কুড়িগ্রামে নকশা বহির্ভূত ইমারত নির্মাণ

পৌরসভার নোটিসের পরও চলছে নির্মাণ কাজ

image

কুড়িগ্রামে নকশা বহির্ভূত ইমারত নির্মাণ কাজ বন্ধ ও অবৈধ অংশ অপসারণের নোটিস জারির পরও থেমে থাকেনি কাজ। সরকারি জায়গায় কলাম স্থাপনসহ সানসেট চলে গেছে অন্যের জায়গায়। বিল্ডিং-এর মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় নোটিস দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে আছে পৌরসভা।

জানা যায়, কুড়িগ্রাম পৌরসভাস্থ নাজিরা ডাক্তার পাড়ায় কিশলয় আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ৪ তলা ভবন নির্মাণ করছেন প্রভাবশালী ঠিকাদার গোলাম মোস্তফা। করোনাকালীন সময়ে হঠাৎ এক মাসের মধ্যে তিনি বিল্ডিং-এর নিচটি ফাঁকা রেখে ওপরে ছাদের কাজ শুরু করেন। সীমানার মধ্যে ভবন নির্মাণ করায় ওপরের সানসেট চলে যায় অন্যের বাড়িতে। এ নিয়ে প্রতিবেশী বাড়ির মালিক আজাদুন্নবী আনছারী ভবন নির্মাণ আইন ভঙ্গ করে বিধিমোতাবেক কাজ না করায় পৌরসভাসহ কুড়িগ্রাম সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পৌরসভা থেকে চলতি বছরের ১৪ জুন নকশা বহির্ভূত নির্মাণ কাজ অপসারণের জন্য নোটিস প্রদান করা হয়। গোলাম মোস্তফা নোটিস উপেক্ষা করে সমঝোতার কথা বলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পৌরসভা থেকে বারবার নোটিস দেয়া হলেও তা মানছেন না তিনি।

এদিকে নির্মান আইন ভঙ্গ করা হলেও অদৃশ্য ইশারায় হাত গুটিয়ে বসে আছে পৌর কর্তপক্ষ।

প্রতিবেশী নুরে আলম সিদ্দিকী ও অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মিলন জানান, এরা সরকারি জায়গায় কলাম স্থাপন করেছে। উপরের সম্পূর্ণ অংশ চলে গেছে অন্যের জায়গায়। পৌর কর্তৃপক্ষ ডিজাইন অনুমোদন কিভাবে করল বুঝতে পারছি না।

ওই ওয়ার্ডের কমিশনার মোস্তফা কামাল জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষকে নিয়ে বসা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিবেশি ও অভিযোগকারী আজাদুন্নবী আনছারী জানান, ২০১৯ সালে কাজ শুরুর পর থেকে আমি পৌরসভায় অভিযোগ করে আসছি। উনি নকশায় প্রদর্শিত ফাঁকা অংশে বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে তার ভেতরেই ভবনের নির্মাণ কাজ করছেন। ফলে নির্মাণ সামগ্রীর মালসামানা আমার বাড়ির ভেতর আছড়ে পড়ছে। এতে শিশু সন্তানসহ পরিবার নিয়ে আতঙ্কে আছি। এখানে মীমাংসার কিছু নেই।

এ ব্যাপারে পৌরসভার টাউন প্লানার গৌতম কুমার রায় জানান, উনি করোনাকালীন সময়ে নকশা বহির্ভূতভাবে ভবনের কাজ করছেন। প্রসেস মেনে কাজ বন্ধ রেখে অবৈধ অংশ অপসারণের জন্য পৌরসভা থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

নোটিশ জারির পরও কিভাবে কাজ করছে এমন প্রশ্নের জবাবে কুড়িগ্রাম পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কামাল আহমেদ জানান, একজন পৌর কমিশনারসহ আপোস মীমাংসার জন্য বসার কথা শুনেছি। সরকারি রাস্তায় কলাম স্থাপন এবং অন্যের বাড়িতে সানসেট চলে যাওয়ার পরও অবৈধ অংশ না ভেঙ্গে কিভাবে আপোস মীমাংসা হয় এই প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন তিনি।