যুবকদের উদ্যোগে ৬০০ ফুট দীর্ঘ কাঠের সেতু

image

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে ও এলাকাবাসীর অর্থায়নে ৬০০ ফুট দীর্ঘ কাঠের ‘স্বপ্নের সেতু’ -সংবাদ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে জেলে কৃষকসহ স্থানীয় এলাকাবাসীর অর্থ ও যুবকদের স্বেচ্ছাশ্রমে ৬শ’ ফুট দৈর্ঘ্যরে কাঠের সেতু নির্মাণ করে নাম দেয়া হয়েছে ‘স্বপ্নের সেতু’। ৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার থেকে এলাকাবাসীর জন্য সে সেতু খুলে দেয়া হয়েছে। স্থানীয় শতাধিক যুবক কাঠ-বাঁশ দিয়ে ২৭ দিনে ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয়ে সাঁকোটি নির্মাণ করেন। উপজেলার পাটোয়ারিরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ চর ফলকন গ্রামের নামটিও সেতুর নামের সঙ্গে পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘স্বপ্নপুর’।

কাঠের সেতুটি নিমার্ণের পর দীর্ঘ সাত বছরের চরম দুর্ভোগে থাকা শতশত পরিবার পেয়েছেন সাময়িক স্বস্তি পেয়েছে। তবে তারা স্থায়ীভাবে এ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান। বৃহস্পতি বার সরেজমিন গিয়ে সে সেতুর ওপর দিয়ে গ্রামবাসীর পারাপারের দৃশ্য দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ‘স্বপ্নের সেতু’ নামের সাঁকোটি উদ্বোধন করা হয়। তবে ব্যতিক্রমী এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ কেউ ছিলেন না। যারা স্বেচ্ছাশ্রমে এটি নির্মাণ করেছেন তারাই স্থানীয়দের নিয়ে ফিতা কেটে সাঁকো উদ্বোধন করেন।

উপজেলার পাটারিরহাট ইউনিয়নের জারিরদোনা খাল ভেঙে চলাচলের রাস্তা (বেড়িবাঁধ) বিলীন হয়ে যায়। যে কারণে গত ৭ বছর ধরে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন থেকে এমন পরিস্থিতির মধ্যে কাটলেও নজরে আসেনি কারও। উপায় না পেয়ে নিজেরাই নিজদের চলাচলের জন্য সাঁকোটি নির্মাণ করেন।

পাটারিরহাট উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় সেখানে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। বাঁধের ওপর দিয়ে পাটারিরহাট-খায়েরহাটে আসা-যাওয়া। খাল পাড়ের ওই বেড়িবাঁধটি ভেঙে গেলে চরম দুর্ভোগে পড়েন এলাকাবাসী।

এদিকে, চলাচলের রাস্তা না থাকায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিক কৃষিপণ্য বাজারে তুলতে পারেন না। শিক্ষার্থী যেতে পারে না স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায়। বর্ষা এলেই গৃহবন্দী হয়ে পড়েন এলাকাবাসী।

এমন দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় স্টার ক্লাব, নিউ তারুণ্য তরঙ্গ সংসদ, কমলনগর স্টার ক্লাব, স্টুডেন্ট ছাত্র সংসদ ও জুনিয়র একতা সংঘ নামে চারটি সংগঠন সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেন। পরে তারা ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের কাছ টাকা, কাঠ ও বাঁশ সংগ্রহ করে সাঁকোটি নির্মাণ করেন।

উদ্যোক্তারা জানান, সাঁকোটি নির্মাণে তাদের ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। নিজেরা স্বেচ্ছায়শ্রম না দিলে নির্মাণ ব্যয় ৫ লাখ ছাড়িয়ে যেত।

কমলনগর স্টার ক্লাবের সহ-সভাপতি মো. মাকছুদুর রহমান বলেন, বছরের পর বছর দুর্ভোগ লাগবে আমাদের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই করা হয়নি। এলাকার যুবকেরা স্বপ্নের বাস্তবায়ন করেছে। যে কারণে এ সাঁকোর নাম দেয়া হয়েছে ‘স্বপ্নের সেতু’।

এলাকার যুবকদের ধন্যবাদ দিয়েছেন, কমলনগর স্টার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, নিউ তারুণ্য তরঙ্গ সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আলম রাজা, দিদার হোসেন, রাকিব হোসেন, শাহেদ, নিরব, সাকের ওয়ারেছ, শাকিল ও তানভির।