২২ মে থেকে কমলাপুরসহ ৫ স্থান থেকে বিক্রি হবে রেলের অগ্রিম টিকিট

image

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২২ মে থেকে শুরু হচ্ছে রেলওয়ে আন্তঃনগর ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। এবার রাজধানীর কমলাপুরসহ ৫ স্থান থেকে একযোগে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে। এর মধ্যে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বিক্রি হবে যমুনা সেতু হয়ে সমগ্র পশ্চিমাঞ্চলগামী আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট, বিমানবন্দর স্টেশন থেকে দেয়া হবে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট, তেজগাঁও স্টেশন থেকে বিক্রি করা হবে ময়মনসিংহ ও জামালপুরগামী ট্রেনের টিকিট, বনানী স্টেশন থেকে বিক্রি হবে নেত্রকোনাগামী মোহনগঞ্জ ও হাওর এক্সপ্রেসের টিকিট ও রাজধানীর ফুলবাড়িয়া (পুরাতন রেলভবন) থেকে সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হবে। প্রতিদিন সকাল ৯ থেকে ৪টা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি করা হবে। একজন যাত্রী ৪টির বেশি টিকিট সংগ্রহ করতে পারবে না। এছাড়া আগামী ২৯ মে ঈদ পরবর্তী ফিরতি ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন। ১৫ মে বুধবার রেলভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান। এ সময় রলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন, অতিরিক্ত মহাপরিচালক রোলিং স্টক মো. শাসছুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তারা।

এ সময় রেলমন্ত্রী বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ে ৮ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। ট্রেনগুলো হলোÑ দেওয়ানগঞ্জ ঈদ স্পেশাল (১ জোড়া) : ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা, চাঁদপুর ঈদ স্পেশাল (২ জোড়া) : চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম, মৈত্রীর রেক দিয়ে খুলনা ঈদ স্পেশাল : খুলনা-ঢাকা-খুলনা, ঈশ্বরদী ঈদ স্পেশাল : ঢাকা-ঈশ্বরদী-ঢাকা, লালমনি ঈদ স্পেশাল : লালমনিরহাট-ঢাকা-লালমনিরহাট, শোলাকিয়া স্পেশাল-১ : ভৈরববাজার-কিশোরগঞ্জ-ভৈরববাজার, শোলাকিয়া স্পেশাল-২ : ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ- ময়মনসিংহ, পবিত্র ঈদের দিন। ৫ দিন পূর্ব থেকে ঈদের পূর্ব দিন পর্যন্ত আন্তঃনগর ট্রেনসমূহের অফ-ডে থাকবে না।

নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, প্রতিদিন প্রায় ২৭ হাজার টিকিট দেয়া হবে, যার অর্ধেক পাওয়া যাবে মোবাইল অ্যাপস থেকে আর বাকি অর্ধেক সংগ্রহ করতে হবে কাউন্টার থেকে। ২২ মে পাওয়া যাবে ৩১ মের টিকিট। এছাড়া ২৩ মে ১ জুনের, ২৪ মে ২ জুনের, ২৫ মে ৩ জুনের এবং ২৬ মে ৪ জুনের টিকিট দেয়া হবে। ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ৫ জুন ধরে এই টিকিট দেয়া হবে। টিকিট কেনার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট নিতে পারবেন। প্রত্যেক বিক্রয়কেন্দ্রে নারীদের জন্য একটি করে আলাদা কাউন্টার থাকবে। ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ঈদের সময় বন্ধ থাকবে। মোবাইল অ্যাপসে যে ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি হওয়ার কথা, তা যদি অ্যাপসের মাধ্যমে বিক্রি না হয়, তবে কাউন্টারের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। টিকিট কালোবাজারি প্রতিরোধ ও নাশকতা রোধে তারা বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছেন। স্পেশাল ট্রেনের টিকিট মোবাইল অ্যাপসে পাওয়া যাবে না। ঈদের ফিরতি টিকিট পাওয়া যাবে ২৯ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত। ২৯ মে ৭ জুনের, ৩০ মে ৮ জুনের, ৩১ মে ৯ জুনের আর ১ জুন ১০ ও ১১ জুনের টিকিট পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ২৯ মে থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস নামে নতুন একটি ট্রেন চালু হবে ঢাকা-পঞ্চগড়-ঢাকা রুটে। প্রধানমন্ত্রী ২৫ মে গণভবনে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করবেন। ১৮টি বগি নিয়ে বিরতিহীনভাবে ঢাকা থেকে সরাসরি পার্বতীপুর পর্যন্ত যাবে ট্রেনটি। এরপর দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও এ দুই জায়গায় থেমে পঞ্চগড়ে গিয়ে শেষ হবে ট্রেনটির যাত্রা। বনলতার মতো পঞ্চগড় এক্সপ্রেসে খাবার বাধ্যতামূলক করা হয়নি। ভাড়ার হার নির্ধারণ করা হয়েছে শোভন ৫৫০ টাকা, এসি চেয়ার ১ হাজার ৩৫ টাকা, এসি কেবিন ১ হাজার ২৬০ টাকা এবং এসি সিøপিং বার্থ ১ হাজার ৮৯২ টাকা। ৫৯৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে এটি বাংলাদেশের সর্ব দীর্ঘ ট্রেন সার্ভিস হতে যাচ্ছে।