সুবর্ণচরে গণধর্ষণ মামলার সাক্ষী ছেলের কান্নায় ভারাক্রান্ত আদালত

image

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দেয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গৃহবধূকে গণধর্ষণের মামলায় বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) সাক্ষী দেন ভিকটিম গৃহবধূর ছেলে আবদুল কুদ্দুছ।

সকাল ১১টায় নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) শামছু উদ্দিন খালেদের আদালতে পিপি মামুনুর রশিদ লাবলু সাক্ষীর জবানবন্দি নেন। পিপি জানান, জবানবন্দি দিতে উঠে ভিকটিমের ছেলে আবদুল কুদ্দুছ আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং ৩০ ডিসেম্বর ভয়াল কাহিনী বলতে গিয়ে তার চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছিল। সে আদালতে জানায়, রাত সাড়ে আটটার দিকে মা-বাবা, ভাই-বোনসহ ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে আসামি সালাহ উদ্দিনের ডাকে ঘুম ভাঙ্গে। তার মা ঘরের দরজা খুলে দিলে হুড় মুড়িয়ে আসামি রুহুল আমিন, হানিফ, বেচু, ভুলু, জসিম ঘরে ডুকে পড়ে। তাকে, তার বাবা, বোন, ভাইকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বেঁধে ফেলে এবং তার মাকে জোর পূর্বক ঘরের বাইরে নিয়ে যায়। এর কয়েক ঘণ্টা পর তার বাবার হাতের বাঁধন খুলে যাওয়ার পর বাবা তাদের বাঁধন খুলে দেয়। তারা ঘরের বাহিরে পাক ঘরের পিছনে বাগানের পাশে গিয়ে তার মাকে রক্তাক্ত, অজ্ঞান ও বস্ত্রহীন অবস্থায় পায়। এ বলে কুদ্দুছ কাঁদতে থাকে। কান্না থামিয়ে আদালতে বলেন, পরদিন ভোরে একটি সিএনজি টেক্সি আনে মাকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য। কিন্তু রুহুল আমিনের ধমকে সিএনজি চলে যায়। পরবর্তীতে মাইজদী থেকে অ্যাম্বুলেন্স এনে তার মাকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কুদ্দুস বলেন, আসামিরা তার মাকে ধর্ষণ করেছে, রক্তাক্ত করেছে এবং হত্যার চেষ্টা করেছে।

পিপি মামুনুর রশিদ লাবলুকে সহায়তা করেন সিনিয়র আইনজীবী মোল্লা হাবিবুর রসুল মামুন। এরপর আসামি পক্ষে জেরা করেন অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন, অ্যাডভোকেট হারুনুর রসিদ হাওলাদার।

উল্লেখ্য যে, ৩১ অক্টোবর বাদী পক্ষে দেয়া বাদীকে হুমকি দেয়া, বাদীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে মামলাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা আবেদনের প্রেক্ষিতে চরজব্বর থানাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য আদালত নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার পরবর্তী সাক্ষীর তারিখ ১৪-১১-১৯ইং বৃহস্পতিবার ধার্য করা হয়েছে।