ডেঙ্গু : চার দিনে বাপেক্স প্রকৌশলীসহ দশ জনের মৃত্যু

image

গত ৪ দিনে রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বাপেক্সের প্রকৌশলীসহ ১০ জনের বেশি লোকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুর, পাবনা ও লক্ষ্মীপুর জেলায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ১১ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট বুধবার পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে চলতি মাসেই (১ আগস্ট থেকে ১৪ আগস্ট পর্যন্ত) মৃত্যু সংখ্যা ৪০ জন ছাড়িয়ে গেছে। সরকারি হিসেবে এ বছর সব মিলিয়ে ৪০ জনের মৃত্যুর কথা বলা হলেও গত দেড় মাসেই শতাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে বেসরকারি হিসেবে বলা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের দিন (১২ আগস্ট) ৪ জন ঈদের পরদিন ৩ জনসহ চারদিনে মোট ১০ জনের বেশি মারা গেছে। রাজধানী ছাড়াও খুলনা, বরিশাল, ফরিদুপর ও মাদারীপুর এবং লক্ষ্মীপুর এবং পাবনা জেলায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। যদিও স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে এসব মৃত্যুর কোন হিসাব নেই। তাদের পরিসংখ্যানে ঈদের আগের দিন থেকে ঈদের তৃতীয় দিন পর্যন্ত মৃত্যুর কোন হিসাব রাখা হয়নি।

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) কর্মরত জামাল আহমেদ ঈদের দিন সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে মারা যায়। জামাল আহমেদ কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ মনিপুরঘাট এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আবদুল মান্নান। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তার স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। জামাল আহমেদ সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে তাকে প্রথমে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে নেয়া হলে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ঈদের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাপেক্স প্রকৌশলী মাহবুল্লাহ হক (৩৫) মারা যান। সকাল ১০টায় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) মারা যান তিনি। ঈদের দিন সোমবার বিকেল ৪টার দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নিয়ে আসা হয়। মাহবুল্লাহ হকের বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশায়। তিনি ছিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের ম্যানেজার (খনন)। তিনি তিন সন্তানের পিতা।

ঈদের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার ভোরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামিয়া নামের ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। ঈদের একদিন আগে আগারগাঁও তালতলা থেকে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল সামিয়া।

লক্ষ্মীপুর : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পরশ (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঈদের দিন সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। শিশু পরশ উপজেলার চর জাঙ্গালিয়া দাসপাড়া এলাকার কামরুজ্জামানের ছেলে।

খুলনা : ঈদের দিন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাসেল নামের এক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী। রাসেল গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়ী গ্রামের মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে। রাসেল ঢাকার রমনা পার্কে ক্লিনার হিসেবে কাজ করতেন। ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে সে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তিছিল। সে ১১ আগস্ট খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঈদের দিন দুপুরে তিনি মারা যান।

জেলা বার্তা পরিবেশক, বরিশাল : বরিশাল শেরে-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১০ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ১১ আগস্ট শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় তার মৃত্যু হয়। শিশুটির নাম রুশা। সে ঝালকাঠী উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের জীবনদাসকাঠী গ্রামের রূহুল আমিনের মেয়ে। বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকায় থাকতো রুশা। ঈদ উদযাপনের জন্য জীবনদাসকাঠী গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল সে।

ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে তানজিদ মোল্লা (৯) নামে এক শিশু মারা গেছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। শিশুটিকে ঈদের একদিন আগে রোববার ভর্তি করা হয়েছিল। তানজিদ ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মাঝকান্দি এলাকার বাসিন্দা ভ্যান চালক জাহিদ মোল্লার ছেলে। তিন ভায়ের মধ্যে তানজিদ সবার বড়।

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, পাবনা

পাবনায় ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত হয়ে মোসাব্বির হোসেন মাহফুজ (২০) নামের এক কলেজ ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। মাহফুজ সদর উপজেলার চক রামানন্দপুর এলাকার মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে। ঈদের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।

মাদারীপুরের শিবচরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আবদুল মজিদ (৭৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার রাতে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসা হলে রাত ১টার দিকে তিনি মারা যান। বৃদ্ধ আবদুল মজিদের স্বজনরা জানায়, জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় এক সপ্তাহ ধরে আবদুল মজিদ ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার ঢাকা থেকে শিবচরে সন্ধ্যার দিকে নিয়ে আসা হয়। এরপর রাত একটার দিকে তিনি মারা যান।