সীমিত করা হয়েছে গণপরিবহন চলাচল দূরপাল্লার রুট বন্ধের ঘোষণা

image

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সারাদেশের গণপরিবহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে খুলনা ও রাজশাহী বিভাগসহ বিভিন্ন জেলার গণপরিবহন ব্যবস্থা। যে সব এলাকায় করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত করা হয়েছে সে সব জেলায় প্রসাশনের পক্ষ থেকে গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ঘোষণা দিয়ে কোন পরিবহন বন্ধ করা হয়নি। যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়া মালিকরা নিজ উদ্যোগে গাড়ি বন্ধ করে দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মসিউর রহমান রাঙ্গা।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময়ে সীমিত থাকবে গণপরিবহন চলাচল। ২৩ মার্চ সোমবার সচিবালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গণপরিবহন চলাচল সীমিত থাকবে। জনসাধারণকে যত সম্ভব গণপরিবহন পরিহারে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। যারা জরুরি প্রয়োজনে গণপরিবহন ব্যবহার করবেন তাদের অবশ্যই করোনাভাইরাস সংক্রমিত হওয়া থেকে মুক্ত থাকার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। গাড়িচালক এবং সহকারীদের অবশ্যই মাস্ক ও গ্লাভসপড়াসহ পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এদিকে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে খুলনা থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে সব দূরপাল্লার রুটে বাস চলাচল ২৫ মার্চ বুধবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। খুলনা মোটরশ্রমিক ইউনিয়ন ও বাস মালিক শ্রমিক সমিতির যৌথ সিদ্ধান্তে এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তবে খুলনার অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল করবে। এ বিষয়ে খুলনা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম বেবী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে খুলনা থেকে ঢাকা, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দূরপাল্লার সব রুটে বাস চলাচল বুধবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না নেয়া পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল করবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ সংবাদকে বলেন, রাজশাহী ও খুলনা এই দুটি বিভাগে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয়ভাবে কোন বাস বন্ধ করা হয়নি। সরকার যদি চায় তাহলে সারাদেশের গণপরিবহন বন্ধ করা হবে। তবে যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়া অনেক মালিক গাড়ি চালান না। করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সব মালিকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে যাতে তাদের স্টাফদের মাক্স, গ্লাভস ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন সতর্কতা অবলম্বন করে। এদিকে ২৪ মার্চ মঙ্গলবার মহাখালী বাস টার্মিনালে পরিবহন শ্রমিকদের করোনাভাইরাস সতর্কতায় গ্লাভস, মাক্স ও লিফলেট বিতরণ করবে সড়ক পরিবহন শ্রমিট ফেডারেশন।