নরসিংদীতে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিকলে বেঁধে নির্যাতন

নরসিংদীর বেলাবোতে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে ঘরে বন্দী করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। অমানুষিক নির্যাতনের পর ওই গৃহবধূর মাথার চুল কেটে দেয়া হয়। খবর পেয়ে বেলাবো থানার পুলিশ উপজেলার জাঙ্গুয়া গ্রাম থেকে প্রবাসীর স্ত্রীকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বেলাবো থানায় মামলা করা হয়। একই সঙ্গে ১৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে নিযার্তিত গৃহবধূ ধর্ষণের চেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে আদালতে পৃথক একটি পিটিশন দায়ের করেন। আদালত আগামী এক মাসের মধ্যে বেলাবো থানার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন।

অভিযুক্তরা হলো জাঙ্গুয়া গ্রামের সিদ্দিক মিয়ার ছেলে জাকির মিয়া, তার ভাই সামসুজ্জামান, চেরাগ আলীর ছেলে বাচ্চু মিয়া, তার স্ত্রী শিল্পী বেগম, রিমা বেগম ও রহিমা বেগম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ সিদ্দিক মিয়ার ছেলে জাকির মিয়া প্রবাসীর স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করত। একই সঙ্গে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। সব শেষ গত ১৩ এপ্রিল শনিবার রাতে অভিযুক্ত জাকির প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে যায় এবং তাকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এতে ব্যর্থ হয়ে ওই গৃহবধূকে টেনেহিঁচড়ে জাকিরের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে সেখানে তাকে লোহার শিকল দিয়ে খাটের সঙ্গে বেঁধে একটি ঘরে বন্দী করে রাখে। এ সময় তার মাথার চুল কেটে দেয়া এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। ৩ দিন পর খবর পেয়ে ১৬ এপ্রিল মঙ্গলবার রাতে বেলাবো থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে। মঙ্গলবার রাতেই নির্যাতিত গৃহবধূ বেলাবো থানায় মামলা করেন। পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাঈনউদ্দিন কাদিরের আদালতে ধর্ষণের চেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে আদালতে পৃথক একটি পিটিশন দায়ের করেন তিনি। আদালত আগামী এক মাসের মধ্যে বেলাবো থানার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন।

বেলাবো থানার এসআই ওয়াহিদুল্লাহ সজিব ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।