১১শ’ কোটি টাকার ক্ষতি মৃত্যু ১১ জন

image

ঘূর্ণিঝড়ের সময় জলোচ্ছ্বাসে ভেঙে ভেসে যায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরের বেড়িবাঁধ-সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তা-বে উপকূলীয় অঞ্চলের মোট ২৬টি জেলা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যেই এই ঝড়ে নারী ও শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। এসব জেলার হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। কোন কোন স্থানের বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে নদীর পানি প্রবেশ করেছে। এতে কাঁচা বাড়িঘর ও সাতক্ষীরাসহ কয়েকটি জেলার মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে বিদুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। সরকারি হিসেবে জানা গেছে, আম্ফানের তা-বে বিভিন্ন খাতে এক হাজার ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। তবে এবারও সুন্দরবনের কারণে আরও ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।

আম্ফানের তা-বে নারী ও শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে পটুয়াখালীতে শিশুসহ দু’জন, ভোলায় এক বৃদ্ধসহ দু’জন, পিরোজপুরে দু’জন, যশোরে মা-মেয়ে, সাতক্ষীরায় এক নারী, বরিশালে এক কিশোর ও বরগুনায় একজনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় নদীতে ডুবে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি এলাকায় ঝড়ে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে রাশেদ নামে ছয় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জনসচেতনতামূলক প্রচার কাজ চালাতে গিয়ে কলাপড়ার ধানখালীর ছৈলাবুনিয়া এলাকায় খালে নৌকাডুবে শাহ আলম নামে দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) এক সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। ভোলার মেঘনা নদীর রামদাসপুর চ্যানেলে ১২ যাত্রী নিয়ে ডুবে গেলে রফিকুল ইসলাম নামে একজনের মৃত্যু হয়। ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণে একটি গাছ ভেঙে চাপা পড়ে ছিদ্দিক ফকির (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দেয়াল ধসে শাহজাহান মোল্যা (৬০) নামে এক ব্যক্তি এবং একই উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ধুপতি গ্রামের মেজাহার আলী হাওলাদারের স্ত্রী গোলবানুসহ (৭০) দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বরগুনা সদর উপজেলার পরীরখান বাজার এলাকায় জোয়ারের পানিতে ডুবে মো. শহীদ (৬০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ঝড়ের মধ্যে আম কুড়াতে গিয়ে গাছের ডাল ভেঙে সাতক্ষীরা শহরের সঙ্গীতা মোড় এলাকায় করিমুন্নেসা নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশের ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, ঝড়ের মধ্যে আম কুড়াতে গিয়ে গাছের ডাল ভেঙে পড়ে ওই নারীর মৃত্যু হয়।

এছাড়াও আম্ফানের প্রভাবে যশোরে প্রবল ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়ে। এতে চৌগাছা উপজেলার চানপুর গ্রামে ঘরের ওপর গাছ পড়ে এক নারী ও তার মেয়ে মারা গেছেন। ২০ মে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। যশোরস্থ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি রাত সাড়ে ১০টা থেকে যশোরের পশ্চিম দিয়ে অতিক্রম শুরু করে। এর প্রভাবে সন্ধ্যা ৭টা থেকে ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়। রাত ১২টায় সর্বশেষ বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার।

আম্ফানের কারণে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলায় অসংখ্য কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে গেছে গাছপালা। নদ-নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। আম্ফানের তা-ব বুধবার রাতে থেমে গেছে। তবে বৃহস্পতিবার দুপুরেও উপকূলীয় এলাকার এমনকি বরিশাল জেলার নি¤œাঞ্চলের গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ জনপদ ২ থেকে ৩ ফুট পানির নিচে ডুবে ছিল। নদীতে জোয়ার এলে পানির উচ্চতা আরও বাড়ার আশঙ্কায় উপকূলের গ্রামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এমন জলোচ্ছ্বাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জমির ফসল ও মাছের ঘের। বরিশালের জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান ২১ মে বৃহম্পদতিবার বিকেল ৩টায় জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী জেলায় ২৪ হাজার ৪৮০টি কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। তারমধ্যে ১৬ হাজার ৩২০টি আংশিক ও ৮ হাজার ৩৬০টি সম্পূর্ণ বিধস্ত হয়। বরিশাল বিভাগের উঠতি বোরো ধানের ক্ষতিও হয়েছে ব্যাপক।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চবেক্ষক মো. আনিসুর রহমান জানান, বরিশাল নগরীতে আম্ফান আঘাত হানে বুধবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে। রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত থেমে থেমে বইতে থাকে প্রবল বেগে দমকা বাতাস। বাতাসের গতিবেগ ছিল প্রতিঘণ্টায় সর্বনি¤œ ৫০ কিলোমিটার এবং সর্বোচ্চ ৮৩ কিলোমিটার। আনিসুর রহমান বলেন, সর্বোচ্চ ৮৩ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হয় বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে। এই বেগের বাতাস কয়েক মিনিট স্থায়ী ছিল। বরিশাল বিভাগের অন্য জেলাগুলোতেও একই ধরনের খবর পাওয়া গেছে। বৃষ্টিপাত তেমন না হলেও নদ-নদীতে অস্বাভাবিক জোয়ার এবং প্রবল বাতাস হয়েছে। বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি ঢুকে গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে গেছে। উপকূলীয় জেলা বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলায় নিম্নাঞ্চলের অনেক গ্রাম বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত পানির নিচে তলিয়ে থাকার খবর জানা গেছে।

সাগর সংলগ্ন বিষখালী নদীর তীরের জেলা বরগুনা জেলায় আম্ফানের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ডুবে গেছে ওইসব এলাকার ঘরবাড়ি। পানিতে ভেসে গেছে মাছের ঘের। তলিয়ে গেছে মুগডাল, চিনা বাদাম এবং ভুট্টার ক্ষেত। বরিশাল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়সার আহমেদ বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বুধবার রাতে বরগুনায় সাড়ে ১১ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছিল। এতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৫টি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়। তবে প্লাবিত এলাকা থেকে ইতোমধ্যেই পানি নেমেও গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. মোস্তাইন বিল্লাহ তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে জানান, আম্ফানে জেলার ৯৮০০ কাঁচাঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বিষখালী-বলেশ্বর নদী তীরের ১৩ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রবিশষ্যের আংশিক ক্ষতি হয়েছে ৩০০ হেক্টর জমির। জেলা প্রশাসক জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়া মানুষ ঘরে ফিরতে শুরু করেছেন। মেঘনা-তেঁতুলিয়া বেষ্টিত দ্বীপ জেলা ভোলার চরাঞ্চলগুলো আম্ফানের প্রভাবে দুই থেকে তিন ফুট পানির নিচে ডুবে যায়। বিশেষ করে ঢালচর, কুকুরি-মুকরি এবং মনপুরা উপজেলা বিচ্ছিন্ন চরগুলোতে কয়েকশত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছিল। জেলার বিভিন্ন স্থানে বহু সংখ্যক কাঁচাঘর বিধস্ত হয়েছে। গাছপালা উপড়ে পড়েছে শত শত।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক হরগোপাল মধু জানান, আম্ফানে জেলার ৭৬৩ হেক্টর জমির রবিশষ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বোরো ধানের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবদুল বারী জানান, প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী এই জেলায় ৬ হাজার ৭৫৫টি মাছের ঘের ও পুকুর পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ৫ হাজার ৫৭৫ জন মৎস্য চাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রাথমিকভাবে পিরোজপুরে মৎস্য খাতে ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু হেনা মো. জাফর জানান, জেলায় ৩৫৭ হেক্টর জমির বোরো ধান মাঠে রয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে এ ধানের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি, কলা, পান, পেঁপে, মুগডাল, চিনাবাদাম, মরিচের ক্ষতি হয়েছে। বলেশ^র নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মঠবাড়িয়া উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মাঝেরচরে পানি ঢুকে পড়ায় সেখানকার কিছু কাঁচা ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু আলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, সুপার সাইক্লোন আম্ফানের প্রভাবে জেলার সর্বশেষ সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কাজ চলছে। সাগরপাড়ের জেলা পটুয়াখালীতে সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয়েছে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালি উপজেলায়। আগুনমুখা, রামনাবাদসহ নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো বুধবার রাতে ৪ থেকে ৫ ফুট জলোচ্ছ্বাসে ডুবে গিয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী জানান, ফসল ও মৎস্য সম্পদসহ অন্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে।

আম্ফানের আঘাতে ল-ভ- হয়ে গেছে সাতক্ষীরা। উপকূলীয় চারটি উপজেলার কমপক্ষে ২০টিরও বেশি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। পানিতে ভেসে গেছে হাজার হাজার বিঘা মৎস্য ঘের ও ফসলি জমি। বিধ্বস্ত হয়েছে সহস্রাধিক কাঁচা ঘর-বাড়ি। অসংখ্য গাছপালা উপড়ে অনেক রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সাতক্ষীরার ব্রান্ড খ্যাত আমের। এদিকে, শহরের কামাননগরে গাছ চাপা পড়ে করিমন নেছা নামের এক নারী মারা গেছে। সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মাপুকুর, গবুরা ও আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের কয়েকটি স্পটে কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চাউলখোলা এলাকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২০০ ফুটের মত এলাকা ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। এছাড়া কামালকাটি ও চন্ডিপুর এলাকায় পানি ওভার ফ্লো হয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকছে। এছাড়া গাবুরা ইউনিয়নের জেলেখানি ও নাপিতখালী এলাকায় বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করছে। এছাড়া আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের সুভদ্রকাটি, কুড়িকাউনিয়া, চাকলা, হিজলা, দিঘলাররাইট, কোলা ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকছে বলে নিশ্চিত করেছেন আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজা। সেগুলো মেরামতের চেষ্টা চলছে।

সাতক্ষীরা জেলার প্রায় সব এলাকায় কমবেশি গাছপালা ভেঙে পড়েছে। কিছু কিছু এলাকায় গাছ পড়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুতের তারের ওপর গাছ পড়ায় এবং খুটি উপড়ে পড়ায় জেলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে ইন্টারনেট পরিসেবা। অসংখ্য কাঁচা ঘরবাড়ি ও টিনের চাল উড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী জানান, ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিলোমিটার গতিবেগে বিকেল ৪টার পর থেকে সুন্দরবন উপকূলে আম্ফান আছড়ে পড়ে। এরপর সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৮ কিলোমিটার গতিবেগে পশ্চিম দিকে ঝড়ো হাওয়াটি জেলা শহরের ওপর আঘাত হানে। এদিকে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আ ন ম আবুজর গিফারী জানান, আম্ফানের কারণে নদীর পানি ৩ থেকে ৪ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে নদীর প্রবল জোয়ারে মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের দাঁতনেখালি, দুর্গাবাটি, পদ্মপুকুর ও গাবুরার বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। কয়েকটি স্থানে ওভারফ্লো হয়ে বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত করে। কাঁচা ও টিনের ঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গাছ-গাছালি উপড়ে রাস্তা-ঘাট ও বাড়ি-ঘরের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে ১৪৫টি সাইক্লোন সেল্টার ও ১ হাজার ৭০০টি স্কুল কলেজসহ আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ লাখ৭০ হাজার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। জেলায় ১২ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি ১০৩ জনের মেডিকেল টিম স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত রয়েছে। মরিচ্চাপসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি ২ থেকে ৩ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ও গাবুরা, মুন্সিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলার দয়ারঘাট, হাজরাকাটি, কুড়িকাউনিয়া, মনিপুরি ও বিছট এলাকার বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে।

আম্ফানের তা-বে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ২০ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা রাস্তা বিধস্ত হয়েছে ভেসে গেছে ৮ শতাধিক মৎস্য ঘের। ৬শ’ ফুট অবধা বেড়িবাঁধ ভেঙে পানিতে প্লাবিত হয়েছে কয়েকটি গ্রাম। কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। ২ দিন ধরে বিদুৎ বিচ্ছিন্ন গোটা উপজেলায়। বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া শুরু হলেও রাত ৯টার দিকে এ উপকূলে আঘাত হানে সুপার সাইক্লোন আম্ফান। প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী চলে এর তা-ব। অতিরিক্ত জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় উপকূল অঞ্চল ১৬টি ইউনিয়নসহ পৌর সদর। ডুবে যায় ফসলি জমি ও নিচু ঘরবাড়ি। অর্ধ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীর তীরবর্তী প্রায় ২ হাজার বসত বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত, অর্থশতাধিক বসতবাড়ি সম্পূর্ণ বিধস্ত হয়েছে।

জানা গেছে, পঞ্চকরণ ইউনিয়নের দেবরাজ, কুমারিয়া জোলার অবধা বেড়িবাঁধ ভেঙে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। অর্ধশতাধিক ছোট বড় মৎস্য ঘের পানিতে ভেসে যায় বলে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক মজুমদার জানান। বহরবুনিয়ার ফুলহাতা লঞ্চঘাট হয়ে সুর্যমূখী দেড় কিলোমিটার ইট সলিং রাস্তা, ফুলহাতা মাধ্যমিক বিদ্যালয় হয়ে বাছার বাড়ি পর্যন্ত ১ কি.মি., উত্তর ফুলহাতা চৌকিদার বাড়ি পর্যন্ত ১ কি.মি., সাড়ে ৯ কি.মি. কয়েকটি রাস্তা সম্পূর্ণ বিধস্ত হয়ে পড়েছে বলে চেয়ারম্যান তালুকদার রিপন হোসেন জানান। অপরদিকে পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বারইখালী ফেরিঘাট সংলগ্ন ১ কি.মি. পাকা রাস্তা, হোগলাপাশার শৌলখালী গ্রামে ৩ কি.মি. কাঁচা রাস্তা, চিংড়াখালী ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী চন্দিপুর ৮ কি.মি. কাঁচা রাস্তা ও ৩ কিলোমিটার ইট সলিং রাস্তা পানির স্রোতে বিধস্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পঞ্চকরণ ও বহরবুনিয়া ইউনিয়নে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাড. আমিরুল আমিরুল আলম মিলন বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান, থানার ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক মজুমদার, রিপন হোসেন তালুকদার, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাড. তাজিনুর রহমান পলাশ প্রমুখ।

কৃষিখাতে ক্ষতি হয়েছে বনগ্রাম, হোগলাপাশা, চিংড়াখালীতে ৩ শতাধিক কলা ও সব্জি ক্ষেতের চাষিরা। মৎস্য ঘেরে বহরবুনিয়া, জিউধরা, হোগলাপাশা, নিশানবাড়িয়া, বনগ্রাম, পঞ্চকরণ, সোনাখালী ও বারইখালীতে ৮ শতাধিক মৎস্য ঘের পানিতে নিমজ্জিত হয়ে মাছ ভেসে গেছে। এদিকে পৌর শহরে আবদুল আজিজ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পুটিখালী ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সোনাখালী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজ সম্পন্ন বিধস্ত হয়েছে। উপজেলার অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আংশিক ক্ষতি হয়েছে বলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবদুল হান্নান জানান। আম্ফানে উপজেলা ১৬ ইউনিয়নে ২০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে গেছে ৬শ’ কিমি. বিদ্যুৎ লাইন সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্র জানিয়েছেন। আম্ফান নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজ্জামান বলেন, এ উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা হয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে খোঁজ খবর নিয়ে ইউনিয়নগুলোর সব সেক্টরের ক্ষতির তালিকার তৈরি করা হচ্ছে।

ঈদযাত্রায় প্রাইভেট গাড়ী চলাচলের অনুমতি দেওয়া সরকারের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত : যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ

image

মির্জাপুরে পুলিশ সুপারের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

image

সশস্ত্র বাহিনীর বর্তমান ও সাবেক ১০২০ জন করোনায় আক্রান্ত

image

দেশে ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ শনাক্ত ১৮৭৩, মৃত্যু ২০ জন

image

৩৩৫১ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত

image

৫৮৩ মসজিদে প্রধানমন্ত্রীর উপহার তুলে দিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

image

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জুলিও কুরি শান্তি পুরস্কার প্রাপ্তির ৪৭তম বার্ষিকী আগামীকাল

image

ঈদেরদিন ঘরে থাকুন, আপনাদের জন্য আমরা আছি বাইরে : র‌্যাব মহাপরিচালক

image

কোভিড-১৯ এর চিকিৎসায় জেনেরিক রেমডেসিভির বাজারজাত শুরু করল বেক্সিমকো ফার্মা

image