নবম ওয়েজ বোর্ড প্রজ্ঞাপন দুই মাস স্থিতিবস্থায় রাখার আদেশ হাইকোর্টের

image

সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্ধারণে গঠিত নবম ওয়েজ বোর্ড নিয়ে সরকারের প্রকাশিতব্য গেজেটের (প্রজ্ঞাপন) ওপর দুই মাসের স্থিতাবস্থা জারি করেছেন হাইকোর্ট। ফলে নবম ওয়েজ বোর্ডের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ যে অবস্থায় আছে তেমনই থাকবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী। একই সঙ্গে অংশীজনদের (নোয়াব) আপত্তি ও সুপারিশ প্রজ্ঞাপনের বিবেচনায় না নেয়াকে কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) এক রিট আবেদনের শুনানিতে হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য সচিব, শ্রম সচিব ও ওয়েজ বোর্ডের চেয়ারম্যান নিজামুল হককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী ইউসুফ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন ইয়াসমিন বেগম বিথী।

ইউসুফ আলী জানান, ওয়েজ বোর্ডের প্রজ্ঞাপন প্রকাশে স্থগিতাদেশ চেয়ে সোমবার (৫ আগস্ট) হাইকোর্টে রিট করেন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) প্রেসিডেন্ট মতিউর রহমান। পরে এ রিটের শুনানি নিয়ে নবম ওয়েজ বোর্ডের গেজেট প্রকাশের ওপর দুই মাসের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন হাইকোর্ট। এ আদেশের ফলে দুই মাসের মধ্যে ওই গেজেট প্রকাশ করা যাবে না।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সংসদে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নবম ওয়েজবোর্ড রোয়েদাদের সুপারিশমালা পরীক্ষা করে দ্রুত গেজেট প্রকাশ করা হবে। সরকার সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে প্রতি পাঁচ বছর পর পর ওয়েজবোর্ড গঠন করছে। নবম ওয়েজবোর্ড সব সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য ৪৫ ভাগ মহার্ঘভাতা দেওয়ার সুপারিশ করেছে। দেশে সাংবাদিকদের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যাপক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৪টি টেলিভিশন ও ২৮টি এফএম রেডিওর লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এলাকা ও অঞ্চলভিত্তিক ৩২টি কমিউনিটি রেডিও লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেছিলেন, বর্তমানে সারাদেশে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা এক হাজার ২৪৮টি। এর মধ্যে ঢাকা থেকে প্রকাশিত পত্রিকার সংখ্যা ৫০২টি এবং আঞ্চলিক পত্রিকার সংখ্যা ৭৪৬টি। সারাদেশে সাপ্তাহিক পত্রিকার সংখ্যা এক হাজার ১৯২টি, মাসিক পত্রিকার সংখ্যা ৪১৪টি এবং অন্যান্য পত্রিকা ৪১টি। এ ছাড়া দুই হাজার ২১৭টি অনলাইন মিডিয়া রয়েছে। এর মধ্যে অনলাইন পত্রিকা এক হাজার ৮৭৪টি, ইন্টারনেট টেলিভিশন ২৫৭টি, অনলাইন রেডিও ৪৫টি এবং ই-পেপার ৪১টি।