সন্তানের জন্য নিখোঁজ স্বামীকে ফেরত চান তানিয়া

image

স্বামী নিখোঁজ দুই মাস। আমি সন্তানসম্ভবা, অসুস্থ। স্বামীর জন্য দুই মাস বিভিন্নজনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। স্পিকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, র‌্যাব, ডিবির কাছে গিয়েছি। সবাইকে বলেছি, আমার অনাগত সন্তান ও ৯ বছরের সন্তানের বাবাকে ফিরিয়ে দিন। ৩ জুলাই বুধবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে আপ্লুত কণ্ঠে এসব কথা বলেন তেজগাঁও থেকে নিখোঁজ আইটি বিশেষজ্ঞ আতাউর রহমান শাহীনের স্ত্রী তানিয়া আক্তার।

এর আগে ২ মে রাত ৮টা ৫ মিনিটে শাহীনকে একটি মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন। সেদিন শাহীন বাসায় না ফেরায় রাতেই তার স্ত্রী তানিয়া মোবাইলে ফোন দিলে বন্ধ পান। এরপর তিনি বিষয়টি তার স্বজন ও সহকর্মীদের জানান। তারা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেন। এমনকি হাসপাতালেও খোঁজ করেন। তবে কোথাও তার সন্ধান পাননি। এরপর ৩ মে সকালে শাহীনের স্বজনরা তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় যান। শাহীনের মামা সাইফুল ইসলাম একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর ১২৩) করেন। ঘটনার পর পুলিশ আকিজ হাউজে গিয়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। তারা মাইক্রোবাসটিকে শনাক্তের চেষ্টা করে। এরপরও খোঁজ না পেয়ে মামলা করে পরিবার।

দুই মাস পরেও স্বামীর খোঁজ না পাওয়ায় বুধবার তানিয়া সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, আমার স্বামী বেঙ্গল গ্লাস কোম্পানিতে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। এছাড়া চার বছর ধরে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (পিএমও) আইটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে খন্ডকালীন চাকরি করতেন। স্বামীকে না পেয়ে আমি স্পিকার, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ডেপুটি স্পিকারসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। কিন্তু কেউই তার নিখোঁজের বিষয়ে কোনও তথ্য দিতে পারেননি। এবিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে চিঠি দিয়েও কাজ হয়নি বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আমার স্বামীর কোনও শক্র ছিল না, অফিসে কারও সঙ্গে সমস্যা ছিল না, রাজনীতিও করতো না। যারা তাকে তুলে নিয়ে গেছে তাদের চেহারা সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গেছে, তারপরেও কেন তাদের ধরা সম্ভব হচ্ছে না? আমি নিশ্চিত সরকার ভালোভাবে তদন্ত করলে আমরা তাকে ফিরে পাবো। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে আতাউরের বাবা আব্দুল আউয়াল মন্ডল বলেন, ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর আমি র‌্যাবের কাছে যাই। প্রথমে তারা তৎপর ছিল, পরে থেমে গেছে। ডিবিও ঠিক তাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বিষয়টি দেখছি। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ডল বলেন, আমার ছেলের বিষয়ে তদন্ত বার বার থেমে যাচ্ছে, আমরা মনে করছি সরকারি কোনও সংস্থা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে। বাবাকে ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলনে আতাউরের ছেলে তাসদিদ আন নাফি বলেন, বাবা সেদিন দুপুরে আমাকে ফোন দিয়েছিল। বলেছে সন্ধ্যায় ফিরবে, আর ফেরেনি। বাবাকে খুব মিস করি। তাকে তাড়াতাড়ি আমার কাছে ফিরিয়ে দাও।