমিত আকারে চলাচল করবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রমও সীমিত আকারে চালু থাকবে। তবে এ ছুটি কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকানসহ এ সংক্রান্ত জরুরি সেবার জন্য প্রযোজ্য হবে না। এছাড়া আগামীকাল (আজ) থেকে বিভাগীয় ও জেলাশহরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থার জন্য বেসরকারি প্রশাসনকে সহায়তা দিতে সেনাবাহিনী নিয়োজিত হবে।

২৩ মার্চ সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সরকারের নেয়া ১০টি সিন্ধান্তের কথা জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব শাহ কামাল, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, তথ্যসচিব, প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ‘২৬ মার্চ সরকারি ছুটি, এর সঙ্গে ২৭ ও ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে। এর সঙ্গে ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হচ্ছে। ৩ থেকে ৪ এপ্রিল আবার সাপ্তাহিক ছুটি রয়েছে। তবে ওষুধের দোকান, কাঁচাবাজার সব খোলা থাকবে।’

করোনাভাইরাস বিস্তৃত হওয়ার কারণে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘কোনোভাবেই যেন মানুষ জরুরি বিষয় ছাড়া বাড়ির বাইরে না আসে। আমরা দেখেছি বিনোদনমূলক এলাকায় ভিড় করেছে। এ সময় যদি প্রয়োজনীয় কাজ করতে হয় অনলাইনে করতে হবে। যারা প্রয়োজন মনে করবে তারা খোলা রাখবে।’

গণপরিবহন পরিহার করার অনুরোধ করা হচ্ছে জানিয়ে খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘২৪ মার্চ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণের জন্য ও সতর্কতামূলক বিষয় হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী জেলা প্রশাসনকে সহায়তা করার জন্য নিয়োজিত থাকবে। করোনার কারণে জেলা প্রসাশকদের আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দেয়ার কথা বলা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস বলেন, ‘লকডাউন বলে কিছু নেই। দরকার সোশ্যাল ডিসট্যান্স। সরকার সব সময় এটাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করেছেন। নারায়ণগঞ্জে আক্রান্ত হয়েছেন তিনজন। বাংলাদেশ কিন্তু এটা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের ডাক্তারদের ভালো করে তোলার সামর্থ্য আছে। আতঙ্কের কিছু নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন এমন একটি সময় এসেছে যখন সমস্ত জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আমাদের পুলিশ-আনসার একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। আপনারা সাংবাদিকরাও নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। জনগণের বিষয়টাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কিন্তু রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠান, ২৬ মার্চের সব অনুষ্ঠানও কিন্তু বাতিল করেছেন। জনগণের দিকে তাকিয়ে এটা করেছেন তিনি।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব জানান, এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সঙ্গে তাদের পৃথকভাবে বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ১০ দফার ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ১০ সিদ্ধান্তের মধ্য রয়েছে গণপরিবহন চলাচল সীমিত রাখা, সবরকম সামাজিক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাসের কারণে নিম্ন আয়ের কোন ব্যক্তি শহরে জীবন যাপনে অক্ষম হলে সরকার তাকে ঘরে ফেরা কর্মসূচির অধীনে নিজ গ্রাম বা ঘরে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকরা ব্যবস্থা নেবে।’

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় ইতোমধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। পারিবারিক অনুষ্ঠানসহ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েতের ওপর।

এছাড়াও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দেশের সব বিপণিবিতান। মূলতবি করা হয়েছে জামিন ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদি ছাড়া নিম্ন আদালতের বিচারিক কার্যক্রম। চারটি দেশ ছাড়া সব দেশ থেকেই যাত্রী আসা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলাকে ‘লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৮ মার্চ। এরপর নিয়মিত এ ভাইরাসে সংক্রমণের সংখ্যা বেড়েছে। সরকারি হিসেবে সোমবার পর্যন্ত ৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন তিনজন। সেলফ ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন প্রায় ১৮ হাজার মানুষ, যাদের অধিকাংশই বিদেশ ফেরত।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান শহরে প্রথম শনাক্ত হয় করোনাভাইরাস। এটি এখন বৈশ্বিক মহামারি। করোনাভাইরাসে সারাবিশ্বে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছেন প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার মানুষ।