দশমিনায় আদালত ভবন জরাজীর্ণ : দুর্ঘটনার আশঙ্কা

image

দশমিনা (পটুয়াখালী) : বেহাল আদালত ভবন-সংবাদ

পটুয়াখালীর দশমিনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোন মুহূর্তে ভবনটি ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে ভবনটিতে ফৌজদারি আদালতের যাবতীয় কার্যক্রম চলছে। জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে উপজেলা এলাকায় ফৌজদারি বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একতলা আদালত ভবনটি নির্মাণ করা হয়। শুরু থেকেই ভবনে ফৌজদারি বিচারকাজ পরিচালিত হতো। পুনরায় ২০০০ সালে বিচার কার্যক্রম চালু হয়। আদালতে চলতি মাস পর্যন্ত প্রায় ৫ শতাধিক মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আদালত ভবনটির দেয়ালে ও ছাদে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে এই সব ফাটলে পানি পড়তে শুরু করে। শুধু ছাদ নয় দেয়ালের অনেক জায়গায়ও ফাটল ধরেছে। বের হয়ে গেছে ছাদ ও বিমের রড। ভবনটির বারান্দার মেঝেসহ কয়েকটি কক্ষের মেঝে দেবে গেছে। বিচারকদের এজলাস কক্ষও স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে। ভবনটির বারান্দার মেঝেসহ কয়েকটি কক্ষের মেঝে দেবে গেছে। আদালতের এজলাস কক্ষের বিমে ফাটল ধরেছে। ছাদের কোন কোন অংশ থেকে পলেস্তার খসে পড়ছে। দরজা-জানালার চৌকাঠ ভেঙ্গে গেছে। জানালার গ্রিলে মরিচা ধরে গেছে। ভবনটির ছাদসহ এর দেয়ালে শেওলা জমেছে গেছে। ভবনে থাকা হাজতখানা, পুলিশ ব্যারাক, উপ-পরিদর্শকের কক্ষ,বেঞ্চ সহকারীর কক্ষ, সেরেস্তাদারের কক্ষ ও রেকর্ড কক্ষেও অবস্থা একই রকম।

সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা খুব কষ্ট করে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করি। বিচারকাজ পরিচালনা করার স্বার্থে নতুন আদালত ভবন নির্মাণ করা একান্ত জরুরি । যে কোন সময় ছাদ ধসে মাথায় পড়তে পারে, এই ভয় নিয়ে বিচাররিক কার্যক্রম পরিচালনা করি’।

আদালতের এ.পি.পি উত্তম কুমার কর্মকার বলেন, ‘আদালতের ভবনে ঝুঁকি নিয়ে বিচার কাজ চলছে।’ তিনি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অনুরোধ করেন।

উপজেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. সিকদার গোলাম মোস্তফা বলেন, যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তাই নতুন আদালত ভবনের একান্ত দরকার। এ আদালতে চলমান মামলার জন্য প্রতিদিন বিচারপ্রার্থীরাসহ সাধারণ মানুষ আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হয়। তাই বিচার কাজের জন্য জরাজীর্ণ ভবনটি সংস্কার কিংবা নতুন আদালত ভবন নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে।