আগামীকাল শুরু হবে ঢাকায় ১০ টাকা কেজি চাল বিক্রয়

image

ফাইল ছবি

আগামীকাল থেকে ঢাকার বস্তিবাসীদের জন্য ১০ টাকা কেজি মূল্যে চাল বিক্রয় করা হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে বিধিনিষেধে ঘরবন্দি শ্রমজীবী মানুষের সহায়তায় খোলা বাজারে (ওএমএস) ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

রবিবার থেকে ঢাকার মিরপুরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শিয়ালবাড়ীর রূপনগর ঝিলপাড় বস্তি এবং মহাখালীর সাততলা বস্তি এলাকায় এই বিশেষ ওএমএস কার্যক্রম পরিচালিত হবে। শনিবার খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এদিকে এছাড়া ৫ এপ্রিল বরিবারের মধ্যে ১০ টাকার চাল বিতরণের সকল বেনামি বা অবৈধ কার্ড জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। সব জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের (ডিসি-ফুড) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে খাদ্যমন্ত্রী এ কথা জানিয়েছেন বলে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়। এরপর কোনো অবৈধ কার্ড ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেখিয়ে এই চাল কেনা যাবে। একজন ভোক্তা সপ্তাহে একবার পাঁচ কেজি চাল কিনতে পারবেন। ১০ টাকা কেজিতে চাল বিক্রির কার্যক্রম ঢাকা জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সিটি কাউন্সিলর, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রণালয় বা খাদ্য অধিদপ্তরের তত্ত্ববধানে ঢাকা রেশনিং ওএমএস ডিলারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সরকারের স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ কার্যক্রমে কোনো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে না।

এদিকে শনিবার থেকে ৯৬টি কেন্দ্রে ওএমএসে ১৮ টাকা কেজি দরে আটা বিক্রি শুরু হয়েছে। সপ্তাহে ৬ দিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত আটা বিক্রি কার্যক্রম চলবে। ঢাকা মহানগরে ৭৩টি বস্তি আছে। এসব বস্তিতে ৩৯ হাজার ১৮০টি পরিবারে প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস করে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয় জানায়।

হতদরিদ্রদের ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বেনামি বা অবৈধ কার্ড জনপ্রতিনিধি-ডিলারসহ কারো কাছে থাকলে তা ৫ এপ্রিল রোববারের মধ্যে জমা দিতে হবে উল্লেখ করে চিঠিতে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সাল থেকে দরিদ্রদের জন্য ‘শেখ হাসিনার বাংলাদেশ/ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’ চালু করেছেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ৫০ লাখ পরিবারকে মাসে ৩০ কেজি করে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দেয়া হচ্ছে। খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল ডিলার মারফত কার্ডের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। বর্তমান খাদ্য সচিব প্রায় তিন মাস পূর্বে সব জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সবার নিকট তালিকাগুলো হালনাগদ করার জন্য পত্র দিয়েছিলেন। তারপরেও তালিকাসমূহ যদি সম্পূর্ণ হালনাগাদ না হয়ে থাকে তবে এক্ষুনি আপনাদের কাছে আমার নির্দেশনা- যদি কোনো ডিলার, কোনো মেম্বার বা কেউ যদি বেনামি কার্ড সংরক্ষণ করে থাকেন তবে আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট তা জমা দেবেন এবং স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নীতিমালা অনুসরণ করে রিপ্লেসমেন্ট করবেন।