দৌলতপুরে যমুনার ভাঙনে ৬ শতাধিক বাড়ি বিলীন

image

মানিকগঞ্জ : ইছামতির ভাঙন হুমকিতে ঘিওর গরুর হাট ও কুস্তা সেতু-সংবাদ

গত কয়েকদিনের অবিরাম বৃষ্টি এবং ২য় দফায় পানি বৃদ্ধির ফলে মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধিতে ভয়াবহ আকার ভাঙন দেখা দিয়েছে। একটি আশ্রয়ন প্রকল্পসহ ৮টি গ্রাম হুমকির মুখে রয়েছে। ঘিওর পুরাতন ধলেশ্বরী নদীর ভাঙনে কুস্তা, শ্রীধরনগরের ফসলি জমি ও বাড়ি ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঘিওর-পূর্বপাড়া ইলাগি সড়ক এবং ঘিওর গরু হাটটি হুমকির মুখে রয়েছে।

নদী ভাঙ্গনে দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর, চরকাটারী, বাঘুটিয়া, বাচামারা প্রতিবছর ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারন করে। এবার প্রায় ৬ শতাধিক বাড়ি ঘরসহ বহু ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জিয়নপুর ইউনিয়নের লাউতারা গ্রামে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া আশ্রয়ন প্রকল্পের ৫টি ব্যারাকে ২৫টি পরিবারকে বসবাসের জন্য দেয়া হয়। কিন্তু এবারের যমুনা নদীর ভাঙনে আশ্রয়ন প্রকল্পটি হুমকির মধ্যে রয়েছে। যে কোন মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এছাড়া আমতলী, বৈনা, বড়টিয়া, ধুলট ছোনপড়া, এবং আবুডাঙ্গা নদীগর্ভে বিলীনের পথে। গত দুই মাসে নদীতে মিশে গেছে প্রায় ৬ শতাধিক বাড়ি ঘর ও ফসলি জমি। বাঘুটিয়া এবং বাচামারা ইউনিয়নের বহু বাড়ি ঘর নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। লাউতারা আশ্রয়ন প্রকল্পটি নদী ভাঙনের কবল থেকে রক্ষার জন্য ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এদিকে ঘিওর পুরাতন ধলেশ্বরী নদীর ভাঙনে ঘিওর বৈলট রাস্তাটি নদী গর্ভে বিলীনের পথে। ৫-৬টি গ্রামের যোগাযাগ যে কোন মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যাবে। শ্রীধরনগর, কুস্তা গ্রামে বহু বাড়ি নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাঙন এলাকার অসহায় লোকজন আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে এবং অনেকে উচঁুঁ বাধে আশ্রয় নিয়েছে। মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, লাউতারা ভাঙন রোধ কল্পে বস্তা ফেলার জন্য ইতোমধ্যে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ঘিওর বাজারের গরুহাটের টিনশেড ঘরটি অর্ধেক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ঘিওর বাজার থেকে গোলাপনগঞ্জে রাস্তাটি এখন হুমকির মধ্যে রয়েছে। যে কোন সময় ভাঙনে বিলীন হয়ে যেতে পারে। এ ব্যাপারে এলাকার লোকজন জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতীন মুসা জানান, প্রশাসনের কাছে একাধিকবার ভাঙনের বিষয়ে কথা বলা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে তারা জানিয়েছেন।