সাতক্ষীরার এসপি সাজ্জাদুর রহমান পুলিশ জনগণের সেবক হিসেবে অন্যতম উদাহরণ

image

সাতক্ষীরায় সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আলো ছড়াচ্ছেন পুলিশ সুপার (এসপি) সাজ্জাদুর রহমান। পুলিশ সুপার হিসেবে সাতক্ষীরা জেলায় যোগদানের পর থেকে পেশাগত দায়িত্বপালনের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ড করে আলোচনায় আসেন ২৪ ব্যাচের এই কর্মকর্তা। দরিদ্রদের চিকিৎসাব্যবস্থা, রক্তদান কর্মসূচি, দরিদ্র মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান ও আর্থিক সহযোগিতা, বনায়নের উদ্যোগ নেয়া, অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পুলিশকে জনসাধারণের সেবক হিসেবে পরিচিত করানোর আপ্রাণ চেষ্টা তার। এসব সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ইতিমধ্যে বেশ আলোচনায় এসেছেন তিনি। স্থানীয়দের কাছে পুলিশ সুপার সাজ্জাদ জনদরদি পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছর সাতক্ষীয়ায় পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন ২৪ ব্যাচের মেধাবী পুলিশ কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান। সাতক্ষীরায় যোগদানের পর প্রথম তিনি স্থানীয় সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন বৈঠক, সভায় অংশ নেন। সাতক্ষীরার অপরাধ কর্মকাণ্ড পর্যালোচনার পাশাপাশি জেলার কোন থানায় কোন ধরনের অপরাধ ঘটে, ওই সব অপরাধের নেপথ্যে কাদের ভূমিকা আছে; এসব নিয়ে পর্যালোচনা করেন মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে। সহিংস জেলা হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরায় চোরাচালান ও চুরি- ডাকাতি ছিল বেশ আলোচনায়। শহরে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক হানাহানিও ঘটত। স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় থাকতেন জেলাবাসী। তবে এখন সেসব অতীত। তার নিবিড় তত্ত্বাবধানে সাতক্ষীরা এখন শান্তির জেলা। আর সিসিটিভিতে পর্যবেক্ষণসহ প্রয়োজনীয় মনিটরিংয়ের ফলে চুরি-ডাকাতি প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা ভূমিহীন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ বলেন, অতীতে শহরে সাইকেল-মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন সামগ্রী চুরি লেগেই থাকত। এ ছাড়া কয়েক বছর আগে এমন কোন রাত ছিল না যে, শহরে চুরি-ডাকাতি হতো না। তবে পুলিশের তৎপরতায় সাম্প্রতিক সময়গুলোতে শহরে চুরি-ডাকাতি হয় না বললেই চলে। পেশাগত দায়িত্বপালনে সঠিক জবাবদিহিতার জন্য এবং জনসাধারণের অভিযোগ অনুযায়ী আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২০টি অভিযোগ বক্স স্থাপন করেছেন। যে কোন নাগরিক যে কোন বিষয়ে এই বক্সে অভিযোগ জানাতে পারেন। এ অভিযোগ বক্সে অভিযোগ পেয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে সদর উপজেলার আগরদাড়িতে পরিচালিত জুয়া বোর্ড বন্ধ করেছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি তিনি ১০০ টাকা পুলিশে চাকরি দিয়ে দেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। কোনরূপ হয়রানি ও ঘুষ ছাড়াই পুলিশের চাকরি পেয়েছেন তালা উপজেলার ঘোনা গ্রামের সাগরিকা ইয়াসমিন। সাগরিকা একজন দরিদ্র ভ্যানচালকের মেয়ে। ভ্যানচালক লিয়াকাত আলী জানান, আমি কল্পনাও করতে পারিনি, আমার মেয়ে চাকরি পাবে। শুনেছি পুলিশের চাকরি পেতে অনেক টাকা লাগে। অথচ মাত্র ১০০ টাকায় আমার মেয়ের চাকরি হওয়ায় আমি পুলিশ সুপার ও সরকারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সাতক্ষীরা বাইপাস সড়কের দু’পাশে প্রায় ১০ হাজারসহ সারা জেলায় ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ করে নজির স্থাপন করেছেন সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের এই কর্মকর্তা। মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের ‘৩০’ সংখ্যাটিকে সামনে রেখে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ গাছ রোপণ করেছেন তিনি। এছাড়া পুলিশ কন্ট্রোলরুমে কল করলে মিলবে প্রয়োজনমাফিক রক্ত। জেলায় বর্তমানে পুলিশের ১ হাজার ৪৯৮ জন সদস্য রয়েছেন। পুলিশ সুপারের ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগকে আর্তমানবতার সেবায় উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকেই।