সৈয়দপুরে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে নেশাজাতীয় ট্যাবলেট

image

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির সুযোগে সৈয়দপুরে বিভিন্ন ওষুধের দোকানে ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই টাপেন্টাসহ নেশাজাতীয় ট্যাবলেট এখন প্রকাশ্যে বেচাকেনা হচ্ছে। এতে অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ীরা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে যাচ্ছেন। আর সহজে এসব ট্যাবলেট হাতে পেয়ে মাদকসেবীরাও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। তারা নেশার ট্যাবলেটের টাকা জোগাড় করতে শহরের পাড়া-মহল্লায় ঘটাচ্ছে চুরি, ছিনতাইয়ের ঘটনা। করোনা পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির নজরদারি না থাকায় গোটা সৈয়দপুরে নেশাজতীয় ট্যাবলেট অবাধে বিক্রি চলছে। অবিলম্বে এসব নেশার ট্যাবলেট বেচাকেনা বন্ধ করতে সৈয়দপুরের সচেতন মহল পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

স্থানীয় ওষুধ ব্যবসায়ীদের সুত্র জানায়, সৈয়দপুরে শহর ও গ্রাম মিলিয়ে ১৫০টির বেশী ছোট বড় ওষুধের দোকান রয়েছে। এসব দোকানের মধ্যে ১৫/১৬ জন ব্যবসায়ী চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ওষুধ ব্যবসা। সূত্রটি জানায়, করোনা পরিস্থিতির আগে নেশাজাতীয় ট্যাবলেট টাপেন্টা, পেন্টাডলসহ বিভিন্ন সিরাপের বেচাকেনা বন্ধ থাকলেও এখন তা ওপেন সিক্রেট। করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যস্ত থাকায় এর সুযোগ নিচ্ছে এসব ব্যবসায়ীরা। অধিক লাভের আশায় এসবের বেচাকেনা এখন জমজমাট।

শহরের কয়েকজন মাদকসেবীর সাথে কথা বলে জানা যায়, হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবার দাম অনেক বেশী। তাই কম দামে ট্যাবলেট কিনে নেশা করায় এসবের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে দোকানদাররা। দোকানীরা টাপেন্টা, পেন্টাডল ট্যাবলেটের দাম প্রকার ভেদে ১৫ থেকে ২৫ টাকা হলেও বিক্রি করছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। এ ছাড়া সর্দি ও কাঁশির বিভিন্ন সিরাপের দামও এখন আকাশচুম্বি। মাদকসেবিদের দেয়া তথ্য মতে, শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের মদিনা মোড়, শেরে বাংলা সড়কের তামান্না সিনেমা মোড়, সৈয়দপুর প্লাজা সংলগ্ন মার্কেট এলাকা, তুলশীরাম সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সড়কে, সৈয়দপুর বাস টার্মিনাল এলাকা, বাঁশবাড়ি আমিন মোড়, গোলাহাট, বাঙ্গালীপুর চৌমুহনী বাজার, ঢেলাপীর বাজারের বিভিন্ন ওষুধের দোকানে বিক্রি হচ্ছে এসব নেশাজাতীয় ট্যাবলেট ও সিরাপ।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ কেমিস্টস্ এন্ড ড্রাগিষ্টস্ সমিতির সৈয়দপুর উপ-শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম মোস্তফা বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে ওষুধ ব্যবসায়ীদের সুনাম ক্ষুণœ হচ্ছে। ব্যবস্থাপত্র ছাড়া নেশাজাতীয় ওষুধ বিক্রি না করার নির্দেশনা অসাধু ব্যবসায়ী পালন করছে না। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠণিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবছে সংগঠন।

জানতে চাইলে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আবুল হাসনাত খান বলেন, করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতেও পুলিশ দোকানে নেশাজাতীয় ট্যাবলেট বেচাকেনা বন্ধসহ নেশাখোরদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন ওষুধ ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অর্থদন্ড এবং মাদকসেবীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।