নৌবাহিনীর কর্মকর্তার মামলার প্রভাবমুক্ত তদন্ত হবে: ডিএমপি কমিশনার

image

ধানমণ্ডিতে নৌ বাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর ও তার স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্ত হবে প্রভাবমুক্ত। এ মামলার তদন্তে কেউ প্রভাব খাটাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও থানা প্রাঙ্গণে নারী ও শিশুদের জন্য কুইক রেসপন্স টিম ও হটলাইন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, নৌবাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। তার স্ত্রীকেও অসম্মান করা হয়। ঘটনাটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমরা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। রমনার ডিসি ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ মামলার তদন্তের কাজে যতটুকু সহযোগিতা করা যায় সেটি করছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে সব আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। এই মামলার দুই নম্বর আসামি দিপুকে আমাদের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) টিম টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার করেছে। এখন সাক্ষ্য প্রমাণ সংগ্রহ ও মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করা হবে।

এই মামলাটি সঠিকভাবে তদন্তের জন্য গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম বলেন, এটি আমরা ডকেট চার্জ দেখবো। তখন প্রয়োজন মনে করলে আমরা তদন্তের জন্য ডিবিতে স্থানান্তর করবো।

এদিকে এ মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ইরফান সেলিমকে সোমবার রাতে র‌্যাবের অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখনো এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।

এই মামলায় ইরফানকে গ্রেপ্তার করার জন্য আদালতে আবেদন করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, সোমবার রাতে তারা (র‌্যাব) গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে। এখন আমরা তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার এবং রিমান্ডের জন্য আদালতে অনুমতি চেয়ে আবেদন করবো।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তা হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি একজন সংসদ সদস্যের ছেলে। পুলিশ প্রভাবমুক্ত হয়ে এ মামলার তদন্ত করতে পারবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নিঃসন্দেহে প্রভাবমুক্ত থাকবে। এখানে প্রভাব খাটানোর চেষ্টাও কেউ করবে না। এটা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করার জন্য যা প্রয়োজন আমরা সেভাবেই কাজ করবো। যেভাবে একজন অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা দরকার, তাই করা হবে। কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

গত ২৫ অক্টোবর রাতে ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ‘সংসদ সদস্য’লেখা সরকারি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধর করা হয়। রাতে এ ঘটনায় জিডি হলেও ২৬ অক্টোবর ভোরে হাজী সেলিমের ছেলেসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওয়াসিফ।