সবার উপরে মানুষ সত্য : বেদে ও তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ

image

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগ ও উত্তরণ ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে সমাজের পিছিয়ে থাকা বেদে ও তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়কে নিয়ে বর্ষবরণ উদযাপন করা হয়েছে। বাঙালি সংস্কৃতির ইতিহাস তুলে ধরে এ উৎসবে বেদে ও তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবারই প্রথম এ বর্ষবরণের আয়োজন করা হয়। উৎসবের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সবার উপরে মানুষ সত্য’। থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আহমেদুল কবিরের সভাপতিত্বে উৎসব অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাবির কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন, পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি ও উত্তরণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে উত্তরণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ডিআইজি হাবিবুর রহমান বলেন, সমাজের পিছিয়ে থাকা বেদে ও তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের মানুষকে আমরা কখনও ভালো চোখে দেখি না। আমরা মনে করি বেদে ও তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের লোকজন সমাজের বোঝা। আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা কখনও তাদের জন্য ভালো হয় না। কিন্তু বেদে ও তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের লোকজনও এ সমাজেরই মানুষ। তাদেরও আছে রাষ্ট্রীয় অধিকার এবং সুন্দরভাবে বাঁচার অধিকার। বাংলা বর্ষবরণের উৎসবে সমাজের অন্য মানুষের মতো বেদে ও তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের লোকজনেরও অংশগ্রহণ করার অধিকার আছে।

বাঙালি সংস্কৃতির একটি বড় অংশে বেদে ও তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের মানুষ যুক্ত। বেদেরা আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি লালন করে। একই সঙ্গে তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের লোকজনও এ সংস্কৃতি থেকে পিছিয়ে নেই। তাই এবার তৃতীয় লিঙ্গ ও বেদে সম্প্রদায়ের লোকজনকে এ উৎসবে সামিল করতে উত্তরণ ফাউন্ডেশন উদ্যোগ নিয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

ইতোমধ্যে বেদে ও তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়কে সমাজের অন্য মানুষের ন্যায় বিভিন্ন পেশায় পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে উত্তরণ ফাউন্ডেশন। উত্তরণ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কাজের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে বেদে ও তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের লোকজন এখন কর্মঠ জীবন শুরু করেছে। তারা আর এখন সমাজের বোঝা নয়। মনে রাখতে হবে তাদের সংস্কৃতি দিয়েও আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি সমৃদ্ধ হয়েছে। তাদের সাপ খেলা, বানর খেলা এবং বিভিন্ন ধরনের কসরত। আমাদের প্রধানমন্ত্রী হিজড়া সম্প্রদায়কে স্বীকৃতি দিয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে। তাই উত্তরণ ফাউন্ডেশন বেদে ও তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের লোকজনের পুনবার্সনে কাজ করে যাচ্ছে।