ভয়াবহ রূপ নেয়ার আশঙ্কা

image

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণের (কোভিড-১৯) তৃতীয় স্টেজ অর্থাৎ কমিউনিটি ট্রান্সমিশনে (গোষ্ঠীগত সংক্রমণ) প্রবেশ করছে বাংলাদেশ। গত দু’দিনে দ্বিগুণ হারে বেড়েছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এই ভাইরাস সংক্রমণের বিস্তার নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও। ৬ এপ্রিল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর আবুল কালাম আজাদ করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ‘করোনাভাইরাস আর এক স্থানে সীমাবদ্ধ নেই। এটি বেড়েই চলেছে। নতুন করে আজ ৩৫ জন শনাক্ত ও তিনজন মারা গেছেন।’ এর আগের দিন বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৮ জনকে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হিসেব শনাক্ত করা হয়েছে।’

কোন মহামারীর ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’র মানে হলো রোগটি সমাজ ও বিভিন্ন মহলের ভেতর এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যাতে এর উৎস খুঁজে পাওয়া আর সম্ভব হয় না। ফলে রোগ নিয়ন্ত্রণও করা কঠিন হয়ে পড়ে।

সোমবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আহমেদুল কবীর জানান, দেশে সামনে কঠিন সময় আসছে। এখনই পুরো দেশে লকডাউন করা জরুরি। এখনই পুরো দেশ লকডাউন না করা হলে এই ভাইরাস আগামী ১০ দিনে ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।

গত ৫ এপ্রিল একটি বিদেশি গণমাধ্যমকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার এখন কমিউনিটি ট্রান্সমিশন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার জন্য এই ভাইরাস মোকাবিলার কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।’ মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ইনিশিয়াল স্টেজ (প্রাথমিক স্তর) পার হয়ে আমরা এখন কমিউনিটি সংক্রমণের মধ্যে রয়েছি। এর ফলে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।’

অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ সোমবার জানান, সারাদেশে ১২৩ জন ব্যক্তির শরীরে করোনা শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪ জনই ঢাকা মহানগরীর। এর পরের অবস্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ। সেখানে শনাক্তের সংখ্যা ২৩ জন। আর সারাদেশে ১৫ জেলায় করোনা রোগী পাওয়া গেছে। আগের ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছিল, নতুন করে ১৮ জন করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে, যাদের ১২ জনই ঢাকার বাসিন্দা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশ জনঘনত্বের দেশ। এখানে কমিউনিটি সংক্রমণ খুবই বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে। মানুষ খুব কাছাকাছিভাবে বসবাস করে। তাছাড়া সম্প্রতি বিপুল সংখ্যক প্রবাসী নাগরিক দেশে ফিরেছেন, কিন্তু তাদের অনেকেই সরকারের নির্দেশনা অমান্য করে হোম কোয়ারেন্টিনে যাননি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে মোট নয় লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি দেশে ফিরে এসেছেন। মন্ত্রী ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেন, করোনাভাইরাস বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে বিস্তার বৃদ্ধি করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও ২৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৪ জন মারা গেছেন।

গত ৫ এপ্রিল করোনাভাইরাস নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, করোনার সামাজিক সংক্রমণ এখনও এলাকাভিত্তিক। ঢাকায় করোনার ঝুঁকিতে রয়েছে তিন এলাকা। নারায়ণগঞ্জও করোনা ঝুঁকিতে রয়েছে। ঢাকার মিরপুর, টোলারাবাগ ও বাসাবো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। করোনা সংক্রমণের ৪টি পর্যায় : স্টেজ ওয়ান- সংক্রমিত দেশগুলো থেকে এই ধরনের রোগী দেশে প্রবেশ করে। এক্ষেত্রে যারা বিদেশ ভ্রমণ করেছে কেবল তাদেরই ইতিবাচক পরীক্ষা করানো হয়।

স্টেজ টু : যখন আক্রান্ত ব্যক্তিদের থেকে স্থানীয়ভাবে সংক্রমণ হয়। উদাহরণস্বরূপ, যারা বিদেশ ভ্রমণ করেছেন তাদের আত্মীয় বা পরিচিতজনের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। স্থানীয় সংক্রমণে কম লোক আক্রান্ত হয়। কারণ ততক্ষণে ভাইরাসটির উৎস জানা যায়; ফলে এর সঙ্গে লড়া অনেকটা সহজ হয়ে যায়।

স্টেজ থ্রি : এই রোগ কোন সম্প্রদায়গতভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষ সংক্রমিত হয়। সম্প্রদায়ের সংক্রমণ তখনই হয় যখন কোন রোগী সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে না আসা সত্ত্বেও বা আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে কোন একটি দেশে সফর না করা সত্ত্বেও তার শরীরে ওই রোগের সংক্রমণ ঘটেছে। এই পর্যায়ে সংক্রমিতদের শরীরে কোথা থেকে এই ভাইরাস এসেছে তা শনাক্ত করা সম্ভব হয় না। যেমন, স্পেন ও ইতালি রয়েছে স্টেজ থ্রিতে।

স্টেজ ফোর : এটা সবচেয়ে খারাপ পর্যায়। অর্থাৎ রোগটি কোন স্পষ্ট কারণ ছাড়াই মহামারীর আকার ধারণ করে। চীনেও এই ঘটনাই ঘটেছে।

সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা : সংবাদ সম্পাদক

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দৈনিক সংবাদের সকল পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভাকাঙ্খী ও শুভানুধ্যায়ীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা । ঈদ সবার জীবনের বয়ে আনুক অনাবিল সুখ আর আনন্দ-সম্পাদক

করোনায় মারা গেলেন আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি হাজী মকবুল

image

এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের মা ও ছেলে করোনায় আক্রান্ত

দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের মা ও ছেলেরও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। শনিবার বিআইটিআইডির ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় সাইফুলের মা চেমন আরা বেগম (৮৫) এবং ছেলে ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসানুল আলমের (২৬) করোনাভাইরাস পজিটিভ আসে বলে তার ভাগ্নে আরিফ আহমেদ জানান।

চট্টগ্রামের ৭ উপজেলার অর্ধশত গ্রামে আজ ঈদ

image

করোনাকে ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই : কাদের

image

শিক্ষক পরিচয় গোপন দলীয় পরিচয়ে ত্রাণ ভাগবাটোয়ারা ও সংবাদ সম্মেলন

image

ঈদযাত্রায় প্রাইভেট গাড়ী চলাচলের অনুমতি দেওয়া সরকারের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত : যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ

image

মির্জাপুরে পুলিশ সুপারের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

image

সশস্ত্র বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক ১০২০ জন করোনায় আক্রান্ত

image