শ্রমিক সংকটে ধান কাটায় কৃষকের পাশে স্কাউট গ্রুপ

image

মময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও শ্রমিক সংকট ও ধানের দরপতনে লোকসানের মুখে পড়া হতাশ ধানচাষির পাশে দাঁড়িয়েছে নাফিওর ফুলপুর ওপেন স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা। সোমবার  ফুলপুর উপজেলার রূপসী ইউনিয়নে ঘোমগাঁও গ্রামের মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত দরিদ্র কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিকের ৮০ শতাংশ জমির ধান স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কেটে বাড়িতে এনে দেয়ার মধ্য দিয়ে ফুলপুর ওপেন স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা অসহায় কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচির শুভসূচনা করেছে। দু’দিন ধরে তাদের উদ্যোগের প্রশংসায় সিক্ত ছিল নাফিও বাহিনী। একাধিক টিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রচারমাধ্যম ব্যাপকভাবে দরিদ্র কৃষকদের স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা ধান কেটে দিয়ে সাহায্য করার খবর প্রচার করে। ফুলপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এ বছর বাম্পার ফলন হলেও ধান কাটার মৌসুমের শুরুতেই দেখা দিয়েছে চরম শ্রমিক সংকট। এক মণ ধান বিক্রির টাকা দিয়ে মিলছে না একজন শ্রমিক। শ্রমিক সংকটের কারণে সময়মতো ধান কাটতে পারছে না অনেক কৃষক। তাদেরই একজন আবু বক্কর সিদ্দিক। ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল তার পাকাধান। শ্রমিকের চড়ামূল্যে ও বাজারে ধানের দাম কম থাকায় অসুস্থ এ কৃষক মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। শুধু আবু বক্কর নন, এমন হতাশা ও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ফুলপুরের সব কৃষককে।

ফুলপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ফুলপুর উপজেলায় ২১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড়ে ৬ থেকে ৮ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যাচ্ছে। তা গত বছরের তুলনায় বেশি।

কৃষক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিকপিছু মজুরি দিতে হচ্ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা। এতে কৃষকের শুধু ধান কাটাতেই প্রতি মণের খরচ পড়ছে ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা। বর্তমানে  বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা। ফলে ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ না ওঠায় কৃষকের মনে আনন্দ নেই। কৃষকদের এ দুরবস্থা দেখে সাহায্যের হাত বাড়ায় ফুলপুর ওপেন স্কাউট গ্রুপের সদস্যরা। দলনেতা তাসফিক হক নাফিও ও উপনেতা আতিক রহমান তাদের দলের ৩০ সদস্যকে নিয়ে প্রতিদিন অসহায় কৃষকদের বিনামূল্যে ধান কেটে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রথম দিনই বাজিমাত করে দেন। ফুলপুর ওপেন স্কাউট গ্রুপের টিম লিডার নাফিও বলে, আমরা সবাই কৃষকের সন্তান। তাই কৃষকের দুর্দিনে আমরা তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই। বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩০ জনের দল ধান কাটছে বলে জানায় সে। এ ধরনের কিছু স্থানে তাদের ধান কাটা কর্মসূচি আছে বলেও জানায় তারা।

কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আমাদের ছেলেরা ধান কেটে না দিলে আমি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হতাম।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন  জানান, শ্রমিক সংকট ও বোরো ধানের দাম কম কথাটা ঠিক। তবে ধান মৌসুমের পর বিক্রি করলে দামটা ভালো পাওয়া যেতে পারে।

যেসব ছাত্র ধান কাটায় অংশ নেয়, তারা হলো ফুলপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সম্রাট ও একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র রিমন, ইকবাল ও ইমরান দুই ভাই ফুলপুর তারাও পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থী, লাদেন সিংহেশ^র উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র, মাহি চৌধুরী ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্র, মনির সিংহেশ^ উচ্চ বিধ্যালয়ের ষষ্ট শ্রেণীর ছাত্র, উম্মে হাবিবা ও জামি ফুলপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী, ফাতেমা আক্তার রুবি ফুলপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী, রাকিব, সোহেল, মতি ও লতিফ রূপসী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র। গ্রুপের সহ-লিডার আতিক রহমান বলে, এ কর্মসূচি চলবে।