বজলুকে হাসপাতালে ভর্তি করালেন বাকৃবির সহপাঠিরা

image

ভালুকা (ময়মনসিংহ) : ১২ বছর পর বন্ধুদের সাথে শেকলমুক্ত বজলু-সংবাদ

দৈনিক সংবাদে খবর প্রকাশের পর দীর্ঘ ১২ বছর একই স্থানে নির্জিব খুঁটির মতো দেড় ফুট শিকলে বাঁধা কৃষিবিদ বজলুর রহমানের বন্দী জীবনের অবসান ঘটল সহপাঠীদের মাধ্যমে। অবশেষে লোহার শিকল হার মানল বন্ধুত্বের ভালবাসার কাছে। গত মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সকালে প্রাইভেটকার যোগে তাকে ঢাকায় নিয়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (শেরেবাংলা নগর) ভর্তি করা হয়েছে। তিনি কেবিন নং এ-৪ এ চিকিৎসাধীন সঙ্গে রয়েছেন তার ছোট ভাই হারুন মিয়া। বজলুর রহমানের ব্যাচমেট বন্ধু অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ ঢাকা ড. মো. শাহ কামাল খান জানান ‘১২ বছর শিকলবন্দী বাকৃবির ছাত্র বজলুর’ ৫ সেপ্টেম্বর দৈনিক সংবাদে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্রধরে গত শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ৮৮-৮৯ ব্যাচের ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ব বিদ্যালয়ের বি এস সি, এজি অনার্স পড়ুয়া কয়েকজন বন্ধু মিলে ভালুকায় বজলুর বাড়িতে যান তাকে দেখার জন্য। সহপাঠির করুণ পরিণতির কথা এর আগে তারা জানতেন না। ঢাকায় ফিরে রাতেই তারা একে অন্যের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেন বজলুকে ঢাকায় এনে চিকিৎসা দেয়ার।

তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে তার অনেকগুলো স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে আরও কিছু পরীক্ষা প্রক্রিয়াধীন আছে। এরই মধ্যে তার আচরণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এক্সরে, ইসিজি, ব্লাড নেয়ার সময় কোন অস্বাভাবিক আচরণ করেননি বরং তার মুখে প্রসন্নতার হাঁসি ফুটেছে। প্রায় একযুগ হাঁটু গেড়ে একই স্থানে বসে থাকার কারণে সোজা হয়ে দাঁড়াতে ও হাঁটতে না পাড়ার কারণে হাসপাতালে হুইল চেয়ার দেয়া হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার রাতে সে অনুমান ৬ ঘণ্টা একটানা ঘুমিয়েছেন। বিভিন্ন পরীক্ষা হতে জানা গেছে মানসিক সমস্যা ছাড়া তার শরীর সম্পূর্ণ ফিট রয়েছে কোন রোগ নেই। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. আব্দুল মুহিতের অধীনে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসার সর্ম্পূণ ব্যয় বহন করবেন সকল বন্ধুরা মিলে। এছারাও তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বজলুর কলেজ পড়–য়া ছোট মেয়ে সুপ্তির লেখাপড়া সহ আনুষাঙ্গিক খরচ বহন ও বিয়ে সাদীর ব্যবস্থা করবেন। বজলু কিছুটা সুস্থ হলে সুপ্তির নামে একটি ব্যাংক একাউন্ট খোলা হবে। যাতে তার লেখা পড়ার খরচ চালাতে পারে।