ভাগ্নের সন্ধান চেয়ে সোহেল তাজের সংবাদ সম্মেলন

image

এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ ভাগ্নের সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমেদ সোহেল তাজ। রাজধানীর সেগুনবাগিচার ডিআরইউয়ের সাগর-রুনি মিলনায়তনে ১৭ জুন সোমবার দুপুরে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সোহেল তাজ বলেন, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। কোনভাবেই এ অবস্থা আমরা আশা করতে পারি না কোন নাগরিক গুম কিংবা অপহৃত হোক। কার কী পরিচয়, তা মুখ্য বিষয় নয়। এ ধরনের ঘটনা কারও জন্য কাম্য নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। আশা করছি, ভাগ্নেকে ফিরে পাব।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সামনে থেকে ৯ জুন সোহেল তাজের ভাগ্নে সৈয়দ ইফতেখার আলম ওরফে সৌরভ অপহৃত হন। এ ব্যাপারে ওই রাতে তার বাবা সৈয়দ মোহাম্মদ ইদ্রিস আলম পাঁচলাইশ থানায় সাধারণ ডায়রি (জিডি) করেন। এর আগে শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তার ভাগ্নেকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সোহেল তাজ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিখোঁজের মা সৈয়দা ইয়াসমিন আরজুমান ও বাবা মো. ইদ্রিস আলম। লিখিত বক্তব্যে সৈয়দা ইয়াসমিন বলেন, আমি মা হিসেবে আমার হারানো ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছি আমার ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য। তিনি বলেন, ২০১৭ সালে সৌরভের তৈরি সিনেমা ‘বেঙ্গলী বিউটি’ দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করে। ওই সময় সওদা নামে এক মেয়ের সঙ্গে পরিচয় ও যোগাযোগ শুরু হয়। পর্দানশীল পরিবারের সদস্য সওদা মোবাইল ফোনেই বিয়ে সম্পন্ন করার প্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হলে নিজের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এর মধ্যে সওদার অমতে পরিবার সওদাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়। তবে ওই বিয়ে ২০১৮ সালেই ভেঙে যায়। এরপর থেকে সওদার বাবা আজাদ চৌধুরী আমার ছেলেকে দোষারোপ করে এবং আমার ছেলেকে ও আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। এরই জেরে ২০১৯ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি সৌরভকে উত্তরা র‌্যাব সদর দফতরে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। মোবাইল ফোনের সব ডেটা ডিলেইট করে সেখানেও সওদার ব্যাপারে তথ্য জানতে চাওয়া হয়।

সৌরভের মা জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি বনানী থানায় ওসি সৌরভকে ডেকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেন। এক সপ্তাহ পর এনএসআইয়ের দুই কর্মকর্তার সঙ্গে এক রেস্টুরেন্টে বৈঠক হয়। সেখানে সৌরভের ঘটনা তদন্ত করার কথা জানানো হয়। এখানেও সওদার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়। কোন কোন দেশ ঘুরেছে সৌরভ, তা জানতে চায়। পরে তারা প্রাপ্ত তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানোর কথা বলে চলে যান। ২০১৮ সালের ১৬ মে বনানীর বন্ধুর বাসা থেকে ডিজিএফআই ও র‌্যাব পরিচয়ে একদল লোক সৌরভকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর গত ১৭ মে রাত পৌনে ১২টায় একই কায়দায় ফেরত দিয়ে যায়। এ দীর্ঘ সময় তারা জিজ্ঞাসাবাদ করে সওদা সংক্রান্ত। তিনি বলেন, র‌্যাব জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে চাকরির প্রলোভন দেখায় ও কাগজপত্র চায়। এরপর ৮ জুন দুপুর ১২টার দিকে র‌্যাব ফোন করে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রেডি করতে বলে। বিকেল ৩টার দিকে সৌরভকে চট্টগ্রাম মিমিসুপারমার্কেটের আগোরার সামনে থেকে তুলে নেয়া হয়। আর ফিরে আসেনি সে। আমরা সৌরভকে ফিরে পেতে চাই।

যার মামা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, তার ক্ষেত্রে যদি এমন ঘটনা ঘটেÑ তাহলে অন্য সাধারণ নাগরিকের ক্ষেত্রে কী হতে পারেÑ এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে সোহেল তাজ বলেন, আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। আমরা আশা করব না অন্য কোনো নাগরিকের ক্ষেত্রে এমন কিছু হোক। আজ আমার ভাগ্নে, কালকে হয়তো আপনার ভাই হতে পারে, আরেকদিন আপনার সন্তান হতে পারে। এটা আমাদের কারও কাম্য নয়। কার কী পরিচয়, সেটি মুখ্য বিষয় নয়। আমার কী পরিচয়, তাও মুখ্য বিষয় নয়। এখানে আইনের শাসনে রাষ্ট্র চলবে। ন্যায়বিচার, সুবিচারের রাষ্ট্রে এ রকমটা হওয়া বা এমন পরিণতির শিকার হওয়া কাম্য নয়।

অপহরণকারীরা কি প্রভাবশালী, তাদের পরিচয় প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে-এমন প্রশ্নে সোহেল তাজ বলেন, আমাদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, লোকাল পুলিশ যোগাযোগ করছে। রাষ্ট্রীয় সংস্থার কর্মকর্তার নম্বর থেকে কল গেছে সৌরভের ফোনে। সেটি আমরা জানতে পেরেছি। এ অবস্থায় আমাদের একটাই লক্ষ্য আমাদের ছেলেকে ফিরে পাওয়া। ৮ দিন হয়ে গেছে। সৌরভকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় আছি।