ফেনীতে দেদার ভারতীয় গরু : দিশেহারা খামারিরা

image

ফেনী : পশুর হাটে ক্রেতা বিক্রেতার ভিড়-সংবাদ

ফেনীতে কোরবানির লক্ষাধিক পশুর চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় খামারিদের কাছে মজুদ রয়েছে প্রায় ৯০ হাজার বেশি পশু। যা দিয়ে এলাকার কোরবানির পশুর ৯০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবু শনিবার (১০ আগস্ট) পর্যন্ত বেচাকেনা খুব জমে ওঠেনি।

জেলায় দেশি গরুর পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু অনুপ্রবেশের অভিযোগ করে দাম নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন স্থানীয় খামারিরা। রুগ্ন ও অপুষ্ট এসব গরু বাজারে কম মূল্যে বিক্রি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হন দেশীয় খামারিরা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর থেকে জানানো হয়েছে, এবার জেলায় ৪ হাজার ২২২ জন খামারি মোট ৮৮ হাজার ১৯৬টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে ২৩ হাজার ৩০৮টি ষাঁড়, ৩৯ হাজার ২৭২টি বলদ, ৯ হাজার ৪৬টি গাভী, ৪ হাজার ৯০টি মহিষ, ১০ হাজার ২০৭টি ছাগল, ২ হাজার ২০৩টি ভেড়া ও ৭০টি অন্যান্য প্রজাতির পশু রয়েছে।

সূত্র মতে, এবার ফেনী সদরে ২১ হাজার ৪০৮টি, ছাগলনাইয়ায় ১১ হাজার ৯২০টি, দাগনভূঞায় ২৪ হাজার ৭৫২টি, সোনাগাজীতে সাড়ে ১৬ হাজার, পরশুরামে ৮ হাজার ৪৩১টি ও ফুলগাজীতে ৫ হাজার ১৮৫টি পশু খামারে মোটাতাজা করা হয়েছে। যা দিয়ে ফেনীর কোরবানির পশুর চাহিদার সিংহভাগ পূরণ করা সম্ভব। সূত্র আরও জানায়, গতবছর ঈদুল আজহায় জেলায় ৯৭ হাজার ৯৫৬টি পশু কোরবানি করা হয়েছিল।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক খামারি জানান, ঈদ ঘনিয়ে এলে সীমান্ত এলাকার ভারতীয় কাঁটাতারের ফাঁক গলিয়ে আসতে থাকে ভারতীয় গরু। একাধিক চক্র প্রভাব খাটিয়ে ভারত সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বিপুলসংখ্যক গরু নিয়ে আসেন। তারা আরও বলেন, খামারিরা রাসায়নিকমুক্ত খাবার খাইয়ে শংকর ফ্রিজিয়ান, শাহিওয়াল, সিন্ধি, হরিয়ানা ও দেশি জাতের পর্যাপ্ত গরু মোটাতাজা করেছে।

এদিকে ঈদের মাত্র দুই দিন থাকলেও ফেনীর পশুরহাটগুলোতে বেচা-বিক্রি এখনও জমে উঠেনি। ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, ফেনী সদর উপজেলার পাঁছগাছিয়া বাজার, লস্করহাট বাজার, সোনাগাজী মোহাম্মদ সাবের সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসহ বেশ কয়েকটি পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে দেশি গরুর পাশাপাশি বিদেশি গরুর আধিক্য।

অপরদিকে ফেনীর সীমান্ত এলাকা দিয়ে চোরাচালান প্রতিরোধে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। সীমান্তবর্তী উপজেলা ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরামে বিজিবি সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করছে। এছাড়াও সীমান্তে টহল বাড়িয়েছে বলে জানান তারা। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, জেলার ৫০টি পশুরহাটে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব ৫ সদস্যের টিম হাটগুলোতে গিয়ে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষাসহ খামারি ও বেপারীদের দিক নির্দেশনা দিচ্ছেন। এছাড়া ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরুন্নবী জানিয়েছেন, পশুর হাটসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে ছিনতাই চাঁদাবাজি রোধে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী তৎপর রয়েছে।