হরগঙ্গা কলেজের ছাত্রাবাস মাশার আঁতুড়ঘর : ডেঙ্গু আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

image

মুন্সীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরকারি হরগঙ্গা কলেজ। কলেজে রয়েছে রোভার স্কাউট, বিএনসিসি, যুবরেডক্রিসেন্ট, সঙ্গীতচক্র, রাজনৈতিক সংগঠনসহ বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। কলেজটিতে রয়েছে স্নাতক পর্যায়ের ১৬টি বিভাগ। সকল ক্লাস মিলে এ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজটিতে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কলেজে ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য রয়েছে দুটি হল। ছেলেদের শহীদ জিয়াউর রহমান হল। সেখানে প্রায় চার শতাধিক শিক্ষার্থীর আবাস। তবে হলের আশেপাশের নোংরা পরিবশে নিয়ে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

জিয়া হল এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলেজের পূর্ব বাউন্ডারি দিয়ে একটি দরজা তৈরি করা হয়েছে। যেটি ব্যবহার করে হলে থাকা শিক্ষার্থীরা যাতাযাত করে। হলের প্রবেশ পথেই অস্থায়ী বাথরুম যা কলেজের কনস্টাকশনের কাজের শ্রমিকরা ব্যবহার করছে। জিয়া হলের পূর্ব পাশে বৃষ্টির পানি জমে জলাশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। জমে আছে ময়লার স্তুপ। ময়লার স্তুপ প্রায় জানালা স্পর্শ করছে। জন্ম নিচ্ছে এডিসের লার্ভা। জলাশয় ও ময়লার আবর্জনার স্তুপ থেকে বিভিন্ন রোধ ছড়াচ্ছে। মশক নিধন কর্মসূচির কার্যক্রমের ছোঁয়াও লাগেনি এখানে। ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ উদাসীন বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন যাবত এখানে পানি জমে থাকতে দেখা যাচ্ছে। পানি নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থাও করছে না কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ যেন মশার নিরাপদ আবাস স্থল। এ স্থান থেকে ছাত্রাবাসসহ এলাকার মধ্যেও ডেঙ্গু আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বলেও অনেকের মন্তব্য। হলের বাথ রুম থেকে ফটকের সামনে দিয়ে পয়ঃনিষ্কাশনের আবর্জনাও বেরিয়ে আসছে। ফলে দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা পেতে নাক চেপে হলে থাকা শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করছে।

জিয়া হলের ছাত্রদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানায়, দিন ও রাতের বেলায় মশার উৎপাতে পড়া লেখা করতে কষ্ট হচ্ছে। মশারি ছাড়াতো ঘুমানোই যায়না। বাথরুমের দুগন্ধও ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। কনস্টাকশনের কাজের কারণে মুল গেইট দিয়ে না ঢুকে বিকল্প গেইট দিয়ে ঢুকতে হচ্ছে ছাত্রাবাসে।

এ বিষয়ে জিয়া হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. আঃ মজিদ এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। কলেজে আমরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান চালাচ্ছি। জায়গাটি বালু দিয়ে ভরাট করার জন্য আমাদের সঙ্গে কথাও হয়েছে। পৌরসভায়ও বিষয়টি অবগত করেছি। জায়গাটি পরিষ্কার করার জন্য লোক পাওয়া যাচ্ছে। মশক নিধন কর্মসূচির কারণে পৌরসভা থেকেও লোক পাওয়া যাচ্ছে না। মশক নিধন কর্মসূচির আওতায় এনে এ স্থানটি পরিষ্কার করা যেতে পারে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।