পটুয়াখালীতে আম্ফানে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬ হাজার মিটার বেড়িবাঁধ

ফসলের ক্ষতি ৪ হাজার ৩৮ মে. টন

image

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের জলোচ্ছ্বাসে পটুয়াখালী জেলার ৮উপজেলার প্রায় ১৬ হাজর মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেছে। প্লাবিত হয়েছে ৫ হাজার ৫৬৭ হেক্টর জমি। এতে ৪ হাজার ৩৮ মে. টন ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। প্লাবনে সবচেয়ে ক্ষতি হয়েছে আউশ বীজতলা ও বিভিন্ন ধরনের রবি শষ্য এবং শাক-সবজির। এ দিকে আম্ফানের জলোচ্ছ্বাসে জেলার ৮টি উপজেলার বেড়ি বাঁধ কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মির্জাগঞ্জে আম্ফান তান্ডবে বাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে প্রায় ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানি বন্ধি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে এসব গ্রামের মানুষ। ভাঙ্গাবাঁধ দিয়ে প্রতিদিন জোয়ারের পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হচ্ছে একের পর এক ফসলের ক্ষেত। পঁচে যাচ্ছে কৃষকের আউশের বীজতলা। বাঁধগুলো অতিদ্রুত মেরামত করা না হলে আউশের বীজতলা রক্ষা করা যাবেনা বলে জানিয়েছে কৃষকরা। আবার পানি না কমলে নতুন করে আউশের বীজতলা করতে পারবেন না তারা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ও ৫ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ভেঙে গেছে। প্রায় ১৫ হাজার লোক পানিবন্দি হয়ে পড়ে। এছাড়াও ৩০ বসতঘর সম্পূর্ণ এবং ৩০০ টি বসতঘর ও রামপুর এলাকায় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

সরজমিনে দেখা যায়, মনোহরখালী লঞ্চঘাটের পায়রা পাড়ে নব নির্মত রাস্তাটি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। শ্রীমন্ত নদীর পানির তোড়ে ভেঙ্গে গেছে উপজেলার পশ্চিম সুবিদখালী গ্রামের বেগমপুর বাঁধঘাটের স্লুইস গেট। উপজেলার মনোহরখালী, গোলখালী, চরখালী, মির্জাগঞ্জ, কাকড়াবুনিয়া ও রাপমুর এলাকার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে। যে কোন সময়ে গোলখালী স্লুইস গেটটি পায়রা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। ঘূর্ণিঝড় সিডর ও ফনী পরবর্তী পায়রা নদীর মেন্দিয়াবাদ থেকে চরখালী হাই স্কুল পর্যন্ত নতুন বাঁধ নির্মাণ করা হলে রক্ষা পায় ওই এলাকার মানুষ। তবে ঘূর্ণিঝড় আম্ফানে বাঁধের অধিকাংশ মাটি ঢেউয়ের তোড়ে ভেঙ্গে গেছে।

চরখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাওলানা মো. আবদুল মালেক বলেন, সিডরে মির্জাগঞ্জের মধ্যে চরখালীতে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। যা মানুষ এখন ভুলতে পারেনি। আম্ফানে গোলখালী দো-আনী খালটি ছুটে গেছে। চরখালী থেকে গোলখালী পর্যন্ত সে বাঁধটুকু নির্মাণের দাবি করেছে এলাকার জনসাধারণ। তারা জানান, আমরা ঘূর্ণিঝড়ে বারবার জোয়ারের পানিতে ভাসতে চাই না। এ এলাকার মানুষ ‘ত্রান চায় না শক্ত বাঁধ চায়’।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খান মো. আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়ন পায়রা নদী তীরবর্তী। ঘূর্ণিঝড়ের কারনে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

এ দিকে জেলা কৃষি সপ¥্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২০ মে ঘূর্নীঝড় আম্ফানের জলোচ্ছ্বাসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৫ হাজার ৮৬০ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে পটুয়াখালী সদর উপজেলায় ১ হাজার ৫শ’ মিটার, বাউফলে ৬৩০ মিটার, গলাচিপায় ১ হাজার ৪৬০ মিটার, কলাপাড়ায় ৮ হাজার ১৮০ মিটার, দশমিনায় ৬২০ মিটার, মির্জাগঞ্জে ১ হাজার ৬২০ মিটার, দুমকীতে ৩৫০ মিটার ও রাঙ্গাবালীতে ১ হাজার ৫শ’ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবাহী প্রকৌশলী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মির্জাগঞ্জে যে সকল বাঁধ বিধ্বস্ত হয়েছে তা পরিদর্শন করা হয়েছে। আশা করি অতি দ্রুত বাঁধগুলো মেরামত কাজ শুরু করা হবে।