১১ লাখ টাকার বিনিময়ে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ তবে ভুয়া!

image

সবুর আলীর বাড়ি চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে। বোনের স্বামীর সঙ্গে থাকেন রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায়। ২০১৮ সালের ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে নিয়োগের চিঠি পেয়েছেন সবুর আলী। চাকরিতে যোগদানের তারিখ ছিল গত ১৬ ফেব্রুয়ারি। আর এই চাকরি পেতে তিনি ১১ লাখ টাকা দিয়েছেন নড়াইলের শেখ জাকির হোসেনকে। টাকা দিয়ে নিয়োগপত্র হাতে পেলেও চাকরিতে যোগদান করা হয়নি তার। কারণ, তার নামে ইস্যু করা নিয়োগপত্রটি ছিল ভুয়া। যারা তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে তারা সংঘবদ্ধ প্রতারক দলের সদস্য। সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছে। শুধু সবুর আলী নয়, আরও প্রায় ১৬০ জনের সঙ্গে একই ধরনের প্রতারণা করেছে চক্রটি। একেক জনের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ১০-১২ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছে এই প্রতারক চক্রের সদস্যরা। সবুর আলী নিজের এবং তার পরিচিত আরও দুইজনের চাকরি পেতে এই প্রতারকদের হাতে তুলে দিয়েছেন ২৫ লাখ টাকা।

এভাবে প্রতারিত হয়ে কয়েকজন চাকরি প্রত্যাশী বেকার যুবক র‌্যাব-৪ এ অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের অনুসন্ধান করতে গিয়ে ১৫ এপ্রিল সোমবার রাতে প্রতারক চক্রের ১৬ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। তারা হলো, লিংকন ওরফে মাসুদ ওরফে প্রশান্ত কুমার সাহা, হাসান জিয়া, শাকির আলী শাকিল, জান্নাতুল ফেরদাউস রাসেল, সেলিম সরদার, শেখ জাকির হোসেন, আব্দুল কাদের শরীফ,হুমায়ূন কবীর, খলিলুর রহমান, ইসমাইল হোসেন, রাকিবুল ইসলাম ওরফে সম্রাট,আবুল হোসেন ওরফে সাইমুন, কেরামত হোসেন,রুবেল বিশ্বাস, কামরুজ্জামান ও সাইফুল ইসলাম। তারা সংঘবদ্ধভাবে সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা করে আসছিল। গত ৮ বছরে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা। টার্গেট ব্যক্তিকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার জন্য এই চক্রের সদস্যরা পাঁচটি গ্রুপে ভাগ হয়ে কাজ করতো।

র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির জানান, পত্রিকায় কোনও সরকারি চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর পরই প্রতারকদের তৎপরতা শুরু হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে কাজ করে তাদের প্রমোটর টিম, যাদের দায়িত্ব চাকরি প্রার্থী সংগ্রহ করা। এই গ্রুপের সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে। তাদের লক্ষ্য থাকে দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষিত বেকারদের টার্গেট করে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রলোভন দেখানো। তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ রেলওয়ে, বাংলাদেশ ব্যাংক, ভূমি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে চাকরি দেওয়ার কথা বলে প্রার্থীদের কাছ থেকে সিভি, শিক্ষাগত যোগ্যতার ফটোকপি, জন্ম সনদ, নাগরিকত্বের সনদ ও পাসপোর্ট সাইজের ছবি সংগ্রহ করে। এগুলো সংগ্রহের পর চাকরি প্রার্থীদের বলা হয় এসব কাগজ ঢাকায় পাঠানো হবে।