স্বাস্থসেবার পরিত্যক্ত ভবনে স্বাস্থের ঝুঁকি নিয়েই চলছে সেবা!

image

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) : পূর্ব পঞ্চকরণ কমিউনিটি ক্লিনিকের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন-সংবাদ

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পূর্ব পঞ্চকরণ কমিউনিটি ক্লিনিক ২ বছর পূর্বে এ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এ ভবনেই চলছে স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম। ফলে কর্মী ও রোগীরা সব সময় আতঙ্কেও মধ্যে খাকে। জানা গেছে, পূর্ব পঞ্চকরণ গ্রামে ২০০১ সালে নতুন ভবনে কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম শুরু হয়। কয়েক বছর যেতে না যেতেই লবণাক্ততার কারণে পলেস্তরা খসে পড়ে বেরিয়ে এসেছে ইট। মূল ভবনের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে ফাটল। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় ক্লিনিকের দু’টি কক্ষ। ভবনটিতে নেই কোন দরজা জানালা, পলিথিন দিয়ে ডেকে রাখা হয়েছে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র। রোববার (৩ অক্টোবর) গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিকে কর্মরত রয়েছেন ৩ জন। সিএইচ সিপি নুসরাত জাহান, স্বাস্থ্য সহকারী আফিফা তাজরিনী ও পরিবার পরিকল্পনার সাজেদা আক্তার। এদের মধ্যে উপস্থিত রয়েছেন চিকিৎসক নুসরাত জাহান ও পরিবার পরিকল্পনার মাঠ কর্মী সাজেদা আক্তার। আফিফা তাজরিনী সপ্তাহে ২ দিন আসেন শনি ও মঙ্গলবার। বাকি দিনগুলো তার ফিল্ডে কার্যক্রম। প্রতিদিন গড়ে এখানে ৪০-৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন।

চিকিৎসক নুসরাত জাহান জানান, পঞ্চকরণ ও পুটিখালী দু’টি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এ ক্লিনিকটি এ কারণেই প্রতিনিয়ত রোগীর সংখ্যা বেশি হচ্ছে বিশেষ করে সাধারণ রোগী গর্ভবতী মায়েদের এনসি সেবা ও পিএনসি সেবা ও শিশুদের ওজন উচ্চতা পরিমাপসহ চিকিৎসা দেয়া হয়। সরকারিভাবে মায়েদের জন্য আয়রন, ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট দেয়া হয়। শিশুদের ক্ষেত্রে সর্দি, জ্বর, কাশি ও ডায়রিয়ার ওষুধ ও ভিটামিন এ ক্যাপসুল দেয়া হয়।

কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল খান, ইউপি মেম্বর ডাঃ আব্দুস ছোবাহান, মিলন শেখ, শিক্ষক আলম হাওলাদার, মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদারসহ অনেকে জানান, এ ইউনিয়নের চিকিৎসাক্ষেত্রে এ কমিউনিটি ক্লিনিকটি অনেক গুরুত্ব বহন করে। পার্শ্ববর্তী পুটিখালী ইউনিয়নের সোনাখালী গ্রাম ও পঞ্চকরণ ও খারইখালীর ৩ গ্রামের মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন অনেক দূর দূরান্ত থেকে।

এ বিষয়ে পঞ্চকরণ ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক মজুমদার জানান, এ ইউনিয়নের ৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে পূর্ব পঞ্চকরণ ক্লিনিকটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, বিষয়টি লিখিত আকারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিতসহ নতুন ভবনের জন্যও আবেদন করা হয়েছে। এ সম্পর্কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামাল হোসেন মুফতি বলেন, ক্লিনিকের ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ ক্লিনিকের কার্যক্রম চলমান রাখার জন্য পার্শ্ববর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও এ উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর নতুন করে পুনর্নির্মাণের জন্য গতবছর একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে।