ভালুকা মহাসড়কে লাঠি বাহিনীর বেপোরোয়া চাঁদাবাজি : যানজট

image

ভালুকা (ময়মনসিংহ) : ভালুকা চৌরাস্তায় গাড়ি থামিয়ে টোলের নামে চাঁদা আদায় করছে লাঠিয়াল-সংবাদ

ঢাকা ময়মনসিংহ চারলেন মহাসড়কের ভালুকা চৌরাস্তা এলাকায় কতিপয় ব্যক্তি লাঠি উচিয়ে দূরপাল্লার গাড়ি থামিয়ে চাঁদা আদায় করার কারণে প্রায়ই যানজটসহ দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই ঢাকা ময়মনসিংহগামী মিনি ট্রাক, লড়ি, মাহেন্দ্র, ভাইরাসসহ মালবোঝাই, যাত্রীবোঝাই মাঝারি ও ছোট চলন্ত গাড়ি থামিয়ে ২০ টাকার পৌর টোলের রশিদ দিয়ে চাঁদা আদায় করাটা যেন একটি অলিখিত আইনের রূপ নিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে লাঠি হাতে স্বাধীন নামে এক ব্যক্তি চাঁদা আদায় করে আসছে সঙ্গে আরও কয়েকজনকে নিয়ে। তারা চারলেন মহাসড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে চলন্ত গাড়িগুলো থামানোর কারণে পেছনে আসা যানবাহন আপনিতেই থেমে যায় ফলে যানজটসহ দুর্ঘটনাও ঘটে থাকে। লাঠি উচিয়ে ইশারা করলে যদি না থামে তাহলে গাড়ির সঙ্গে দৌঁড়াতে থাকে তাতেও না থামলে সামনের গ্লাসে লাঠি দিয়ে আঘাত করার মতো অনেক ঘটনা তারা ঘটিয়েছেন। টাকা না দিলে চালককে হেনস্তা করতেও ছাড়েন না। একই অবস্থা ভালুকা গফরগাঁও রোডের শহীদ নাজিম উদ্দীন রোডে। ঢাকা হতে মাল নিয়ে যে কোন গাড়ি ট্রাক, কোম্পানির গাড়ি, মিনি ট্রাক, ভাইরাস, মাহেন্দ্র, বিকল্প যাত্রী বোঝাই যানবাহন, পার্শ্ববর্তী গফরগাঁও, হোসেনপুর উপজেলায় যাওয়ার উদ্দেশে এ রাস্তায় ঢুকলেই বিএডিসি অফিসের সামনে দাঁড়িয়ে দুই ধরনের টাকা প্রতিগাড়ি থেকে চাঁদা আদায়কারী। আসা যাওয়া দু’বেলাই ধার্য। টাকা দিলে ছাড় নচেৎ দাঁড়িয়ে থাকা। পেছনে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিসসহ যত গুরুত্বপূর্ণ যানবাহনই থাকুক না কেন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। সারাদিন সারারাত চলে গাড়ি থামিয়ে চাঁদা তোলার কাজ। বিশেষ করে ঈদকে সামনে রেখে তারা বেপোরোয়া ও মারমুখো হয়ে উঠে এ সময় চাঁদার পরিমাণও বেড়ে যায় ভোগান্তিতে পড়ে ঘরমুখো মানুষ। যানবাহন চালকরা এদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ। তাদের অভিযোগ ভালুকার ওপর দিয়ে সরকারি রাস্তায় গাড়ি নিয়ে গেলেও চাঁদা দিতে হয় এটা কেমন অরাজকতা। সচেতন মহল এটিকে ঘৃণ্য দৃষ্টিতে দেখছেন। মহা ব্যস্ততম সড়কে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, এমপি, মন্ত্রীগণ যে পথে চলাচল করে সেই পথের মাঝখানে পুলিশের পাশে লাঠি হাতে চলন্ত গাড়ি থামিয়ে একটা রশিদ ধরিয়ে টাকা রাখছে একটি মহল বিষিয়টি দৃষ্টিকটু। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহাসড়কের মল্লিকবাড়ী মোড়, জামিরদিয়া নাছিরগ্লাস মোড়, ভরাডোবা-উথুরা সড়কমোড় সহ বেশ কয়েকটি স্থানে যানবাহন থেকে চাঁদা আদায় করা হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ কামাল জানান মহাসড়কে গাড়ি থামিয়ে কোন টোল, চাঁদা আদায় করা যাবে না, শুধুমাত্র বাজার এলাকায় গাড়ি থেকে মালামাল লোড আনলোড করলে টোল দিতে হবে। ভালুকা পৌর মেয়র ডা. এ কে এম মেজবাহ উদ্দীন কাইয়ূম জানান মহাসড়কে পৌর টোল আদায়ের কোন বিধান নাই, যদি এমনটা হয়ে থাকে তাহলে যারা ইজারাদার আছেন তাদের ডেকে বিষয়টি সমাধান করবেন।