সাড়ে পাঁচ মাসে ৭ লাখেরও বেশি মানুষ দেশে ফিরেছে

image

বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর কারণে বাড়ছে বেকারত্ব। তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। প্রবাসে বসবাসকারী বহু লোক প্রতিদিন দেশে ফিরতে হচ্ছে। গত সাড়ে ৫ মাসে বিদেশ ফেরতের সংখ্যা ৭ লাখ ৪১ হাজার ছাড়িয়েছে। এখনও প্রতিদিন নানাভাবে বিদেশ থেকে দেশে লোক আসছে। করোনা মহামারী প্রতিরোধে বিদেশ ফেরতদের বিমানবন্দরসহ সীমান্ত পথে স্বাস্থ্য কর্মীরা ভাইরাস প্রতিরোধে স্ক্যানিং করছেন। বিদেশ ফেরতদের মধ্যে যাদের সন্দেহ হচ্ছে, তাদের কোয়ারেন্টিনে এবং পরীক্ষার পর সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দিলে আইসোলেশনে নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশে কোয়ারেন্টিনে আছে ৬৪ হাজারেরও বেশি। আর আইসোলেশনে আছে ১৬ হাজারেরও বেশি। প্রতি ২৪ ঘণ্টায় সংখ্যা বেড়ে চলছে।

মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমাজেন্সি অপারেশন সেন্টার থেকে জানা গেছে, বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার পর সরকার করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত করতে এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বিদেশ ফেরতদের বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও সমুদ্র বন্দরসহ বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে যারা দেশে ঢুকছে তাদের স্ক্যানিং করা হচ্ছে। এ হিসেবে গত ২১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের গত ৪ জুলাই পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য মতে, দেশে মোট ৭ লাখ ৪১ হাজার ৫০৫ জন ফেরার কথা জানা গেছে। গত ২ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ৪ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে ফেরা যাত্রীর সংখ্যা ১৪০৩ জন।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম শাহআমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ২৪ ঘণ্টায় স্ক্যানিংকৃত যাত্রীর সংখ্যা ১ হাজার ৯২ (১০৯২) জন।

চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্র বন্দর দিয়েও দেশে ঢুকছে মানুষ। তার সংখ্যা ১৩৭ জন। অনান্য চালু স্থলবন্দরগুলো দিয়ে ২৪ ঘণ্টায় মানুষ যাতায়াত করছে। তাদের মধ্যে ১৭৪ জনের স্ক্যানিং করা হচ্ছে। আর ক্যান্টনমেন্ট ও বেনাপোল রেল স্টেশন ট্রেন বন্ধ থাকায় ২৪ ঘণ্টায় কারও কোন যাতায়াত ছিল না।

ইমিগ্রেশনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বহু লোক দেশে ফিরেছে। তাদের মধ্যে অনেকেরই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আবার অনেক দেশে করোনাভাইরাসের কারণে এখন বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আবার বিদেশে এখন কাজ নেই। দেশে ফিরেও তারা বেকারত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার পথে খুঁজে পাচ্ছে না। যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ সংখ্যা কয়েক লাখ হবে। অবশ্য বিদেশ ফেরতদের মধ্যে কারিগরি দক্ষতা রয়েছে তদের সমস্যা হবে না। তারা আবারও বিদেশে যেতে পারবেন। বিশ্ব যদি সমস্যা থেকে ডাউন হয় তাহলে বেকার শ্রমিকরা আবারও কাজ ফিরে পাবে। এখনও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা আটকে আছে বা বেকার আছে তাদের করোনার ছোবল কমলে তারাও হয়ত কিছু করে বাঁচার চেষ্টা করবেন। এখন সমায়িক কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে দেশে কোয়ারেন্টিনে আছে ৬৪ হাজার ১৫০ জন। গত ৩ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ৪ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত এ হিসেব জানা গেছে। ২৪ ঘণ্টায় এ সংখ্যা আরও বাড়ছে।

মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অ্যান্ড অপারেশন সেন্টার থেকে জানা গেছে, গত ৩ জুলাই সকাল ৮টা থেকে ৪ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে আইসোলেশনে আছে ১৬,৪৪৯ জন।

জানা গেছে, দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে করোনার বিস্তার বাড়ার কারণে ওই সব দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরা দেশে ফিরে আসছে। অনেকের মতে, মরতে হয় দেশের মাটিতে মরব। বাবা মায়ের মুখ দেখে মারা যাব। এ সব কারণে ইটালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে বহু বাংলাদেশি দেশে ফিরেছে। আবার করোনার কারণে অনেক বাংলাদেশি বিদেশে থাকলেও কারা লকডাউনের কবলে পড়ে বাসাবাড়িতে অবস্থান করছেন। তারা বাসা থেকে বের হতে না পারার কারণে কাজকর্ম করতে না পেরে বেকার হয়ে পড়েছে। অনেকেই করোনাভাইরাস শুরু হওয়ার পরে ওইসব দেশের নিয়ম মেনে তারা অবস্থান করছে। ফলে যারা দৈনিক মজুরিতে কাজ করে বাঁচতেন তারা এখন বেকার হয়ে পড়েছে। তারা কাজ করে যে টাকা উপার্জন করতেন। তার কিছু অংশ দেশে ফেরত পাঠাত।