বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব ডিবি’তে হস্তান্তর

image

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চকবাজার থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তের দায়িত্ব ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান জানান, মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিকালে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে মামলার তদন্তভার হস্তান্তর করা হয়েছে। আবরার হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার বাবা বরকতুল্লাহ ৭ অক্টোবর সোমবার রাতে চকবাজার থানায় ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

এদিকে, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার গ্রেফতার ১০ আসামিকে পাঁচদিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। চকবাজার থানায় আবরারের বাবার করা মামলায় মঙ্গলবার গ্রেফতারদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি নিয়ে ঢাকার মহানগর হাকিম সাদবির ইয়াছির আহসান চৌধুরী পাঁচদিন রিমান্ডের আদেশ দেন। চকবাজার থানার পরিদর্শক কবির হোসেন বলেন,জিজ্ঞাবাদের জন্য ১০ দিন রিমান্ডের আবেদন করেছিলাম। পাঁচদিন মঞ্জুর হয়েছে।

যাদেরকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে তারা হলো-বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতীয় বর্ষ), সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, দ্বিতীয় বর্ষ), সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, চতুর্থ বর্ষ), উপসমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং,তৃতীয় বর্ষ), সদস্য মুনতাসির আল জেমি (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, দ্বিতীয় বর্ষ), মো. মুজাহিদুর রহমান মুজাহিদ (ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, তৃতীয় বর্ষ) এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির ও একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ইসতিয়াক আহম্মেদ মুন্না।

নিহত ফাহাদের মামাতো ভাই মো. জহিরুল ইসলাম জানান, আবরার কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালি উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামে বরকত উল্লাহর ছেলে। মায়ের নাম রোকেয়া খাতুন। তিনি আরো বলেন, আবরার কুষ্টিয়া জেলা স্কুল এসএসিতে জিপিএ ৫, এরপর ঢাকা নটর ডেম কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে। এরপর সে জামালপুর মেডিকেল কলেজে চান্স পায়। কিছুদিন ক্লাশও করে। পরে বুয়েটে চান্স পাওয়ায় সেখান থেকে চলে আসে। বর্তমানে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্যাল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর সে ছুটিতে গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়াতে যায়। রোববার বিকেলেই আবার সে হলে চলে আসে। সোমবার ভোর সোয়া ৫টার দিকে ফোনে শুনতে জানতে পারি, আবরারকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, ২০১১ নম্বর রুমে নেয়ার পরেই আবরারকে দফায় দফায় মারধর করা হয়। একপর্যায়ে লাঠি, ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প, চাপাতি দিয়ে বেধরক পিটানো হয় তাকে। পরে অচেতন হয়ে পড়লে তাকে ১ম ও ২য় তলার সিড়িতে ফেলে রাখা হয়। পরে এক শিক্ষার্থী তাকে পড়ে থাকতে দেখে বুয়েটে দায়িত্বরত চিকিৎসক মাসুদ এলাহীকে খবর দিলে তিনি মেডিকেল টেস্টের পর আবরারকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়।

বুয়েটে নির্মম নির্যাতনের ঘটনা আরো ঘটেছে : ছাত্রলীগের কর্মীর সঙ্গে গালাগালিকে কেন্দ্র করে শেরে বাংলা হলের ২০২ নম্বর রুমের ১৫’ব্যাচের ইইই বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) গত ৩ অক্টোবর রাত ১০টার দিকে নিজেদের ডেকে নিয়ে যায় ছাত্রলীগ কর্মীরা। সেখানে ছাত্রলীগের সঙ্গে তার বাকবিতন্ডা হয়। এরপর রাত আড়াইটার টার দিকে ১৫ ও ১৬ ব্যাচের ছাত্রলীগের কর্মীরা ২০২ নম্বর রুমে এসে তাকে প্রচন্ড মারধোর করে। এতে বুয়েট ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল’১৫), গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না (মেকা’১৫), উপ সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল’১৬), সহ সম্পাদক ফারহান জাওয়াদ চৌধুরী (ইইই’১৬), সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির(১৬) নেতৃত্ব প্রদান করে। তারপর ১৫’ব্যাচের ওই শিক্ষার্থী হল থেকে চলে যায়। এরপর রাত সাড়ে ৩টার টার দিকে ১৭’ব্যাচের জেমির নেতৃত্বে ওই শিক্ষার্থীর সকল জিনিস ভাংচুর করা হয়। পরবর্তীতে ছাত্রলীগের ১৭’ব্যাচের জেমির নেতৃত্বে ৫ অক্টোবর রাতে আবার এসে তার কম্পিউটার সহ বাকি জিনিসগুলো নিয়ে যাওয়া হয়।