শিবালয়ে কাশাদহ প্রকল্পে ধান তলিয়ে : কৃষকের ঘুম হারাম

শিবালয়ে কাশাদহ প্রজেক্টে হঠাৎ করে অসময়ে পানি প্রবেশ করায় নিচু জমির আধাপাকা ধান তলিয়ে গেছে এবং কিছু ধান তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে এলাকার কৃষকদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।

বোয়ালী গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল হালিমের জমিতে আগাম পানি প্রবেশ করে ধান তলিয়ে যাওয়ায় অনেক ক্ষতি হয়েছে তার। কিভাবে সংসার চালাবেন এবং কি খাবেন সে চিন্তাতেই রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। হালিমের মতো একই অবস্থা এ অঞ্চলের অনেক কৃষকের।

জানা গেছে, আরিচা-কাশাদহ পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের আওতায় এ বছর প্রায় ২৩ হাজার শতাংশ জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। স্বল্প খরচে যমুনা নদী থেকে পানি উত্তোলনের মাধ্যমে সেচ দেয়া হয়ে থাকে এসব জমিতে। এতে একদিকে কৃষকদের পানি সেচে খরচ কম হচ্ছে অপরদিকে জমির উর্বরতা শক্তি ঠিক থাকছে। আর কয়েকদিন পরেই পুরোদমে শুরু হবে এ এলাকার ইরি-বোরো ধান কাটা। এখনও কিছু জমির ধান আধাপাকা এবং কাঁচা রয়েছে। এমতাবস্থায় যমুনা ও ইছামতি নদীতে হঠাৎ করে অস্বাভাবিক মাত্রায় পানি বৃদ্ধি পেয়ে ইরি-বোরো ধানের জমিতে পানি পবেশ করছে। এতে নিচু জমির আধাপাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং কিছু জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।

তবে শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের সহযোগিতায় সাময়িকভাবে মাটির বাঁধ দিয়ে ফসল রক্ষার চেষ্টা চলছে। কিন্তু নদীতে যদি অস্বাভাবিক মাত্রায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে তাহলে এ বাঁধে পানি আটকিয়ে রাখা যাবে না এবং কৃষকের অনেক কষ্টের ফসল ধান রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ পরিস্থিতে অনেক চিন্তিত রয়েছেন এ অঞ্চলের কৃষকরা এবং আগামীতে যেন এ রকম অবস্থা না হয় সেজন্য কাশাদহ ব্রিজের নিচে এবং উথলী-পাটুরিয়ার মোড়ে খালের মাঝে দু’টি সুইচগেট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

এ ব্যাপারে শিবালয় উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. রিয়াজুর রহমান বলেন, আমি কাশাদহ ইরি-বোরো প্রজেক্ট পরিদর্শন করে এসে বিষয়টি প্রশাসন এবং আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। প্রজেক্টের উদ্যোগে খালের মাঝে একটি মাটির বাঁধ দেয়া হয়েছে। তবে পানি আর বাড়ছে না। তারপরও আমরা সতর্ক আছি।