ফোনে উচ্চস্বরের বক্তা সেই ঘাতক আটক!

image

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকার অদূরে টঙ্গি থানার আরিচপুর এলাকায় ছুরিকাঘাত করে চুন্নু ভূইয়া নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার প্রধান আসামী মিন্টু মোল্লাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। ঘটনার ৪ দিনপর ১৩ জুন বৃহস্পতিবার ভোররাতে রাজধানীর শনির আখড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিকে র‌্যাব ৩ এর অভিযানে ১৪ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। র‌্যাব ১ এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ সারওয়ার বিন কাশেম জানান, গত ০৯ জুন গাজিপুর মেট্টোপলিন এলাকার টঙ্গী পূর্ব থানার পূর্ব আরিচপুর এলাকার বাসিন্দা জনৈক মোঃ আতাউর রহমান খান জুয়েল (৬১) তার নিজ বাসায় পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং ঈদ উপলক্ষে বেড়াতে আসা আত্মীয় স্বজনদের সাথে গল্প গুজব করছিলেন। এ সময় বাসার সামনে রাস্তায় আসামী মিন্টু মোল্লা মোবাইল ফোনে উচ্চস্বরে অশ্লীল ভাষায় কথা বলছিল। মোঃ আতাউর রহমান খান জুয়েল তার বাসার বারান্দা হতে আসামী মিন্টু মোল্লাকে উচ্চস্বরে কথা বলার জন্য নিষেধ করলে মিন্টু মোল্লা ক্ষিপ্ত হয়ে গালিগালাজ শুরু করে। তখন আতাউর রহমান খান জুয়েল তার বাসায় বেড়াতে আসা তার সমন্ধী চুন্নু ভূইয়াকে সাথে নিয়ে বাসার নিচে গিয়ে মিন্টু মোল্লাকে গালিগালাজের কারণ জিজ্ঞেস করেন। এক পর্যায়ে আসামী মিন্টু মোল্লা উত্তেজিত হয়ে পকেট থেকে ছুরি বেড় করে চুন্নু ভুইয়ার বুকে ও পিঠে ছুরি দ্বারা পোছ মেরে মারাত্মকভাবে জখম করে এবং মোঃ আতাউর রহমান খান জুয়েল এর হাতে আঘাত করে। আহত অবস্থায় চুন্নু ভূইয়া ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে। এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি হত্যা মামলা হয় (মামলা নং-২৩ তারিখ ৯ জুন ধারা ৩০২ প্যানেল কোড)। হত্যাকান্ডের ঘটনাটি সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে । হত্যাকান্ডের ঘটনায় র‌্যাব-১ তাৎক্ষনিকভাবে হত্যাকারীকে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করার জন্য ছায়া তদন্ত শুরু করে। টানা ৪ দিন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক মিন্টু মোল্লাকে শনির আখড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেফতার করা হয়।

ঘটনার দিন ঘাতক মিন্টু মোল্লা নিজ বাড়ী থেকে শ্বশুড় বাড়ীতে যাচ্ছিল এবং মোবাইল ফোনে তার বন্ধুর সাথে কথা বলছিল। মোঃ আতাউর রহমান খান জুয়েল এর বাড়ীর সামনে আসার পর মোবাইল ফোনে উচ্চস্বরে কথা বলার জন্য নিষেধ করলে সে (মিন্টু মোল্লা) আতাউর রহমানকে গালিগালাজ করে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হলে মিন্টু মোল্লা আরো উত্তিজিত হয়ে চুন্ন ভূইয়া ও আতারউ রহমানকে ছুরিকাঘাত করে। ঘটনার পর চুন্নু ভূইয়া মারা গেলে সে আত্মগোপন করে।