সৌন্দর্যবেষ্টিত ‘অর্ঘ্য’ সড়কদ্বীপ দখলদারমুক্ত করার দাবি

image

‘অর্ঘ্য সড়কদ্বীপ দখলদারমুক্ত করার দাবিতে রাজধানীতে পরিবেশবাদী নাগরিক সমাজের সমাবেশের একাংশ-সংবাদ

সৌন্দর্যমণ্ডিত ন্যাচারাল পার্ক অর্ঘ্য সড়কদ্বীপের লিজ বাতিল করতে এবং কোন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ না দিতে দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী একাধিক সংগঠনের নেতারা। ৩ জুলাই বুধবার মিরপুর রোড-গ্রিন সংযোগস্থলে সৌন্দর্যবেষ্টিত সুদৃশ্য ‘অর্ঘ্য’ সড়কদ্বীপটি দখলদারমুক্ত করার দাবিতে আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। তারা বলেন, অতি লোভের গ্রাসে ঢাকা শহরের অধিকাংশ ফাঁকা স্থান আজ দখল হয়েছে। নিশ্বাস নেয়ার যে জায়াগাটুকু রয়েছে সেগুলো গ্রাসের চিন্তায় সেই দখলবাজদের রাতে ঘুম হয় না।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), গ্রীন ভয়েস, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, হেরিটেজ ক্রিয়েটিভ কাউন্সিল, ব্লু প্ল্যানেট ইনিশিয়েটিভ, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ-স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, প্রতিসৃষ্টি ও নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করে। বিশিষ্ট নাট্য ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে নাগরিক সমাবেশ সঞ্চালনা করেন, বাপার আজীবন সদস্য ও স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহম্মেদ কামরুজ্জামান মজুমদার। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, প্রকৃতি ও নগর সৌন্দর্যবিদ রাফেয়া আবেদীন। আরও বক্তব্য দেন, সাবেক সচিব গীতিকবি ভূঁইয়া শফিকুল ইসলাম, বাপার যুগ্ম-সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, প্রকৃতি ও নগর সৌন্দর্যবিদ রাফেয়া আবেদীন, প্রতিসৃষ্টির সভাপতি সংস্কৃতিজন শাহরিয়ার সালাম প্রমুখ। এছাড়াও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাপার নির্বাহী সদস্য ডা. মো. নুরুদ্দিন, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ইবনুল সাঈদ রানা, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট-এর প্রজেক্ট অফিসার সামিউল হাসান সজিব, গ্রীন ভয়েসের সদস্য তানজিলা আলমসহ স্থানীয় জনগণ ও পথচারীরা।

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আমরা কেউ এখানে কারো ব্যক্তিগত স্বার্থে আসিনি। আমরা এসেছি সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে ঢাকা শহরের সর্বস্তরের মানুষের পক্ষে। ঢাকা শহরকে একটি স্বস্তির শহরে পরিণত করতে হবে, এটাকে শুধু যানজটের শহরে পরিণত হতে দেয়া যাবে না। আমি মেয়রকে আমন্ত্রণ করছি তিনি যেন এই সুন্দর সবুজে ঘেরা দ্বীপটিকে কোনভাবেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে না দেন।

অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী বলেন, বিআরবি ক্যাবল উন্নয়নের শীর্ষে উঠুক, তবে পরিবেশকে ধ্বংস করে নয়। আমরা জানি, এখানে একটা পেট্রোল পাম্প ছিল যার মালিক ফজলুর রহমান, তিনি আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি। তার কাছ থেকে এ জায়গা কীভাবে নিয়েছেন তা দেশবাসী জানেন। এই ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে হলেও এটাকে রক্ষা করা আজ সরকারের দায়িত্ব। আমাদের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। তাই আমি মেয়রের কাছে আশা করি তিনি অতি দ্রুত বিআরবি ক্যাবলকে সরিয়ে দিয়ে মেয়রের দক্ষতা ও বিচক্ষণতার প্রমাণ করবেন।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার বলেন, আজ আমরা এখানে প্রকৃতি ও সবুজে বেষ্টিত সড়কদ্বীপটি ধ্বংসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে দাঁড়িয়েছি। বিআরবি ক্যাবল সরকারের ছত্রছায়ায় এটা ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে। এটা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আবদুল মতিন বলেন, কয়েক বছর আগে সিটি করপোরেশন রাফেয়া আবেদীনকে এ স্থানটি সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য দেন এবং সম্পূর্ণ নিজস্ব খরচে এতো সুন্দর একটি দৃষ্টিনন্দন দ্বীপ গড়ে তোলেন যা পথচারীসহ সবাইকে মুগ্ধ করে। কিন্তু হঠাৎ করে কী কারণে সিটি করপোরেশন বিআরবি ক্যাবলকে লিজ দিলেন তা আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। আমরা এটাকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনে আরও বৃহৎ আন্দোলনে যাব, কোনভাবেই এ দ্বীপটি ধ্বংস হতে দেয়া যাবে না।

বক্তারা সমাবেশ থেকে এই সড়কদ্বীপ বিনষ্ট বা ধ্বংস করে অন্য কোন স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা বন্ধ করতে হবে। একইসঙ্গে তারা হাসপাতাল-বাসা-বাড়ি-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-সরকারি বিজ্ঞান গবেষণাগারসংলগ্ন এবং ট্রফিক ও জনবহুল এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ সামগ্রী ও জন-নিরাপত্তায় ঝুঁকিপূর্ণ সব স্থাপনা অবিলম্বে অপসারণ করারও দাবি জানান।