শতবর্ষী সর. পুকুর ভরাট করে মার্কেট প্রভাবশালীর!

image

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) : সরকারী পুকুর ভরাট করে চলছে মার্কেট নির্মাণ-সংবাদ

সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড বাজার এলাকায় মহাসড়কের পশ্চিম পাশে প্রকাশ্যে শত বছরের পুরানো পুকুর ভরাট করে চলছে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের কাজ। পরিবেশ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্থানীয় ভূমিদস্যু খ্যাত সিরাজুল ইসলাম প্রকাশ্যে এ পুকুর ভরাট কাজ অব্যাহত রাখলেও কাজ বন্ধে অনেকটা নিরব রয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

অপরদিকে এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চলছে পুকুর ভরাট কাজ। প্রশাসনের নিরবতাকে পুঁজি করে অব্যাহত পুকুর ভরাটের ফলে বিরূপ প্রভাব পড়ছে পরিবশে এবং প্রকৃতিতে। অভিযোগ রয়েছে ভূমিদস্যু চক্র যথাযথ কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করেই পুকুর ভরাট শুরু করায় কর্তৃপক্ষ দেখেও দেখছে না। এহেন কর্মকাণ্ডে জনমনে নানা প্রশ্নের উদয় হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, দিনরাত ট্রাকে ট্রাকে মাটি এনে বিরামহীন গতিতে চলছে পুকুর ভরাটের কাজ। মহাসড়কের সঙ্গে লাগোয়া সরকারি জায়গার এই পুকুরটি ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধেক ভরাট করে ফেলা হয়েছে। ভরাট করা পুকুরের জায়গায় গড়ে উঠছে বহুতল বাণিজ্যিক স্থাপনা। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাড়বকুণ্ড বাজারের পাশে সরকারি জায়গার ওপর এই পুকুরটি প্রচীনতম। এই পুকুরটির পানি বাজারের ব্যবসায়ীসহ কয়েক হাজার মানুষ ব্যবহার করে। এলাকার পরিবেশ এবং বায়ুমন্ডল রক্ষা করা, পুকুরে গোসল করা, মসজিদের মুসল্লিরা অজু করা, বাজারের আশপাশে সংগঠিত অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণে এ পুকুরটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ভূমিদস্যু সিরাজ পুকুরটি ভরাট করে বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণ করার ফলে এলাকার জনগুরুতপূর্ণ পুকুরটি বিলুপ্ত হতে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, প্রভাবশালী মহলটি প্রকাশ্যে পুকুর ভরাট করলে প্রশাসনে অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলছে না।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ মাহবুবুল হক বলেন, বিনা অনুমতিতে পুকুর বা জলাশয় ভরাটেরও কোন নিয়ম নেই। কেউ পুকুর ভরাট করতে চাইলেও ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি নিতে হবে। প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইনে তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করা আছে। সরেজমিনে পরিদর্শন করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মাহিনুল ইসলাম জানান, পুকুরটি ভরাটের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। যারা পুকুরটি ভরাট করছে তাদের পুকুরের খতিয়ানসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিতে বলা হয়েছে। কাগজপত্র পর্যালোচনার পর পুকুর ভরাট বন্ধে আইন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম পুকুর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের সত্যতা স্বীকার করে জানান, গরিব ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে সরকারী জায়গার ওপর পরিত্যক্ত পুকুরে মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করছি।