করোনায় ভাটা পড়েছে বৈদেশিক বিনিয়োগে

image

করোনায় বিপর্যস্ত সারা বিশ্ব। এতে নেতিবাচক অবস্থানে রয়েছে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতির সূচকগুলো। এর গতি প্রকৃতি কখন কি হয় তা কেউ ধারনা করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ করা থেকে বিরত রয়েছে বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। গত বছর যে পরিমান বৈদেশিক বিনিয়োগ এসেছিল এবার তার চেয়ে অনেকাংশে কম বিনিয়োগ এসেছে । অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, করোনার প্রভাবে এবার বৈদেশিক বিনিয়োগ অনেক কমে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরের ১১ মাসে বিভিন্ন খাতে সবমিলিয়ে দেশে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ৩৭২ কোটি ৮০ লাখ ডলার, এর মধ্যে নিট বিদেশি বিনিয়োগ ১৯৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার যা গত অর্থবছরের চেয়ে এফডিআই কমেছে ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ ও নিট কমেছে ১৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে এফডিআই ছিল ৪৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং যার মধ্যে নিট এফডিআই পেয়েছিল ২৪২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। আলোচিত সময়ে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) যা এসেছিল তার চেয়ে বেশি তুলে নিয়ে গেছেন।

গত অর্থবছরেও দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ কম ছিল। এবার ধস নেমেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই-মে সময়ে শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ (নিট) ছিল ১৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। সদ্য সমাপ্ত ২০১৯-২০ অর্থবছরের এই ১১ মাসে বিদেশিরা যে পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে তার থেকে ৭০ লাখ ডলার বেশি তুলে নিয়ে গেছে।

এদিকে করোনায় রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাবে বৈদেশিক বাণিজ্যে বড় ঘাটতি?তে প?রে?ছে বাংলাদেশ। গেল ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি দাড়িয়েছে এক হাজার ৬০৬ কোটি ৯০ লাখ (১৬.০৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার। বহির্বিশ্বের সঙ্গে লেনদেনে বাংলাদেশের অবস্থাও ঋণাত্মক রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে ইপিজেডসহ রপ্তানি খাতে বাংলাদেশ আয় করেছে তিন হাজার ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আমদানি বাবদ ব্যয় করেছে চার হাজার ৬২৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে মে শেষে দেশে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬০৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় (বিনিময় হার ৮৫ টাকা ধরে); যা বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় এক লাখ ৩৬ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। ঘাটতির এ অংক ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময় ছিল এক হাজার ৪৯৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আলোচিত সময়ে, আমদানি কমেছে ১০ দশমিক ৮১ শতাংশ। রপ্তানি কমেছে ১৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। তবে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকলেও গত সেপ্টেম্বর থেকে তা ঋণাত্মক হয়েছে। মে শেষে লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি পড়েছে বাংলাদেশ।

অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়। সেই হিসেবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো। কিন্তু গত কয়েক বছর উদ্বৃত্তের ধারা অব্যাহত থাকলেও গেল অর্থবছরে ঋণাত্মক ধারায় চলে গেছে। এপ্রিলেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত অর্থবছরের মে শেষে চলতি হিসাবে ৪৩৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার ঋণাত্মক হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের সার্বিক রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার কারণে প্রথম ১১ মাসে সামগ্রিক লেনদেনে বাংলাদেশের উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ১৬৩ কোটি ১০ লাখ ডলারে। যা গত অর্থবছরের একই সময়ে সামগ্রিক লেনদেনে ৬৮ কোটি ডলার ঘাটতি ছিল। আলোচিত সময়ে সেবা খাতে বাণিজ্য ঘাটতি কিছুটা কম রয়েছে। বিদেশিদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, মূলত বীমা, ভ্রমণ ইত্যাদি খাতের আয়-ব্যয় হিসাব করে সেবা খাতের বাণিজ্য ঘাটতি পরিমাপ করা হয়। জুলাই-মে সময়ে এ খাতে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৭৩ কোটি ১০ লাখ ডলার যা তার আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৯৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার।

লেনদেন ৮শ’ কোটি টাকা ছাড়াল শেয়ারবাজারে

image

দাম কমের কারণে বাংলাদেশের পোশাক কিনেন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা

image

সবুজ অর্থায়নে বিনিয়োগ কমেছে ১৫ শতাংশ

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সবুজ অর্থায়ন বা গ্রিন ফিন্যান্স বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু এ খাতে হচ্ছে না

শেয়ারবাজারে লেনদেনের সময় বাড়ল

image

‘ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক হতে পারে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম’

image

ঘুরে দাঁড়িয়েছে রপ্তানি বাণিজ্য

image

২৬ হাজার কোটি টাকা বাজার মূলধন ফিরেছে শেয়ারবাজারে

জুলাই মাসে বেশ উত্থানে শেষ হয়েছে শেয়ারবাজারের লেনদেন। মাসটিতে সূচক, লেনদেন এবং বাজার মূলধন বেড়েছে। এ সময়ে দুই

প্রাইজবন্ডের ১০০তম ড্র, প্রথম পুরস্কার ০৯০৭৪৮৫

image

মাইক্রোসফটের টিকটক কেনা থমকে গেছে

image